মেইন ম্যেনু

ইসির ঘাড়ে অভিযোগের পাহাড়

এখন পর্যন্ত সারা দেশে তৃতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু মোট ৬ ধাপে অনুষ্ঠেয় ইউপিতে তৃতীয় ধাপ পেরুনোর আগেই অভিযোগের পাহাড় এসে পড়ছে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ঘাড়ে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে ভোট জালিয়াতিসহ এ-সংক্রান্ত নানা অভিযোগ জমা পড়েছে ইসির বাক্সে। বিরোধী দল, স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সবার অভিযোগ ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীদের উপর। তাদের অভিযোগে, সমগ্র নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার লেশমাত্র নেই। আ.লীগ জোর জবরদস্তি করে ভোট লুট করছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৩ এপ্রিল অনুষ্ঠিত তৃতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে জাল ভোটের প্রমাণসহ অভিযোগ জমা দিয়েছেন বন্দরনগরীর এক চেয়ারম্যান প্রার্থী।

সোমবার (২ মে) নির্বাচন কমিশনে ব্যালট পেপারের ছবিসহ অভিযোগ দাখিল করেন চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার ১০নং সুন্দরপুর ইউনিয়নের বিএনপি মনোননীত প্রার্থী মো. শহিদুল আজম।

ইসিতে দেয়া অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, ভোটগ্রহণের দিন আনুমানিক দুপুর ১টার দিকে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর সমর্থনে কয়েকজন বহিরাগত ৮নং ওয়ার্ডের একটি কেন্দ্রে প্রবেশ করে। তারা ব্যালট পেপার নিয়ে গণহারে সিল মারতে থাকে। এক পর্যায়ে সিলমারা সব ব্যালট পেপার বাক্সে ঢুকিয়ে ফেলে। খবর পেলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও ম্যাজিস্ট্রেট কেন্দ্রে আসার সঙ্গে সঙ্গে তারা কয়েকটি ব্যালট পেপারের বই নিয়ে পালিয়ে যায়। ভোটগ্রহণের পরদিন সকালে নৌকা প্রতীকের সিলমারাকৃত কয়েকটি ব্যালট পেপার দেখে এলাকার লোকজন রিটানিং অফিসার ও পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশের আসার আগেই সেখানে ৮/৭টি মোটর সাইকেলযোগে কয়েকজন সন্ত্রাসী চলে এসে। এবং সেখান থেকে কয়েকটি ব্যালট পেপার বই ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

শহিদুল আজম তার অভিযোগপত্রের সঙ্গে ঘাসের ওপর পড়ে থাকা ব্যালট পেপারের ছবি সংযুক্ত করে দেন।

এদিকে ৪র্থ ধাপের অনুষ্ঠেয় কয়েকটি ইউপির প্রার্থীরা গতকাল নির্বাচন কমিশনে এসে অভিযোগ দাখিল করেছেন। প্রতিপক্ষ প্রার্থীর কাছ থেকে ভয়ভীতি, প্রচারণায় বাধা ও হামলার হুমকির বিষয়ে অভিযোগ দেন এসব প্রার্থী।

কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার ৯নং ইউনিয়নের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আবুল কালাম আজাদ ভূঁইয়া তার অভিযোগপত্রে বলেন, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী জাফর ইকবালের সন্ত্রাসীরা ভোটরদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি দিয়ে আসছে। যাতে ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে না যায়। দেশি-বিদেশি অস্ত্র ও হকিস্টিক নিয়ে তারা এখন থেকে কেন্দ্রের আশপাশে মহড়া দিচ্ছে। অন্যান্য প্রার্থীদেরও প্রচারণায় বাধা দিচ্ছে। তাদের বাধার মুখে জনসংযোগ করা যাচ্ছে না। এই অবস্থায় মহড়া দেয়া কেন্দ্রগুলোতে বিজিবি মোতায়েনের দাবি জানান তিনি। এছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ারও আবেদন করেন আবুল কালাম।

নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার মির্জানগর ইউনিয়ন পরিষদের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী হুমায়ুন কবির সরকার তার অভিযোগ পত্রে উল্লেখ করেন, নৌকা প্রতীকের প্রার্থী হাজী আব্দুস ছাত্তার একের পর এক আচরণবিধি লঙ্ঘন করে যাচ্ছেন। নির্বাচনী এলাকায় ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীদের দিয়ে মোটরসাইকেল মহড়া দিচ্ছেন। আতঙ্ক সৃষ্টি করছেন। রাতে বিভিন্ন মহল্লায় প্রবেশ করে আমার কর্মীদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। বলে বেড়াচ্ছেন যারা আমার পক্ষে নির্বাচন করবেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে এবং তাদের অস্তিত্ব থাকবে না।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, আমার বিরুদ্ধে পুলিশি হয়রানি চালানো হচ্ছে। এরই মধ্যে মামলা ছাড়া আমার কয়েকজন কর্মীকে পুলিশ ধরে নিয়ে গেছে। বাকীদেরও খুঁজে বেড়াচ্ছে। এসব ঘটনা তদন্তের মাধ্যমে ব্যবস্থা নিতে নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহবান জানান তিনি।

এদিকে ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইউপি নির্বাচনের শুরু থেকে নানা ধরনের অভিযোগ জমা হচ্ছে। অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। উল্লেখ্য, ৭ মে ৪র্থ ধাপে প্রায় সাত‘শ ইউপির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।