মেইন ম্যেনু

ঈদে বেড়িয়ে আসতে পারেন পর্যটন জেলা মৌলভীবাজারে

মাহমুদ এইচ খান, মৌলভীবাজার থেকে : ঈদে পর্যটকদের মুগ্ধ করতে প্রস্তুত সবুজ প্রকৃতির মানসকন্যা পর্যটন জেলা মৌলভীবাজারের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান। প্রতি ঈদে হাজার পর্যটকদের আগমনে মুখরিত হয়ে উঠে এসব এলাকা। এবারের ঈদে পর্যটক সংখা বাড়বে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। কারন এবার টানা ৯দিন ছুটি।এসব পর্যটকদের বরণ করতে প্রস্তুত দশর্নীয় স্থান।

জেনে নিন মৌলভীবাজার জেলার পর্যটন এলাকাগুলো সম্পর্কেঃ

(১) চা বাগান : চা বাগান মানেই সবুজের অবারিত সৌন্দর্য। পূরো শ্রীমঙ্গল শহরটা ঘিরে রয়েছে শুধু চায়ের বাগান। শ্রীমঙ্গল নাম শুনলেই প্রথমেই স্বরন হবে চা বাগানের কথা। শ্রীমঙ্গল শহর থেকে যে কোন সড়ক ধরে হাটাপথ দুরত্বে পৌছা মাত্র চোখে পড়বে মাইলের পর মাইল পাহাড় ঘেরা চা বাগান। সবুজের মেলা চা বাগানের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে হলে আপনাকে অতি অবশ্যই বাগান কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হবে। ইচ্ছে করলে কতৃপর্ক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে এসব চা বাগানের চা প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানায় প্রবেশ করে কাচাঁ চা পাতা থেকে চা তৈরীর প্রক্রিয়াও দেখা যেতে পারেন।

(২) লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান : ছোট্ট শহর শ্রীমঙ্গল। দৃষ্টিজুড়ে সবুজ, উটের পিঠের মতোন টিলা আর নোরম চা বাগান- কোন স্থান ভ্রমণ পিপাসুদের কাছে মেলে ধরবার জন্য যথেষ্ট। আরও যা রয়েছে তা হচ্ছে লাউয়াছড়া বন যা এক কথায় অনবদ্য। রেইন ফরেষ্ট হিসেবে খ্যাত এই বনে রয়েছে হরেক প্রজাতির বন্যপ্রাণী আর বৃক্ষাদি। রয়েছে ১৬৭ প্রজাতির বৃক্ষরাজি। লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান শ্রীমঙ্গল হতে মাত্র ১০ কিঃমিঃ আর ঢাকা থেকে ১৯৬ কিঃমিঃ। এর আয়তন ১২৫০ হেক্টর। মোট ১৬টি উল্লুক পরিবার হাজারো পর্যটকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। ভারত, চায়না, মায়ানমার এবং বাংলাদেশসহ ৪টি দেশে ওদের প্রজাতি সমাজবদ্ধ হয়ে বসবাস করছে। লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের গা ঘেষা রয়েছে ৩টি আদিবাসী পল্লী। (মাগুরছড়া ও লাউয়াছড়া) ও ১টি ত্রিপুরাদের পাড়া। আদিবাসীদের জীবনযাত্রা সাধারণত পাহাড়ী কৃষ্টি কালচারের মধ্য দিয়ে বেড়ে উঠে যা সাধারনের থেকে অনেক আলাদা। আদিবাসিদের জীবনযাত্রা, কৃষ্টি, ঐতিহ্য ইত্যাদি দেখাও পর্যটকদের জন্য বাড়তি পাওনা।

কিভাবে যাবেন ; ঢাকা / সিলেট থেকে বাস কিংবা ট্রেন এ করে আপনাকে প্রথমেই আসতে হবে শ্রীমঙ্গল শহরে । শ্রীমঙ্গল শহর থেকে সিএন জি চালিত অটো রিকসা অন্যান্য যানবাহন নিয়ে অতি সহজেই ৮/১২ মিনিটের মধ্যে পৌছে যেতে পারবেন লাউয়াছড়ায় ।

(০৩) মাধবকুন্ড জলপ্রপাত: প্রকৃতির অপরূপ লীলা নিকেতন মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলায় অবস্থিত বাংলাদেশের একমাত্র জলপ্রপাত মাধবকুন্ড জলপ্রপাত। এটি দেখতে বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিন অনেক লোকের সমাগম ঘটে এখানে। প্রায় ২০০ ফুট উঁচু পাহাড়ের উপর থেকে জলরাশি এর গা বেয়ে অবিরাম ধারায় সাঁ সাঁ শব্দে নিচে পড়ছে। অবিরাম পতনের ফলে নিচে সৃষ্টি হয়েছে কুন্ডের। আর কুন্ডের প্রবাহমান ¯্রােতধারা শান্তির বারিধারার মতো মাধবছড়াা দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

যেভাবে যাবেন: মৌলভীবাজার জেলা শহর থেকে কুলাউড়া, জুরী, কাঁঠালতলী হয়েছে ৭০ কিলোমিটার দূরে এবং ঢাকা শহর থেকে ৩৫০কিমি দূরে। মৌলভীবাজার জেলা শহর থেকে কুলাউড়া, জুরী, কাঁঠালতলী হয়ে ৭০ কিলোমিটার দূরে এবং ঢাকা শহর থেকে ৩৫০কিমি দূরে। ঢাকা-সিলেট বা মৌলভীবাজার থেকে গাড়িতে যেতে পারেন অথবা কুলাউরা সংযোগস্থল থেকে ট্রেনে যেতে পারেন। যাত্রা পথে দেখতে পাবেন চা বাগানের অপুরূপ সৌন্দর্য।

(০৪) বিটিআরআই : বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনষ্টিটিউট (বিটিআরআই) পর্যটকদের জন্য একটি আকর্ষনীয় স্থান। দেশের চা শিল্পের উন্নয়নে কাজ করছে এ প্রতিষ্ঠানটি। বিটিআরআই কমপ্লেক্স-এর সামনে অপরূপ ফুলকুঞ্জ, শত বছরের চা গাছ, চা পরীক্ষাগার, চারদিকে চা বাগান, চা নার্সারী, চা ফ্যাক্টরী, অফিসার্স ক্লাব ভবনের পেছনে অবস্থিত চোখ ধাঁধানো লেক, রোবাস্টা কফি গাছ, নানা জাতের অর্কিডসহ ভেষজ বাগান আপনার মনকে চাঙ্গা করবেই। কতৃপর্ক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে আপনি ঘুরে দেখতে পারেন বিটিআরআই’র পুরো ক্যাম্পাস। প্রতিদিন বিকেলে ও সরকারি ছুটির দিনে পর্যটকদের ঢল নামে বিটিআরআই-তে।

যেভাবে যাবেন-
ঢাকা / সিলেট থেকে বাস কিংবা ট্রেন এ করে আপনাকে প্রথমেই আসতে হবে শ্রীমঙ্গল শহরে। শ্রীমঙ্গল শহর থেকে রিকসা যোগে আপনাকে যেতে হবে বিটিআরআই তে ।

(০৫) বধ্যভূমি ৭১ : শ্রীমঙ্গলের ‘বধ্যভূমি ৭১’ আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। ৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজরিত বধ্যভূমিতে ২০১০ সালে স্মৃতিস্তম্ব নির্মাণের পর দর্শনার্থীরা এখানে উপচে পড়ে। এছাড়াও প্রতিদিনই দর্শনার্থীরা আসেন বধ্যভূমি দেখতে।

শ্রীমঙ্গলে শহরের ভানুগাছ সড়কে বিজিবি’র সেক্টর হেড কোর্য়াটার সংলগ্ন বটকুঞ্জের নিচ দিয়ে প্রবাহিত ভুরভুরিয়া ছড়ার পাশে এর অবস্থান। সম্প্রতি এখানে পর্যটকদের সুবিধার্থে নির্মিত হয়েছে ‘সীমান্ত ৭১ ফ্রেশ কর্নার’সহ মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য ‘মৃত্যুঞ্জয়ী ৭১’। ২০১০ সালের ১৬ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিক উদ্ভোধনের পর দৃষ্টিনন্দন স্মৃতিস্তম্ব ও একাত্তরের স্মৃতি বিজরিত বধ্যভূমিটি দেখতে মানুষ আসতে থাকেন এখানে। বর্তমানে এ স্থানটি এখন আকর্ষনীয় পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

কিভাবে যাবেনঃ শ্রীমঙ্গল থেকে ৫-৭ মিনিটের পথ। ইচ্ছে করলে প্রকৃতির হাওয়ার সাথে হেটে হেটে যেতে পারেন। এছাড়াও অটো রিক্সা বা প্রাইভেট গাড়িতে যেতে পাড়েন।

(০৬) মাধবপুর হ্রদ: সুনীল আকাশ, ঘাঢ় সবুজ পাহাড়, শিল্পীর তুলিতে আঁকা ছবির মত মনোরম চা বাগানের দৃশ্যে হারিয়ে যান আপন মনে। চারিদিকে সুউচ্চ পাহাড়ের মাঝখানে অবস্থিত লেকটি সত্যি অপূর্ব। লেকের ঝলমল পানি, ছায়া সুনিবিড় পরিবেশ, শাপলা শালুকের উপস্থিতি আরও মনোমুগ্ধকর করে তুলে। আস্তে আস্তে যতই সামনের দিকে এগুতে থাকবেন ততই ভাল লাগবে। মাঝে মাঝে বানর ও হনুমানের লাফালাফির দৃশ্যও চোখে পড়ে। মাধবপুর লেকে গিয়ে পৌঁছতেই সবুজ পাতার গন্ধ যে কারো মনকে চাঙ্গা করে তুলবে। চারদিকে সবুজ পাহাড়ে। প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভুমি মৌলভীবাজার জেলায় অবস্থিত মাধবপুর লেক দেশী বিদেশী পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি স্থান। এটি মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়নের পাত্রখলা চা বাগানে অবস্থিত। শ্রীমঙ্গল শহর থেকে ১৫ কি: মি: দূরে পাশ্ববর্তী কমলগঞ্জের মাধবপুর চা বাগান। লাউয়াছড়া প্রবেশের মুখে হাতের ডান দিকে নুরজাহান চা বাগানের ভিতর দিয়ে অথবা ভানুগাছ বাজার হয়ে সেখানে যাওয়া যায়।

যেভাবে যাবেনঃ শ্রীমঙ্গল বাসস্ট্যান্ড থেকে সিএনজি রিজার্ভ করে সোজা মাধবপুর লেকে যেতে পারেন। শ্রীমঙ্গল বাসস্ট্যান্ড থেকে কমলগঞ্জ সিএনজিস্ট্যান্ডে যেতে হবে। সেখান থেকে কমলগঞ্জ উপজেলা যেতে ভানুগাছ বাজারে নামতে হবে। সেখান থেকে পত্রখোলা যেতে মাধবপুর বাজারে নামতে হবে এরপর সামান্য হাটাপথে চা বাগান।

(০৭) ডিনস্টন সিমেট্রি:
শ্রীমঙ্গলে আর্কশনীয় একটি স্থান হচ্ছে শতবছর পুরানো ডিনস্টন সিমেট্রি। এ সিমেট্রি দেখতে প্রচুর পর্যটক আসে এখানে। শ্রীমঙ্গল শহর থেকে ১৫ কিঃমিঃ দূরে রাজঘাট ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত খেজুরীছড়ায় ফিনলে টি কোম্পানির চা বাগানে এটি অবস্থিত। ১৮৮০ সালে ব্রিটিশরা শ্রীমঙ্গলে এসে বাণিজ্যিকভাবে চা চাষ আরম্ভ করে। এখানে কাজ করতে এসে বিভিন্ন সময় যেসব ব্রিটিশ নাগরিক মৃত্যুবরণ করেন তাদের সমাহিত করা হয় খেজুরীছড়ার এই ডিনস্টন সিমেট্রিতে। চা বাগানের মাঝে গড়ে তোলা অসাধারণ সাজানো-গোছানো এই সিমেট্রিতে চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন ৪৬ জন বিদেশী নাগরিক। যাদের ৪১জনের নাম ও পদবী এখানে খোদাই করা আছে ।

(০৮) মনিপুরী পল্লি : যদিও সরকারি পৃষ্টপোষকতার অভাব, কাঁচামালের দুষ্পাপ্যতা ইত্যাদি কারনে মনিপুরী তাঁত শিল্প অনেকটা ধ্বংশের দ্বার প্রান্তে, তারপরও অনেক মনিপুরী পরিবার সযতেœ শিল্পটিকে টিকিয়ে রেখেছে। শ্রীমঙ্গলের রামনগর মনিপুরী পাড়ায় এখনো ঐতিহ্য ধরে রাখার প্রয়াসে বেশ কটি তাঁতে তৈরী হচ্ছে শাড়ি, থ্রি-পিস, ওড়না, ব্যাগসহ নানা ধরনের পণ্য। তাঁত শিল্প সম্পর্কে জানতে এবং তাঁতে কাপড় বুনার প্রক্রিয়া দেখতে চাইলে ঘুরে আসতে পারেন শ্রীমঙ্গলের রামনগর মনিপুরী পাড়ায়। মনিপুরীদের আতিথেয়তা গ্রহন করতে শ্রীমঙ্গল শহর থেকে রিক্সাযোগে সহজেই যেতে পারেন মনিপুরী পাড়াতে। তবে বাংলা সনের কার্তিক মাসের শেষ পূর্ণিমা তিথিতে মনিপুরীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব রাসোৎসব দেখতে চাইলে যেতে পারেন কমলগঞ্জের মাধবপুরস্থ জোড়ামন্ডপ অথবা আদমপুরস্থ মনিপুরী শিক্ষা ও সংস্কৃতি কেন্দ্রে।

যেভাবে যাবেন- ঢাকা / সিলেট থেকে বাস কিংবা ট্রেন এ করে আপনাকে প্রথমেই আসতে হবে শ্রীমঙ্গল শহরে । সেখান থেকে সিএনজি কিংবা রিক্শা যোগে আপনাকে যেতে রামনগর মনিপুরি পাড়ায় ।

(০৯) হাম হাম জলপ্রপাত : মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার নয়নাভিরাম হামহাম জলপ্রপাতে পর্যটকের ঢল নেমেছে গহিন অরণ্যের এই জলপ্রপাতটি দেখার জন্য প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পর্যটকরা ভীড় করেন। মৌলভীবাজারের মাধবকুন্ড জল প্রপাতের চেয়ে তিনগুণ বড় হামহাম জল প্রপাতটি।কমলগঞ্জ উপজেলার কুরমা বনাঞ্চলের ভারতীয় সীমান্তে গহিন অরণ্যের হামহাম জলপ্রপাতটির সংবাদ সম্প্রতি বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় প্রচার হলে পর্যটকদের আগমন শুরু হয়। পর্যটকদের আগমনে মুখরিত হয়ে উঠেছে ১৬০ ফুট উচ্চতা থেকে প্রবাহিত হামহাম জলপ্রপাত। এই জল প্রপাতে যাওয়ার কোন রাস্তা না থাকলেও পর্যটকরা দুর্গম পাহাড়ের ভেতর দিয়ে সংগ্রাম করে এক নজর হামহাম দেখতে ছুটছেন। মাধবকুন্ডের চেয়ে তিনগুণ বড় হয়ে পানি পড়ে। কমলগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৩০ কি.মি. পূর্ব-দক্ষিণে রাজকান্দি বন রেঞ্জের কুরমা বনবিট এলাকার প্রায় ১০ কি.মি. অভ্যন্তরে দৃষ্টিনন্দন হামহাম জল প্রপাতের অবস্থান।

হাম হামে যেভাবে যাবেনঃ শ্রীমঙ্গল থেকে সারাদিনের জন্য অর্থাৎ যাওয়া-আসার জন্য রির্জাভ গাড়ী/জিপ ভাড়া করে যেতে হবে। এরপর হাটা জঙ্গল, ছোট-খাট টিলা, ঝিরিপথ, পাথর পূর্ণ পিচ্ছিল রাস্তা পার হয়ে প্রায় ৩ ঘন্টা পর হাম হাম জল প্রপাত। সকাল সকাল বের হয়ে গেলে বিকাল ৫ টার মধ্যে খুব সহজেই ফেরা যায়।

(১০) নীলকন্ঠ চা কেবিন: একই গ্লাসে সাত স্তরে সাত রঙের চায়ের কথা অনেকেরেই জানা। এ চা জিভে জলের বদলে বিস্ময় জাগায় বেশি। শৈল্পিক ও আকর্ষণীয় এ চায়ের নামডাক অনেক আগেই বাংলাদেশের সীমানা পেরিয়ে গেছে। শ্রীমঙ্গলে যারা বেড়াতে আসেন তারা সাত রঙা চায়ের স্বাদ নিতে ভুলেন না।

রমেশ রাম গৌড় (৪২) প্রায় ১২ বছর ধরে সপ্তবর্ণের এ চা বানিয়ে যাচ্ছেন। তার দুইটি দোকান রয়েছে- শ্রীমঙ্গলের মণিপুরী অধ্যুষিত রামনগর ও কালিঘাট রোডের ১৪ রাইফেল ব্যাটালিয়নের ক্যান্টিনে। তার দোকান দুটির নাম নীলকন্ঠ কেবিন।

তিনি ক্লোন টি ও বিভিন্ন ধরনের মসলার সংমিশ্রণে এ চা তৈরি করেন। বর্তমানে সাত স্তরের চা ৭০ টাকা, ছয় স্তরে ৬০ টাকা, পাঁচ স্তরের চা ৫০ টাকা, চার স্তরের ৪০ টাকা, তিন স্তরের ৩০ টাকা, দুই স্তরের চা ২০ টাকা, হাই স্পেশাল চা ২০ টাকা, স্পেশাল দুধ চা ১০ টাকা, গ্রিন চা ৫ টাকা, আদা চা ৫ টাকা, লাল চা ৫ টাকা এবং লেবু চা ৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। উন্নত বিশ্বে বাঙালি ও ভারতীয় রেষ্টুরেন্টগুলোতে ‘ফ্লোডা কফি’ নামে এক ধরণের কফি তৈরি করা হয়। এ কফি তৈরিতে একটি মগে ৪-৫ চামচ চিনি ও ফুলক্রিম দুধ ব্যবহার করা হয়। এ কফিতে দুধ ও কফি পৃথক রং ধারণ করে থাকে। সেখানে চিনির মাত্রা বেশি হয়। তবে শ্রীমঙ্গলের সাত রঙের চায়ের প্রস্তুত প্রণালী অজানা। তবে দেখতে যতটুকু আকর্ষণীয়, তত সুস্বাদু নয়। রেসিপির খানিকটা ফাঁস করে জানান, সাত স্তরের চা তৈরি করতে চা পাতার লিকার বেশি সময় ধরে জাল দিতে হয়।

নীলকণ্ঠ কেবিনে কিভাবে যাবেন : শ্রীমঙ্গল শহর থেকে রিকশা নিয়ে কালিঘাট রোডের কিছুদুর গেলেই দেখতে পাবেন বড় সাইনবোর্ডে লেখা ‘নীলকণ্ঠ’। ভাড়া নেবে ১০ টাকা। কেবিনটি ১৪ রাইফেল ব্যাটালিয়নের ক্যান্টিনে থাকায় সব ধরনের নিরাপত্তা পাবেন। নিরিবিলি ও খোলামেলা জায়গায় ভেতরে বা বাইরে বসে চা পান করতে পারবেন। দ্বিতীয়টি একই সড়ক ধরে গেলে রামনগরে অবস্থিত। ২০-২৫ টাকা রিকশা ভাড়া দিয়ে যেতে পারেন। এখানে চা বাগানের চমৎকার পরিবেশে বসে চা পান করতে পারবেন।

(১১) নির্মাই শিববাড়ী :
শ্রীমঙ্গলের ঐতিয্যবাহী নির্মাই শিববাড়ি ভ্রমন পিপাসুদের কাছেএকটি আর্কশনীয় স্থান।এখানে শিব মন্দিরের পাশেই রয়েছে ৯ একর জায়গা নিয়ে বিশাল দিঘী। দিঘীল চারপাশে বিস্তৃত এলাকা জুড়েরয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষ। চর্তুদশ শতাব্দীতে শ্রীমঙ্গলের বালিশিরা অঞ্চলে ত্রিপুরার মহারাজা রাজত্ব করতেন। প্রবল শক্তশালী এ রাজার বিরুদ্ধে কুকি সমস্থ রাজা প্রায়ই বিদ্রোহ ঘোষণা করতনে। কুকি রাজার বিদ্রোহ দমন করতে ত্রিপুরার মহারাজা সৈন্য পাঠান এবং তুমুল এ যুদ্ধে কুকিরা পরাজিত হলেও মহারাজার প্রধান সেনাপতি রণক্ষেত্রে নিহত হন আর এই সেনাপতি ছিলেন রাজার জামাতা। ফলে স্বামীহারা হন মহারাজা কন্যা নির্মাই। ভারতর্বষে তখন সহমরণ প্রথা চালু ছিল কিন্তু রাজকন্যা সহমরণে রাজি না হয়ে স্বামী নিহত হওয়ার স্থানে এসে শিবের আরাধনা করতে থাকেন এবং সিদ্ধি লাভ করেন। তাই রাজকণ্যার নামে ১৪৫৪ খ্রীস্টাব্দে শ্রীমঙ্গলের বালিশিরা পরগণার শঙ্করসেনা গ্রামে নির্মাই শিববাড়ী প্রতিষ্ঠিত হয়। ঐতিহাসিক এই স্থানটি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্য একটি অন্যতম তীর্থস্থানে পরিণত হয়। প্রতিবছর শিব চর্তুদর্শী তিথিতে এখানে কয়েক লাখ মানুষের ঢল নামে।

যেভাবে যাবেন- শ্রীমঙ্গল শহর থেকে সিএনজি যোগে আপনাকে যেতে হবে শংকরসনা বাজারে, সেখান থেকে কয়েকপা বাড়ালেই পাবেন শিববাড়ি । ভাড়া ১০০-১২০ টাকা।

(১২) বাইক্কা বিল: হাইল হাওরে অবস্থিত সংরতি মৎস্য অভয়াশ্রম ‘বাইক্কা বিল’। ইউএস আইডি’র র অর্থায়নে মাচ প্রকল্পের মাধ্যমে গড়ে তোলা হয়েছে মৎস্য ও পাখির অভয়াশ্রম। অপরূপ সৌন্দর্য্যমন্ডিত এ বিল এখন আকর্ষণীয় পর্যটন স্পটে পরিণত হয়েছে। নয়নাভিরাম জলাভূমিতে হাজারও শাপলা আর পদ্মফুল ফুঁটে। বিলের পানির উপর ঘুরে বেড়ায় ফড়িং। সকাল বিকাল চলে রঙিন ফড়িংয়ের বিরতিহীন শোভাযাত্রা। বৃষ্টিহীন উষ্ণ দিনে বিলে ফুলের পাশে আসে রঙিন প্রজাপতির দল। জীববৈচিত্র ও মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যে ভরপুর বাইক্কা বিল জলজ সম্পদের অমূল্য ভান্ডার। শিা-গবেষণা ও চিও-বিনোদনের জন্য এই বিল এখন অনন্য বিল একটি স্থান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিলের পানিতে ফোটা হাজারো পানা, শাপলা, পদ্ম আর নীলপদ্ম শোভিত

মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক শোভা দেখে পর্যটক ও প্রকৃতিপিপাসুরা বিমোহিত হন। ২০০৩ সালের ১লা জুলাই ভূমি মন্ত্রণালয় বাইক্কা বিলকে স্থায়ী মৎস্য অভয়াশ্রম হিসেবে সংরণের সিদ্ধান্ত নেয়ার পর এই বিল শুধু মাছের জন্যই নয়, পাখি এবং অন্যান্য প্রাণীর জন্য একটি চমৎকার নিরাপদ আবাসস্থলে পরিণত হয়েছে। এ ছাড়া বাইক্কা বিলে দেখ মেলে পদ্ম,শাপলা, মাখনা স্বাদের জলজ ফুল ও ফল। সুস্বাদু সংরতি মৎস্য অভয়াশ্রমে গত কয়েক বছর ধরে সাইবেরিয়ার সাত সমুদ্র তেরো নদী পার হয়ে অতিথি পাখিরা বাইক্কা বিলে আসছে। এ বিলে এখন মৎস্য সম্পদ যেমন বাড়ছে, তেমনি হাজার হাজার অতিথি পাখির আগমনে এলাকাটি মুখর হয়ে উঠেছে।

(১৩) হাকালুকি হাওর: বাংলাদেশের সর্ববৃহত্তম হাওর হচ্ছে হাকালুকি এটি মৌলভীবাজার ও সিলেট জেলায় অবস্থিত। মৌলভীবাজারের বড়লেখা, জুরী, কুলাউড়া এবং সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ, গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজার উপজেলায় এর বিস্তৃত। হাওরের আয়তন ১৮,১১৫ হেক্টর। হাওরে প্রায় ২৩৮টি বিল রয়েছে। বিলগুলিতে প্রায় সারাবছর পানি থাকে। হাওরের জলরাশির মূল প্রবাহ হলো জুরী ও পানাই নদী। এই বিলগুলি মৎস্য সম্পদের আধার। বছরে প্রায় ২৫০০টন মাছ উৎপাদন হয়। তবে যথেচ্ছভাবে মাছ ধরার কারণে দেশী জাতের রানী, তুরাল, রাঁচি, বাতাসি, গলদাচিংড়ি, বাঘমাছ, চিতল ইত্যাদি মাছ আর এখন হাওরে পাওয়া যায় না।

হাওরে শীতকালে আগমন ঘটে অতিথি জলচর পাখির। গত শীত মৌসুমে ৪৮ প্রজাতির প্রায় ১ লাখ পাখি এসেছিল। এসব অতিথি পাখির মধ্যে ভূতি হাঁস, গিরিয়া হাঁস, ল্যাঞ্জা হাঁস, বালি হাঁস, গুটি ঈগল, কুড়া ঈগল, রাজ সরালি, পান ভুলানি, পানকৌড়ি. বেগুনী কালিম, মেটেমাথা টিটি ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

যেভাবে যাবেন: ঢাকা থেকে মৌলভীবাজার জেলা শহর হয়ে কুলাউড়া, জুড়ী, বড়লেখা উপজেলা শহর থেকে মাইক্রবাস ভাড়া করে যেতে হবে।

(১৪) চা কন্যার ভাস্কর্য : দেশের বিক্ষাত পর্যটন নগরী হচ্ছে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল। সুনীল আকাশ আর সবুজের সমারোহ আর অপরূপ সৌন্দর্য শোভিত চা শিল্পাঞ্চলের বিশাল গৌরব ও সুপ্রাচীন ঐতিহ্যের প্রতীক হিসেবে শ্রীমঙ্গলে নির্মিত হয়েছে চা-কন্যা ভাষ্কর্য। চা-শিল্পাঞ্চলের দেড় শতাধিক বছরের প্রাচীন ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে ধারণ করে আছে এই ভাষ্কর্যটিতে। চায়ের রাজধানী শ্রীমঙ্গলের প্রবেশদ্বারে স্থাপিত এক নারী চা শধমিকের চা-পাতা উত্তোলনের দৃশ্য সম্বলিত ‘চায়ের দেশে স্বাগতম’ শিরোনামের এ ভাষ্কর্যর্টি দেশি-বিদেশি প্রকৃতিপ্রেমীসহ সবার দৃষ্টি কেড়েছে। মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এবং সাতগাঁও চা বাগানের অর্থায়নে প্রায় দশ লাখ টাকা ব্যায়ে চায়ের রাজধানী শ্রীমঙ্গলের সাতগাঁও চা বাগানে নির্মাণ করা হয়েছে এ দৃষ্টিনন্দন ভাষ্কর্যটি। নারী ও চা শ্রমিক’ এ দু’টি বিষয়কে প্রতীক হিসেবে তুলে আনা হয়েছে এ ভাষ্কর্যে। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের আঁকা-বাঁকা দীর্ঘ পথের দু’পাশে ছড়ানো ঘন সবুজ চায়ের বাগান। পাহাড়ের সমারোহও রয়েছে এর আশপাশ জুড়ে। এমন মনোমুগ্ধকর পরিবেশে এক কোণে নীরবে ঠাঁয় দাঁড়িয়ে রয়েছে ‘চা-কন্যা’। প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক মানুষ ভিড় করেন এখানে। এ ভাষ্কর্যটির সৌন্দর্য এক নজর দেখে এ পথে যাতায়াতকারী অগণিত মানুষ বিমোহিত হয়ে যান।

কিভাবে যাবেনঃ শ্রীমঙ্গল শহর থেকে সিএনজি, অটো রিক্সা বা প্রাইভেট গাড়ি দিয়ে যেতে সময় লাগবে ১০ মিনিট। ঢাকা সিলেট মহাসড়ক সংলগ্ন সাতঁগাও চা বাগানে অবস্থিত।

(১৫) বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান স্মৃতিসৌধ : ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদ সিপাহী হামিদুর রহমান আতেœাসর্গের কারনে বাংলাদেশ সরকার তাকে ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ খেতাবে ভূষিত করেছে। হামিদুর রহমানের স্মৃতিকে স্মরণীয় করে রাখতে তৎকালীন শ্রীমঙ্গলের ১৭ রাইফেল ব্যাটালিয়ন ধলই সীমান্ত ফাঁড়ি সংলগ্ন স্থানে শহীদ সিপাহী হামিদুর রহমান ‘বীরশ্রেষ্ঠ স্মরণী’ নির্মাণ করে। ২০০৬ সালে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে গণপূর্ত বিভাগ ১৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে এখানে একটি স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করেন। কমলগঞ্জ উপজেলার ধলই চা বাগানে বিজিবি’র সীমান্ত ফাঁড়ি সংলগ্ন এলাকায় বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের স্মৃতিসৌধ পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হচ্ছে। এখানে প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটক, দর্শনার্থী ও শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন পেশার লোকজন এ স্মৃতিসৌধ দেখতে আসছেন। সকালে বের হলে লাউয়াছড়া ভ্রমণ শেষে মাধবপুর লেক ও বীরশ্রেষ্ট হামিদুর রহমান স্মৃতিসৌধ ঘুরে আসা যাবে।

যেভাবে যাবেনঃ মাধবপুর লেক হতে ৯ কিঃমিঃ দূরে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান স্মৃতিসৌধ এর অবস্থান। সি এনজি বা প্রাইভেট গাড়ি দিয়ে যেতে পারেন।

(১৬) খাসিয়া পানপুঞ্জি : আদিবাসী খাসিয়া সম্প্রদায় দূর্গম পাহাড়ি এলাকায় উঁচু পাহাড়ি টিলা পরিস্কার করে পান চাষ করে থাকে আর এসব পান চাষ এলাকাই পুঞ্জি নামে পরিচিত। প্রতিটি পানপুঞ্জিতে ২৫/৩০টি পরিবার গোষ্ঠীবদ্ধভাবে বসবাস করে। খাসিয়ারা পাহাড়ি পতিত ভূমিতে সুউচ্চ গাছের পাশে লতানো পানের চারা রোপন করে। রোপনকৃত এ চারা অল্পদিনেই বড় গাছ বেয়ে উপরে উঠে যায়। টিলার পর টিলা সুউচ্চ গাছগুলো সবুজ পান পাতায় ঢেকে থাকে আর বড় গাছে লতানো পান গাছের এই দৃশ্য অত্যন্ত নয়নাভিরাম। খাসিয়া সম্প্রদায়ের পুরুষরা বাঁশের তৈরি এক প্রকার মই ব্যবহার করে গাছ থেকে পান সংগ্রহ করে। সে পান খাসিয়া নারীরা গুছিয়ে খাচায় ভরে। এই দৃশ্য দেখতে চাইলে চলে যান নাহার, নিরালা, চলিতাছড়া, লাউয়াছড়া প্রভৃতি পান পুঞ্জিতে। এসব পুঞ্জিতে প্রতিদিনই সকাল-বিকেল পান ক্রেতাদের জীপ গাড়ি যাতায়াত করে। আপনি এদের সাথে ভাড়া দরদাম করে চলে যেতে পারবেন যে কোন পুঞ্জিতে। আদিবাসিদের সাথে ভালো আচরণ করার চেষ্টা করবেন এবং ছবি তোলার আগে অনুমতি নিয়ে নিবেন।

যেভাবে যাবেন- শ্রীমঙ্গল শহর থেকে লাওয়াছড়ার ভিতর গেলেই পাবেন খাশিয়া পান পুঞ্জি এবং বড়লেখা, জুড়ী, কুলাউড়া শহরের অদূওে অনেক আধিবাসী পল্লি রয়েছে সেখানে এসকল উপজেলা শহর হতে মাইক্রোবাসে কওে যেতে হবে ।

madhob kundo1 Tea garden kalapur grand sultan resorts ca konnya 2 buddho vumi71