মেইন ম্যেনু

ঈদে বিআরটিসির আরো ৫০৬টি বাস যুক্ত হচ্ছে : সেতুমন্ত্রী

সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘এবারের ঈদে রাস্তার জন্য কোথাও সমস্যা হবে না। সারাদেশে সড়ক-মহাসড়কের অবস্থা ভাল। জয়দেবপুর- ময়মনসিংহ, ঢাকা-চট্টাগ্রাম ৪ লেন কাজ প্রায় সমাপ্তির পথে। এবার রাস্তায় যদিও তেমন সংকট নেই এরপরও ঈদ পর্যন্ত ইঞ্জিনিয়ার, কর্মকর্তা, মনিটরিং টিম সবাই আমরা রাস্তায় আছি। কোনো অবস্থাতেই জনগণের দুর্ভোগ, ভোগান্তি হতে দেওয়া যাবে না। এই পণ নিয়েই আমরা রাস্তায় বেরিয়েছি। যে কোনো মূল্যে মানুষের বাড়িতে যাওয়া এবং ফেরত আসা স্বস্তিদায়ক করতে হবে। এটাই হলো আমাদের মূল উদ্দেশ্য।’

তিনি আরো বলেন, ‘এবার ঈদে বিআরটিসির আরো ৫০৬টি বাস স্পেশাল সার্ভিসে যুক্ত করা হয়েছে। আর ৫৫টি বাস রাখা হয়েছে আপদকালীন সমস্যা সমাধানের জন্য।’

শনিবার সকালে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের টঙ্গীতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক পরিদর্শনে এসে সেতুমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ সময় সড়ক ও জনপথের ঢাকা বিভাগীয় অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. আফতাব উদ্দিন খান, গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামাল, গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম, গাজীপুর সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সবুজ উদ্দিন খানসহ সড়ক ও জনপথের বিভিন্ন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘সাম্প্রতিককালে বর্ষা-বৃষ্টিতে কিছু কিছু রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমরা সবাই রাস্তায়। আমাদের সচিব, চিফ ইঞ্জিনিয়ার থেকে শুরু করে সকল কর্মকর্তা গত শুক্রবার এবং আজ শনিবার ঘরে ছিলাম না। বৃষ্টির অজুহাত আমি শুনব না। বর্ষাকালে বৃষ্টি হবেই। কাজেই বৃষ্টি হবে জেনেই আমাদের প্রস্তুতি থাকা সবসময় সমীচীন।’

তিনি বলেন, ‘ফান্ডের কোনো সংকট এখন নেই। কাজেই টাকার জন্য কোথাও সমস্যা হবে না। আমি সংশ্লিষ্ট সবাইকে বলছি আপনারা কাজ করুন। ফান্ডিংয়ের জন্য সমস্যা হবে না। ফান্ডের বিষয়টি যেন কেউ অজুহাত হিসেবে বিভ্রান্তি সৃষ্টি না করে।’

চাঁদাবাজির ব্যাপারে কঠোর মনোভাবের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা জানেন র্যা ব ঢাকায় কিছু রাজনৈতিক লোককেও গ্রেফতার করেছে। কাজেই চাঁদাবাজকে কঠোর হস্তে দমন করতে হবে। এবং চাঁদাবাজরা যাতে জনহয়রানি করতে না পারে, সে ব্যাপারে প্রশাসন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে বলা হয়েছে। তারা সচেষ্ট এবং সর্তক থাকবেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘সিঙ্গাপুর, বেইজিং, নয়া দিল্লী, থিম্পু, হংকংসহ অনেকগুলো সিটিতে গিয়েছি। কোথাও বাংলাদেশের মতো এমন চিত্র চোখে পড়েনি। বিলবোর্ড আজকে বাংলাদেশে একটা নতুন দুর্ভোগ। আমি মনে করি এটা নতুন একটা বিরক্তি, এই বিলবোর্ড ব্যাঙ্গের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠেছে। ঢাকা, গাজীপুর, টঙ্গী, মাওয়াসহ সারা বাংলাদেশে যে দিকে যাই বিলবোর্ড আর বিলবোর্ড। চট্টগ্রাম শহরে কিছুটা কমেছে। কিন্ত ঢাকায় এখনো সেভাবে কমার বিষয়টি দৃশ্যমান নয়।’

তিনি বলেন, ‘অপ্রয়োজনীয়-অবৈধ বিলবোর্ডে নেতার ছবি, নেতার সঙ্গে পাতি নেতা, উপনেতা, সিকি নেতার সবার ছবি আছে। এর সঙ্গে অনেক চাঁদাবাজকেও দেখি। নেতাকে খুশি করার জন্য চাঁদাবাজরাও বিলবোর্ডে নিজেদের ছবি দেয়। নিজেদের ছবি দেওয়ার জন্যই এসব বিলবোর্ড তারা বিভিন্ন জায়গায় স্থাপন করে। বিলবোর্ডের বিরুদ্ধে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আগস্ট পর্যন্ত দেখব। সবাইকে অনুরোধ করব যাদের বিলবোর্ড আছে সরিয়ে ফেলুন। সেপ্টেম্বর থেকে বিলবোর্ডের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালিত হবে। জনস্বার্থে এসব বিলবোর্ড স্থাপন দেশের জন্য ক্ষতিকর। আমাদের সৌন্দর্যহানি হচ্ছে। আমাদের অর্জনের সঙ্গে এ বিলবোর্ডগুলো মেলে না। আজকে বাংলাদেশের যে অর্জন বিলবোর্ডগুলো তা ঢেকে ফেলছে। এখানে মনে হয় নেতা উৎপাদনের বিশাল কারখানা। এবং বিলবোর্ডের মাধ্যমে কারখানার উৎপাদন শোভা পাচ্ছে।’