মেইন ম্যেনু

ঈদের হাওয়ায় ঢাকা ফাঁকা

১৫ মিনিটের পথ যেতে লাগবে এক ঘণ্টা, ফুটপাতজুড়ে মানুষের গাদাগাদি, বাসে চাপাচাপি, পথে পথে জট, পরিবহন সঙ্কট। রাজধানী ঢাকার জীবন মানেই এসব। ব্যতিক্রম ঘটে প্রতি বছর দুই ঈদ ঘিরে। শিক্ষা বা জীবিকার তাড়নায় ঢাকায় পড়ে থাকা মানুষগুলো এসময় ছুটে যান নাড়ির টানে গ্রামে।

এ বছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি। কুরবানির ঈদ সামনে রেখে মূলত বৃহস্পতিবার থেকেই ঢাকা ছাড়া শুরু করেছে মানুষ। ঢাকা ছাড়ার বেলায় পথে পথে ভোগান্তি থাকলেও সব বিপত্তি উপেক্ষা করেই মানুষ ছুটছে প্রিয়জনের কাছে।

আর নানা কারণে যারা এখনও ঢাকায় থেকে যাচ্ছেন উপহার হিসেবে তারা পাচ্ছেন অন্য রকম এক ঢাকা। যে ঢাকায় যানজট নেই, ফুটপাতে মানুষের ভিড় নেই, বাসে নেই চাপাচাপি, পথে নেই যানজট।

রোববার দেখা গেছে রাজধানীর প্রধান সড়কগুলো অনেকটাই ফাঁকা। তবে ব্যতিক্রম দৃশ্য ছিল রাজধানী থেকে বের হওয়ার পথ, টার্মিনাল, স্টেশনগুলো। সেখানে ঘরমুখো মানুষের ভিড় বাস বা ট্রেনের আশায়।

গত তিনদিনই কমলাপুর রেলস্টেশনে ছিল জনস্রোত। ঢাকা ছেড়ে যাওয়া ট্রেনগুলোতেও যেন ছিল না তিল ধারণের ঠাঁই, বাধ্য হয়ে অনেকে আশ্রয় নিয়েছিলেন ট্রেনের ছাদে। সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল কিছুটা শিডিউল বিপর্যয়ের ভোগান্তিও।

অন্যদিকে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল ছিল যাত্রীদের ভিড়ে ঠাসা। বিগত ক’দিন নদীপথেও লেগে ছিল ঘরমুখো মানুষের উপচেপড়া ভিড়।

তবে ভোগান্তির মাত্রা সড়কপথেই ছিল সবচেয়ে বেশি। গাবতলী, সায়েদাবাদ, মহাখালী বাস টার্মিনালে ৪-৫ ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও বাসের দেখা পাননি অনেকে, আর যারা দেখা পেয়েছেন তারা পড়েছেন তীব্র যানজটে। অন্যদিকে অগ্রিম টিকিট যারা কাটতে পারেননি তাদের গুণতে হচ্ছে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি টাকা।

ফাঁকা ঢাকা সম্পর্কে জানতে চাইলে রাজধানীর কমলাপুরের স্থায়ী বাসিন্দা ইকবাল হোসেন বলেন, রাজধানী যদি সব সময় এমন যানজটহীন ফাঁকা অবস্থায় থাকতো তাহলে কতই না ভালো হতো! ঢাকা যে খুব সুন্দর শহর এটা কেবল ঈদের সময় বোঝা যায়, যখন পুরো রাজধানীই থাকে ফাঁকা।

এছাড়া ফাঁকা ঢাকা, এ এক অন্যরকম ঢাকা- এমন অনুভূতির কথা উল্লেখ করে অনেকেই ফেসবুকে স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘আহ! এমন ফাঁকা ঢাকা যদি সব সময় থাকতো!’