মেইন ম্যেনু

ইসরাইলি চাপে কেরির সমালোচনায় ব্রিটেন!

ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরাইলি বসতিস্থাপন বন্ধে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে পাস হওয়া রেজ্যুলেশনের পক্ষে ভোট দিয়েছিল ব্রিটেন। এজন্য ইসরাইলের তোপের মুখে পড়ে দেশটি।

চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছে থেরেসা মে’র সরকার। এমনকি সমালোচনা করেছে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরিরও।

সুর নরম করে ব্রিটিশ সরকার বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, কেবল বসতিস্থাপনের ওপর গুরুত্ব দেয়ায় ইসরাইল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে শান্তি চুক্তি ভেঙে যেতে পারে না।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে’র মুখপাত্র জানান, সেখানে এ সমস্যার ক্ষেত্রে ব্রিটেন দুই রাষ্ট্র-ভিত্তিক সমাধান সমর্থন করে এবং তারা ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে বসতি স্থাপনকে অবৈধ মনে করে।

তবে তিনি বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমরা আরো স্পষ্ট করে বলতে চাই- এই সংঘাতের ক্ষেত্রে বসতিস্থাপনই একমাত্র সমস্যা নয়। বিশেষ করে ইসরাইলের জনগণ সন্ত্রাসবাদের হুমকি মুক্ত জীবনযাপন করতে চায়।’

ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে বসতিস্থাপন অব্যাহত রাখায় ইসরাইলের প্রতি জন কেরির কঠোর সতর্কবাণী উচ্চারণের একদিন পর ডাউনিং স্ট্রীট থেকে এমন মন্তব্য করা হলো। দৃশ্যতঃ এতে কেরির বিরোধিতাই করল ব্রিটেন।

কেরি তার দেয়া বক্তব্যে বলেন, ফিলিস্তিনে ইসরাইলের এমন বসতিস্থাপন দুই রাষ্ট্র-ভিত্তিক সমাধানের ভবিষ্যতের জন্য একটি বড় হুমকি।

ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে বসতিস্থাপন করে ইসরাইলিদের সেখানে স্থায়ীভাবে থেকে যাওয়ার সুযোগ করে দেয়ায় প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সরকারকে দায়ী করেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

ইসরাইলি সরকার উগ্রবাদীদের নিয়ে গঠিত কেরির এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে থেরেসা মে’র মুখপাত্র বলেন, ইসরাইলের গণতান্ত্রিক সরকারকে ‘এভাবে আক্রমণ করা সঠিক নয়’।

এদিকে ব্রিটেনের এমন প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ‘বিস্মিত’ বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র।

তিনি গার্ডিয়ানকে বলেন, যুক্তরাজ্যের দীর্ঘদিনের নীতির সঙ্গে মিল রেখেই জন কেরি বক্তব্য দিয়েছেন এবং দেশটি (যুক্তরাজ্য) জাতিসংঘে রেজ্যুলেশনের পক্ষে ভোটও দিয়েছিল।

জাতিসংঘ রেজ্যুলেশনের পক্ষে ভোট দেয়ায় ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে’র সঙ্গে পূর্বনির্ধারিত বৈঠক স্থগিত করে দেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু।

উল্লেখ্য, উপনিবেশিক ব্রিটেনের পৃষ্ঠপোষকতায় ফিলিস্তিনি ভূখ্ণ্ড দখল করে ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশ থেকে ইহুদিদের সেখানে এনে ১৯৪৮ ইসরাইল রাষ্ট্র গঠন করা হয়। এরপর থেকে অব্যাহত বসতিস্থাপনের মাধ্যমে ফিলিস্তিনকে মানচিত্র থেকে মুছে দিচ্ছে দেশটি।



« (পূর্বের সংবাদ)