মেইন ম্যেনু

ইসরায়েলে পণ্য রফতানি করছে বাংলাদেশ

বাংলাদেশের সঙ্গে ইসরায়েলের কোন ধরনের কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। সেই সুবাদে দেশটির সঙ্গে যে কোন ধরনের বাণিজ্যিকে সম্পর্কেও রয়েছে নিষেধাজ্ঞা। কিন্তু তারপরও গত কয়েকটি অর্থবছরে ইসরায়েলে পণ্য রফতানি করেছে বাংলাদেশ, যা রীতিমতো বিস্ময়কর।

বাংলাদেশ রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর বার্ষিক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে টাইমস অব ইসরায়েল গত ৩০ সেপ্টেম্বর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তানের কাছ থেকে স্বাধীনতা অর্জনের পর প্রথম দিকের যে কয়টি দেশ বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিয়েছিল, তার মধ্যে ইসরায়েল অন্যতম। ফিলিস্তিনিদের সমর্থন দেওয়ার নীতির কারণে বাংলাদেশের কোন সরকারই স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেয়নি। সম্প্রতি দুই দেশের রাজনীতিবিদরা নিজেদের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার বিষয়টি বিবেচনায় আনছেন। গত কয়েকটি অর্থবছরে বাংলাদেশ ইসরায়েলে বেশ কিছু পণ্যও রফতানি করেছে।

বাংলাদেশ রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটিতে ২ হাজার ৫৭৭ মার্কিন ডলারের পণ্য রফতানি করা হয়েছে। তবে কী ধরনের পণ্য রফতানি করা হয়েছে তা উল্লেখ করা হয়নি।

এর আগে ২০১২-১৩ অর্থবছরে ২২ হাজার ৪৩৫ ডলারের পণ্য রফতানি করা হয়েছে। ২০১১-১২ অর্থবছরে এর পরিমাণ ছিল ৮ হাজার ৩৬৪ ডলার। সবচেয়ে বেশি পণ্য রফতানি হয়েছে ২০১১ অর্থবছরে। এ বছর ৩০ হাজার ৫৪৫ ডলারের পণ্য রফতানি করা হয়েছে দেশটিতে। এর আগে ২০০৯-১০ অর্থবছরে এর পরিমাণ ছিল ১৭ হাজার ৮৬১ ডলার। এই অর্থবছরগুলোতে মূলত গার্মেন্টস পণ্যই রফতানি করেছে বাংলাদেশ। এর পাশাপাশি কিছু সিরামিক পণ্যও রফতানি করা হয়েছে।

এ ব্যপারে এক বাংলাদেশি অর্ণনীতিবিদ টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদককে জানান, ইসরায়েলে কী করে পণ্য রফতানি হচ্ছে আর কীভাবেই রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো ইসরায়েলে পণ্য রফতানি বাবদ আয় দেখাচ্ছে সে বিষয়টি তার জানা নেই। দুই দেশের মধ্যে যেহেতু কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই, সেহেতু বাংলাদেশ সরাসরি ইসরায়েলে পণ্য রফতানি করতে পারে না। তবে থার্ড পার্টি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের মাধ্যমে কিছু পণ্য রফতানি হয়ে থাকতে পারে।

এ ব্যাপারে রফতানি উন্নয়নের ব্যুরোর এক কর্মকর্তা জানান, ইসরায়েলের সঙ্গে আমাদের কোন কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই, মানে এই নয় যে, আমরা তাদের সঙ্গে কোন বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়তে পারব না। ইসরায়েলে পণ্য রফতানির দুটি পদ্ধতি রয়েছে। এর একটি হচ্ছে সরাসরি ব্যক্তি পর্যায়ে, আর অপরটি হচ্ছে নোটিফাইং পার্টির মাধ্যমে।

বিষয়টির ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, একজন বাংলাদেশি যুক্তরাজ্যে পণ্য রফতানি করছে। যুক্তরাজ্যের ওই আমদানিকারক হচ্ছে কনসাইনি। ওই কনসাইনি রফতানিকারককে পণ্যের একটি অংশ ইসরায়েলের কোন ব্যক্তি কিংবা প্রতিষ্ঠানের নামে শিপমেন্ট করার নির্দেশ দিতে পারে। আর এ ক্ষেত্রে ইসরায়েলের ওই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান হচ্ছে নোটিংফাইং পার্টি।