মেইন ম্যেনু

ঈদে বিশেষ ইত্যাদি

প্রতি বছরের মতো এবারও ঈদ আনন্দের সঙ্গে দর্শকদের জন্য বাড়তি আনন্দ নিয়ে আসছে হানিফ সংকেতের ‘ইত্যাদি’।

বিশাল আয়োজনে বর্ণাঢ্য এ অনুষ্ঠান ধারণ করা হয়েছে মিরপুর শহীদ সোহরাওয়ার্দী ইনডোর স্টেডিয়ামে। বরাবরের মতো এবারও ‘ইত্যাদি’ শুরু করা হয়েছে ‘ও মন রমজানের ওই রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ’ গানটি দিয়ে। ঈদের ইত্যাদিতে এবার একই সঙ্গে গান এবং নাচের আয়োজনে আছে প্রজন্ম যমকের চমক।

সংগীত তারকা সাবিনা ইয়াসমিন ও তার কন্যা বাঁধন এবং নৃত্য তারকা মৌ ও তার কন্যা পুষ্পিতাকে এই প্রথম একসঙ্গে দেখা যাবে ইত্যাদির ঈদের মঞ্চে। সাবিনা ইয়াসমিন ও তার কন্যা গাইবেন আর মৌ ও তার কন্যা নাচবেন। গানটি লিখেছেন মোহাম্মদ রফিকউজ্জামান, সংগীতায়োজন করেছেন ফরিদ আহমেদ।

এবারের ঈদ ইত্যাদিতে একটি বিষয়ভিত্তিক গান গেয়েছেন এ্যান্ড্রু কিশোর। এ গানটিও লিখেছেন মোহাম্মদ রফিকউজ্জামান, সুর করেছেন আলী আকবর রূপু। গানটির চিত্রায়ণে অংশ নিয়েছেন রাইসুল ইসলাম আসাদ, সাবেরী আলম ও সাঈদ বাবু। এ গানটির একটি বিশেষত্ব হলো, গানটি বাংলাদেশ ও দুবাই দুই দেশে চিত্রায়ণ করা হয়েছে।

এবারের ঈদের ইত্যাদির একটি বিশেষ পর্ব হচ্ছে সামপ্রতিক সময়ে আলোচিত কিছু বিষয় নিয়ে সাত ভাই চম্পা গানের সুরে একটি গান। গানটিতে অংশ নিয়েছেন অভিনেত্রী তারিন এবং ছোট পর্দা ও বড় পর্দার সাতজন অভিনেতা অপূর্ব, আগুন, জয়, ঈমন, নীরব, নাঈম, কল্যাণ কোরাইয়া। ঈদের ইত্যাদির আর একটি পর্বে রয়েছে বিয়ে নিয়ে ৪ মিনিটের একটি নাট্যাংশ।

ব্যতিক্রমী এ নাট্যাংশে অংশ নিয়েছেন অভিনয় তারকা ডলি জহুর, নিমা রহমান, মীর সাব্বির, প্রাণ রায়, আরফান ও অহনা। ঈদ ইত্যাদির নানা চমকের একটি হচ্ছে বিশেষ মিউজিক্যাল ড্রামা। স্বামী ও স্ত্রীর নানাবিধ কলহ এবং দ্বন্দ্ব নিয়ে তৈরি এবারের এ ড্রামায় অংশ নিয়েছেন অভিনেতা ও পরিচালক শহীদুজ্জামান সেলিম, অভিনেত্রী রোজী সিদ্দিকী এবং অভিনেতা আতাউর রহমান। বরাবরের মতো বিদেশীদের নিয়ে এবারও রয়েছে একটি ব্যতিক্রমী আয়োজন। এ পর্বটিতে সারা পৃথিবীর নানা দেশের অর্ধশতাধিক বিদেশী নাগরিক অংশ নিয়েছেন।

প্রতি ঈদের মতো এবারও রয়েছে ব্যাপক আয়োজনে বিষয়ভিত্তিক দলীয় সংগীত। সামপ্রতিক সময়ে আলোচিত কিছু বিষয় নিয়ে তৈরি এবারের দলীয় সংগীতে অংশ নিয়েছেন ইত্যাদির নিয়মিত নৃত্যশিল্পীরা। এ পর্বের নৃত্য পরিচালনা করেছেন মামুন। সংগীতায়োজন করেছেন মেহেদী। গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন কমল। প্রতিবারই ইত্যাদির দর্শক নির্বাচন প্রক্রিয়া থাকে ভিন্ন রকম। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি।

প্রতিটি দর্শকের হাতে একটি করে বর্ণাঢ্য উপকরণ দিয়ে সেখান থেকে বাছাই করা হয়েছে অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বের জন্য ৪ জন দর্শক। নির্বাচিত দর্শকদের সঙ্গে পরবর্তী পর্বে অংশ নিয়েছেন অভিনেতা-পরিচালক জাহিদ হাসান। মামার মানা সত্ত্বেও এবার ঈদেও মওসুমী ব্যবসায়ী ভাগ্নে নতুন ব্যবসার পরিকল্পনা করেছে। কি সেই ব্যবসা? আর ওদিকে নানী-নাতিকে এবার দেখা যাবে স্টুডিওতে দর্শকদের সামনে। নাতির বিভিন্ন ‘বিশেষ’ নিয়ে অবিশ্বাস আর এ নিয়েই তর্ক-বির্তক। এছাড়া ঈদ ঘিরে ডজনখানেক বিদ্রুপাত্মক রসালো নাট্যাংশ রয়েছে।

কৃষ্টি ভুলে দৃষ্টি ভোলানো ঈদের বিশেষ রান্নার অনুষ্ঠান, খবর পাঠিকা-জবর রিপোর্টার ও ঈদের কেনাকাটা, যে কারণে খাদ্য থেকে আরাধ্য বস্তু বাদ, প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত যুক্তিহীন কিছু রোগ ও নিরাময়, ফেসবুকের উপকার ও অপকার, অমানুষের যাঁতাকলে জনতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আরও কয়েকটি নাট্যাংশ রয়েছে।

ঈদ ইত্যাদির উল্লেখযোগ্য শিল্পীরা হলেন জয়রাজ, দীপা খন্দকার, তুষার খান, নাজমুল হুদা বাচ্চু, সোলায়মান খোকা, মহিউদ্দিন বাহার, আবদুল আজিজ, কে এস ফিরোজ, জিয়াউল হাসান কিসলু, কাজী আসাদ, সুভাশিষ ভৌমিক, জিল্লুর রহমান, শবনম পারভীন, আবদুল কাদের, আফজাল শরীফ, তারিখ স্বপন, মুকুল সিরাজ, মামুনুল হক টুটু, নিসা, কামাল বায়েজিদ, নিপু, রতন খান, জামিল, বিলু বড়ুয়া, শামীম, জাহিদ চৌধুরী, নজরুল ইসলাম, আনোয়ার শাহী, মতিউর রহমান, রুপু, ফরিদ, রবিন, শেলী আহসান, ফাহিম, মঞ্জুরুল আলমসহ অনেকে।

ইত্যাদির শিল্প নিদের্শনা করেছেন যথারীতি মুকিমুল আনোয়ার মুকিম। পরিচালকের সহকারী হিসেবে ছিলেন রানা সরকার ও এম জি এ মামুন। ‘ইত্যাদি’ রচনা, পরিচালনা ও উপস্থাপনা করেছেন হানিফ সংকেত। নির্মাণ করেছে ফাগুন অডিও ভিশন। স্পন্সর করেছে কেয়া কসমেটিকস লিমিটেড। ঈদের পরদিন রাত দশটার ইংরেজি সংবাদের পর ‘ইত্যাদি’ একযোগে প্রচার হবে বিটিভি ও বিটিভি ওয়ার্ল্ডে।