মেইন ম্যেনু

ইসকন মন্দিরে হামলা : আটক ২

দিনাজপুরের কাহারোলে ইসকন মন্দিরে ধর্মসভা চলাকালে গুলি ও বোমা হামলার ঘটনায় দু’জনকে আটক করা হয়েছে।

এর মধ্যে শরিফুল ইসলাম (২০) নামে এক যুবককে বৃহস্পতিবার রাতেই পুলিশের হাতে তুলে দেয় স্থানীয়রা। শরিফুল ইসলাম গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ী উপজেলার শওকত আলীর ছেলে।

মন্দিরে হামলায় অংশ নেওয়া অপর যুবককে শুক্রবার বেলা ১১টায় বীরগঞ্জ উপজেলার ভোগনগর ইউনিয়নের সিংড়া শালবন এলাকা থেকে আটকের পর পুলিশে সোর্পদ করে স্থানীয়রা।

বীরগঞ্জ উপজেলার পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান গোপাল দেব শর্মা জানান, ‘শুক্রবার ভোরে স্থানীয় বাসিন্দা মো. সিরাজ উদ্দিনের বাসায় ওই অজ্ঞাত যুবক আশ্রয় নিতে আসে। এ সময় সিরাজ উদ্দিনের সন্দেহ হলে তিনি বিষয়টি প্রতিবেশীদের জানান। প্রতিবেশীদের জিজ্ঞাসাবাদের সময় যুবকটি পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় প্রতিবেশীরা তাকে আটক করতে গেলে সে গুলি চালায়। এতে সিংড়া গ্রামের হাসমত আলীর ছেলে মো. রফিক ইসলাম (৩২) গুলিবিদ্ধ হন। পরে বেলা ১১টায় ঘটনাস্থলে গিয়ে একটি অত্যাধুনিক অস্ত্রসহ যুবকটিকে আটকের পর থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। তাৎক্ষণিকভাবে যুবকটি তার নাম মোজাম্মেল হক এবং বাড়ি লালমনিরহাট বলে জানায়। তার বয়স আনুমানিক ২৫ বছর।’

আহত রফিক ইসলামকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বীরগঞ্জ সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল) সুজন সরকার জানান, ‘যুবকের কাছ থেকে গুলিসহ এসএমজি উদ্ধার করা হয়েছে। গণপিটুনিতে যুবকটি আহত হওয়ায় তার চিকিৎসা চলছে।’

এদিকে মন্দিরে হামলার প্রতিবাদে বেলা ১১টায় দিনাজপুর প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেছে ইসকন সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ। এ সময় বক্তব্য দেন ইসকন বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক চারু চন্দ্র দাস ব্রমচারী, কাহারোল ইসকন মন্দিরের অধ্যক্ষ পরেশ্বর দাশ ব্রমচারী, ঠাকুরগাঁও জেলা গড়েয়া গোপালপুর রাধা গোপীনাথ ইসকন মন্দিরের অধ্যক্ষ পুষ্প শীলা শ্যাম দাশ, দিনাজপুর সদর উপজেলার গুঞ্জাবাড়ী রাধাকৃষ্ণ ইসকন মন্দিরের অধ্যক্ষ শান্ত গৌর দাশ প্রমুখ। নেতৃবৃন্দ ঘটনার প্রতিবাদে শুক্র ও শনিবার দেশবাপী মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

প্রসঙ্গত, দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার ডাবোর ইউনিয়নের জয়নন্দ ডহচি গ্রাম ইসকন মন্দিরে বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে ধর্মসভা চলাকালে গুলি ও বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় জেলার বোচাগঞ্জ উপজেলার ইশানিয়া গ্রামের বিপতি চন্দ্র রায়ের ছেলে রঞ্জিত চন্দ্র রায় (৪৫) ও মিঠুন চন্দ্র রায় আহত হন। আহত মিঠুন চন্দ্র রায়কে রাতেই রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। রাতেই স্থানীয় সংসদ সদস্য মনোরঞ্জন শীল গোপাল, জেলা প্রশাসক খায়রুল আলম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।