মেইন ম্যেনু

ইসিতে বিএনপির আর্থিক বিবরণী, আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছে দেওয়া বিএনপির গত বছরের আর্থিক বিবরণীতে দলটির আয়ের তুলনায় ৬৫ লাখ টাকারও বেশি ব্যয় দেখানো হয়েছে।

কমিশনে দেওয়া দলটির অডিট রিপোর্ট থেকে জানা গেছে, গত বছরে বিএনপির আয় হয়েছে ২ কোটি ৮৭ লাখ ৮৪ হাজার ৫৭৮ টাকা। এর বিপরীতে দলটির ব্যয় ৩ কোটি ৫৩ লাখ তিন হাজার ৫৯০ টাকা। এতে আয়ের চেয়ে ৬৫ লাখ ৫৫ হাজার ১৬ টাকা বেশি ব্যয় হয়েছে। এই ঘাটতি আগের বছরের ব্যাংকে জমাকৃত অর্থ থেকে ব্যয় করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

সোমবার বেলা ১১টায় নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে বিএনপির সহ-দফতর সম্পাদক আসাদুল করিম শাহীনের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল ইসি সচিব মো. সিরাজুল ইসলামের কাছে হিসাব জমা দেন।

হিসাব জমা দেওয়ার পর প্রতিনিধিদলের সদস্য চাটার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট এ কে এম আমিনুল হক সাংবাদিকদের বলেন, ২০১৪ সালের জানুযারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে বিএনপির আয়-ব্যয়ের হিসাব দাখিল করা হয়েছে।

আয়-ব্যয়ের উৎস সম্পর্কে তিনি জানান, অনুদান, সদস্যদের মাসিক চাঁদা, সদস্য ফরম বিক্রিকে আয়ের খাত হিসেবে দেখানো হয়েছে। আর ব্যয়ের খাত হিসেবে যাতায়াত, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ভাতা, ইফতার মাহফিল, অফিস খরচ ও বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজনকে দেখানো হয়েছে।

এ সময় বিএনপির সহ-দফতর সম্পাদক আসাদুল করিম শাহীন, স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সম্পাদক আমিনুল ইসলাম ও বিএনপির অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড অডিট কর্মকর্তা ওমর ফারুক উপস্থিত ছিলেন।

যেসব রাজনৈতিক দল তাদের গত বছরের আর্থিক বিবরণী জমা দিয়েছে তার মধ্যে জাতীয় সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টিও আয়ের তুলনায় ব্যয় বেশি দেখিয়েছে।

তবে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ তাদের দলের আয়-ব্যয়ের হিসাব এখনো ইসিতে জমা দেয়নি। ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে হিসাব জমার দেওয়ার আইনি বাধ্যবাধকতা থাকলেও আবেদনের ভিত্তিতে তাদের ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে।

গত ২৬ জুলাই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এক মাস সময় বাড়াতে ইসিতে আবেদন করে। ২৮ জুলাই আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় বাড়ানোর জন্য আবেদন করে বিএনপি। পরে তাদের আবেদনের ভিত্তিতে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সময় বাড়ায় ইসি।

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের (আরপিও) রাজনৈতিক দল নিবন্ধন বিধিমালা অনুযায়ী প্রতিবছরে ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে দলের বার্ষিক আয়-ব্যয়ের প্রতিবেদন ইসিতে দিতে হয়। পর পর তিন বছর তা দিতে ব্যর্থ হলে নিবন্ধন বাতিল করতে পারে ইসি। ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে চলতি অর্থবছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব রেজিস্টার্ড চার্টার্ড অ্যাকাউন্টিং ফার্মকে দিয়ে নিরীক্ষা করে ইসিতে জমা দেয়ার নিয়ম রয়েছে।