মেইন ম্যেনু

ইয়াবা পাচারের নতুন কৌশল শুকনো মরিচ!

সারাদেশে মাদকদ্রব্য পাচার করতে প্রশাসন থেকে যতই না কড়াকড়ি আরোপ করছে। অপরাধীরা ততোই তাদের কৌশল পাল্টাচ্ছে। তাইতো লাউ, কুমড়ার পরে এবা শুকনো মরিচে ইয়াবা পাচার করছে তারা।

টেকনাফের দমমমিয়া চেকপোস্ট। গত ৫ এপ্রিল সকালে ওই চেকপোস্টেই যাত্রীবাহী একটি বাসে তল্লাশি চালাচ্ছিলেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যরা। এক যাত্রীর বড়সড় একটি ব্যাগ দেখে সন্দেহ হয় বিজিবির। এর ভেতর কী আছে? জিজ্ঞেস করতেই ইসমাইল নামের যাত্রী বলেন, শুকনো মরিচ।

ব্যাগ খুলে পাওয়া যায় শুকনো মরিচই। খটকা লাগে ব্যাগের ওজন বেশি হওয়ায়। এরপর মরিচগুলো নেড়েচেড়ে বিস্মিত হন বিজিবি সদস্যরা। মরিচের ভেতর বীজের জায়গায় রয়েছে ইয়াবা বড়ি! সেই মরিচগুলো থেকে বের করা হয় সাড়ে সাত হাজার পিস ইয়াবা।

বিজিবি কর্মকর্তারা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরেই ফ্রিজ, ওভেন, কাঁচা পণ্য বা ফলের ট্রাক, মাথায় নকল চুলের ভাঁজে, পায়ুপথ, এমনকি লাশবাহী খাটিয়ার ভেতরও ইয়াবা চোরাচালানের তথ্য রয়েছে। এবার শুকনো মরিচের ভেতর পাওয়া গেল ইয়াবা।

বিজিবিসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অন্যান্য সংস্থার চোখ ফাঁকি দিতেই মাদক ব্যবসায়ীরা নিত্যনতুন এ পন্থা চালিয়ে আসছে। বিজিবি’র টেকনাফ অধিনায়ক লে. কর্নেল আবুজার আল জাহিদ বলেন, মরিচের ভেতর ইয়াবা ভরে পাচার করা একেবারেই অভিনব পদ্ধতি। এ জন্য প্রথমে বড় সাইজের শুকনো মরিচ বোঁটা থেকে আলাদা করে বীজগুলো ফেলে দেওয়া হয়।

এরপর প্লাস্টিকের প্যাকেটে ইয়াবা ভরে তা মরিচের ভেতরে খালি জায়গায় রাখা হয়। পরে বোঁটার জায়গায় বিশেষ ধরনের প্লাস্টিকের ঢাকনা পরিয়ে দেওয়া হয়। মরিচের মতো ইয়াবার রঙও লালচে হওয়ায় স্বাভাবিক চোখে বোঝাই যায় না এর ভেতর ইয়াবা রয়েছে।

লে. কর্নেল জাহিদ বলেন, আটক যাত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে জানায়, এভাবে আরও কয়েক দফা সে ইয়াবা পাচার করেছে। মিয়ানমার থেকে বিভিন্ন কায়দায় টেকনাফে ইয়াবা আনার পর তা নানাভাবে প্রক্রিয়াজাত করা হয়।

তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে টেকনাফের এক গ্রামে অভিযান চালিয়ে মরিচের ভেতর ইয়াবা ঢুকানোর সময় বিপুল পরিমাণ শুকনো মরিচ জব্দ করা হয়েছে। ইয়াবা ভরার পর এসব মরিচ টেকনাফ থেকে দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাঠানো হয়।