মেইন ম্যেনু

ইসির প্রতি ক্ষুব্ধ আওয়ামী লীগও

আসন্ন পৌর নির্বাচনকে ঘিরে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সরকারি দল আওয়ামী লীগকে বেশি ছাড় দিচ্ছে বলে বার বারই অভিযোগ করে আসছে বিএনপি। তাদের দাবি, সরকারের মন্ত্রী-এমপিরা নির্বাচনী বিধি লঙ্ঘন করলেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। এমনকি স্থানীয় ওই নির্বাচনে সেনা মোতায়নেরও দাবি জানিয়ে আসছে দলটি।

তবে নির্বাচন কমিশনের প্রতি ক্ষুব্ধ সয়ং আওয়ামী লীগও। তাদের দাবি, সরকারি দলের প্রতি কঠোর হয়ে বরং বিএনপিকে অনেক ক্ষেত্রেই ছাড় দিচ্ছে ইসি।

এ প্রসঙ্গে দলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব-উল আলম হানিফ বলেছেন, ‘বিএনপি জাতীয় সংসদে না থাকার কারণে ইসি তাদের প্রতি একটু বেশিমাত্রায় সহানুভূতিশীল। বিএনপির ওপর সহানুভূতিশীল হতে গিয়ে সরকারের ওপর কঠোরতা দেখাচ্ছে ইসি।’

পৌর নির্বাচনে সরকারের প্রতি ইসির কঠোর অবস্থান বুঝাতে গিয়ে দলীয় প্রার্থীদেরকে জরিমানার প্রসঙ্গ টেনে হানিফ বলেন, ‘গতকাল পঞ্চগড়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা নিজে গিয়ে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থীর সভা বন্ধ করে দেন। সাতক্ষীরায় দলীয় কর্মী, নৌকা প্রতীক লাগানো মোটরসাইকেল চালিয়ে ওষুধ কিনতে যাওয়ার কারণে রিটার্নিং কর্মকর্তা প্রতীক ছিড়ে এক হাজার টাকা জরিমানা করেন। বরগুনার বেতাগী পৌরসভার বিজয় সমাবেশে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ প্রচারের কারেণে আমাদের দলীয় প্রার্থীকে জরিমানা করা হয়েছে। খুলনায় মুক্তিযুদ্ধের প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনীর কারণে আমাদের প্রার্থীকে জরিমানা করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘এসবের মধ্য দিয়ে প্রমাণিত- ইসি সরকার দলের প্রতি কঠোর এবং বিএনপির প্রতি কিছুটা সহানুভূতিশীল। আমরা নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ করছি, বিএনপির প্রতি অতিমাত্রায় সহানুভূতিশীল হয়ে সরকারের প্রতি খড়গহস্ত হওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই।’

এসময় হানিফ বিএনপির প্রতি অভিযোগ করে বলেন, ‘সম্প্রতি সময়ে নির্বাচন কমিশন নিয়ে বিএনপি ক্রমাগত মিথ্যাচার করেছে। পৌর নির্বাচনকে বিতর্কিত করার জন্যই তাদের এ মিথ্যাচার। নির্বাচনকে বিতর্কিত করে ফলাফল বর্জন এবং জনগণের সহানুভূতি কুড়িয়ে ভবিষ্যতে আন্দেলনের স্বপ্ন দেখছে বিএনপি।’

তিনি বিএনপির প্রতি অনুরোধ করে বলেন, ‘অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর নির্বাচন পরিচালনা করার জন্য আপনারা নির্বাচন কমিশনকে সহায়তা করুন।’

বিএনপিকে হুঁশিয়ার করে আওয়ামী লীগের মুখপাত্র বলেন, ‘আপনারা ইসির বিরুদ্ধে ঢালাওভাবে অভিযোগ করে নির্বাচনের মধ্যে উত্তেজনা টেনে আনবেন না।’

আওয়ামী লীগ সুষ্ঠু নির্বাচনে বিশ্বাসী উল্লেখ করে হানিফ বলেন, ‘একটি উৎসরমুখর অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন জাতি প্রত্যাশা করে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগও অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনে বিশ্বাসী। আওয়ামী লীগ চায় পৌর নির্বাচন অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ এবং উৎসবমুখর পরিবেশে হোক। আমরা সেভাবেই সির্বাচন কমিশনকে সহায়তা করার জন্য দলীয় নেতাকর্মীদেরকে নির্দেশনা দিয়েছি। যাতে নির্বাচন অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়।’

এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আফজাল হোসেন, দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ প্রমুখ।