মেইন ম্যেনু

ঈদে জাল টাকা : কঠোর নজরদারিতে পুলিশ

কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে বরাবরের মতো এবারও জাল টাকা জালিয়াত চক্রের দৌরাত্ম বেড়েছে। জাল টাকা চক্রের খপ্পর থেকে ব্যবসায়ীসহ ক্রেতা সাধারণকে নিরাপদ রাখতে সকল প্রকার প্রস্তুতি নিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। এছাড়া ঈদ উপলক্ষে নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিতে ডিএমপির পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে বাড়তি ব্যবস্থা।

ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মো. মাসুদুর রহমান বলেন, কোরবানির ঈদ উপলক্ষে জাল টাকা চক্রের সদস্যরা যাতে পশুর হাটগুলোতে প্রবেশ করতে না পারে সেজন্য প্রত্যেকটি হাটে আমাদের সার্বক্ষনিক মনিটরিং ব্যবস্থা থাকবে। ডিএমপির পক্ষ থেকে জাল নোট সনাক্তকরণ মেশিন থাকবে প্রত্যেকটি হাটে, যাতে করে জাল টাকা সন্দেহ হলেই খুব সহজে ব্যবসায়ীরা পরীক্ষা করে নিতে পারেন। এছাড়া পশুর হাটগুলোতে বাড়তি নিরাপত্তা বাড়াতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারি থাকবে।

মাসুদুর রহমান জানান, জালিয়াত চক্র ঈদকে ঘিরে বেশি করে জাল টাকা ছড়িয়ে দেয়। তাই সংশ্লিষ্ট স্পটগুলো জাল টাকায় সয়লাব হয়ে যাচ্ছে। এদের বিরুদ্ধে পুলিশ সবসময় তৎপর রয়েছে। পুলিশের তৎপরতার অংশ হিসেবে গত ৩১ আগষ্ট ও ১ সেপ্টেম্বর রাজধানীর লালবাগ, পল্টন মডেল থানা ও কোতয়ালী থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে জাল টাকা জালিয়াত চক্রের মূলহোতাসহ ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকালে তাদের হেফাজত হতে ১ কোটি ১৫ লাখ ৭৭ হাজার ভারতীয় রুপিসহ জাল টাকা উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের দেওয়া তথ্যানুযায়ী চক্রের সঙ্গে জড়িত বাকি সদস্যদের খুঁজে বের করতে তদন্তে রয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ। চক্রের সদস্যরা সবাই পুলিশের নজরদারিতে রয়েছে।

গত ২ সেপ্টেম্বর ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে জাল টাকা জালিয়াত চক্রের মূলহোতাসহ ১০ জনকে গ্রেফতারবিষয়ক এক ব্রিফিংয়ে পুলিশের ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম জানান, জাল টাকা চক্রের মূল হোতারা গ্রেফতার হওয়ায় চক্রের কার্যক্রম অনেকটা স্তিমিত হয়ে পড়েছে। তাদের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, অনুসন্ধান চালিয়ে বাকিদেরকেও আইনের আওতায় আনা হবে। তারা যেন ঈদকে ঘিরে পশুর হাটগুলোতে প্রবেশ করতে না পারে সেজন্য সকল প্রকার প্রস্তুতি নিয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।

তিনি জানান, চক্রের মূল হোতাদের একজন রেজাউল করিম। তার নেতৃত্বে এই চক্রটিসহ মোট ৩টি চক্র এবারের ঈদে রাজধানীতে ১০ কোটি টাকার জাল নোট ছড়িয়ে দেওয়ার টার্গেট নিয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় এরই মধ্যে ৩ কোটি টাকার জাল নোট রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে ছড়িয়েও দিয়েছে তারা।

মাসুদুর রহমান আরো জানান, ভারতীয় জাল রূপি তৈরির পেছনে বিদেশি কোনো সংস্থার হাত রয়েছে কিনা সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এছাড়া জাল নোট তৈরি চক্রের সঙ্গে ব্যাংক বা অর্থনৈতিক কোনো প্রতিষ্ঠানের যোগাযোগ রয়েছে কিনা সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

আসন্ন ঈদ উপলক্ষে ডিএমপির পক্ষ থেকে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ ছাড়াও বিভিন্ন প্রয়োজনীয় সেবা ও সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। রাজধানীর পশুর হাটগুলোতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ ছাড়াও থাকছে অস্থায়ী কন্ট্রোলরুম, ওয়াচ টাওয়ার, জাল টাকা সনাক্তকরণ মেশিন ও অতিরিক্ত অর্থ পরিবহনে বিশেষ মানি স্কোয়াড সুবিধা।

এক নজরে ডিএমপি’র পক্ষ থেকে সুবিধাসমূহ:

১। টাকা পরিবহনে মানি স্কোয়াড সুবিধা।

২। শপিং মল, বাস টার্মিনাল ও লঞ্চ ঘাটে পর্যাপ্ত পুলিশি নিরাপত্তা।

৩। ঢাকা শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থান এবং প্রবেশ ও বহির্গমনের পয়েন্টগুলোতে বিশেষ নিরাপত্তা চেকপোস্ট স্থাপন।

৪। জাল টাকা বিস্তার ও লেনদেন ঠেকাতে পশুর হাটগুলোতে সাদা পোশাকে পুলিশ মোতায়েন।

৫। সান্ধ্যকালীন ব্যাংকিংয়ের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অর্থ পরিবহনে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশের সহযোগিতায় মানি স্কোয়াড প্রদান।

৬। প্রতিটি পশুরহাটে অস্থায়ী পুলিশ কন্ট্রোলরুম স্থাপন ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ।

৭। ডিএমপি এলাকার সকল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছাড়াও কন্ট্রোল রুমের নম্বরগুলোতে ফোন করে নগরবাসী পেতে পারেন প্রয়োজনীয় সেবা-০১৭১৩-৩৯৮৩১১, ৯৫৫৭১১৮৮, ৯৫১৪৪১০০, ৯৫৫৯৯।