মেইন ম্যেনু

ঈদে মোটর রেস ঠেকানোই পুলিশের নয়া চ্যালেঞ্জ

রাজধানী ফাঁকা। ঈদের লম্বা ছুটিতে অধিকাংশ মানুষই নাড়ির টানে ফিরেছেন গ্রামের বাড়িতে। আর এ সুযোগটিরই অপব্যবহর করছে উঠতি বয়সী তরুণরা। ঈদের দিন তারা মেতে উঠে প্রাণঘাতি খেলা মোটরসাইকেল ‘ডেড-রেসে’।

ঈদের দিন এ ধরনের ‘ডেড রেস’ সাধারণত রাজধানীর মহাখালী ফ্লাইওভার থেকে এয়াপোর্ট রোড, সংসদ ভবন এলাকা, কাওরানবাজার থেকে ফার্মগেট এলাকা, মিরপুর কালশী লিংক রোড এলাকায় বেশি দেখা যায়। তবে ইদানিং এ ধরনের রেসের জন্য তরুণদের কাছে সবচেয়ে প্রিয় হয়ে উঠেছে রাজধানীর হাতিরঝিল।

ট্রাফিক পুলিশের হিসাব মতে হাতিরঝিল প্রকল্প উদ্বোধনের পর থেকে এখন পর্যন্ত প্রতি ঈদেই এ ধরনের রেসের কারণে অন্তত দু’জন করে প্রাণ হারিয়েছেন। তাই এবার এ ধরনের ‘ডেড-রেস’ প্রতিরোধে নানামুখি পদক্ষেপ নিয়েছে ট্রাফিক পুলিশ।

এ বিষয়ে কথা হলে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল জোনের ট্রাফিকের সিনিয়র সহকারী কমিশনার (এসি) আবু ইউসুফ বলেন, ‘প্রতি ঈদেই এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে। তবে এবার যাতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে, সে জন্য ট্রাফিক পুলিশের পক্ষ থেকে বেশকিছু উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে চেকপোস্ট, গতিরোধক ব্যবস্থা।’

স্বাভাবিক নিয়মে হাতিরঝিলে যানবাহনের জন্য সর্বোচ্চ গতি কতো জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘গতির বিষয়ে হাতিরঝিলে এক একটি পয়েন্টে একেক ধরনের নির্দেশনা দেয়া আছে। যানবাহনগুলোকে অবশ্যই সেই নির্দেশনা মানতে হবে। তবে কোনোভাবেই যানবাহনের গতি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটারের ওপরে উঠতে দেয়া হবে না। কোনো চালক যদি এই আইন ভঙ্গ করে, সেক্ষেত্রে তার বিরুদ্ধে মোটরযান আইন ১৯৮৩-এর ৮ ধারা মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

অবশ্য বেশ কয়েকটি দুর্ঘটনা ঘটার পর বেশকিছু গতিরোধক স্থাপন এবং সংশ্লিষ্টদের তৎপরতায় বর্তমানে হাতিরঝিলে রেসের ব্যাপারটি নিয়ন্ত্রণে এসেছে। বর্তমানে সবচেয়ে বেশি রেস হয় রাজধানীর বিশ্বরোড থেকে এয়ারপোর্ট হয়ে উত্তরার রাস্তায়।

উত্তরার ৬ নম্বর সেক্টরে বাসা সোহাগ শেখের। বাড্ডার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা। অফিস থেকে বাসায় ফিরতে একটু রাতই হয় তার। যাতায়াত করেন মোটরসাইকেলে। জানালেন নিজের অভিজ্ঞাতার কথা। সোহাগ বলেন, ‘রাত সাড়ে ১২টা হবে বাসায় ফিরছিলাম। মোটামুটি গতিতেই বাইক চালাচ্ছিলাম। খিলক্ষেত পার হতে না হতেই প্রচণ্ড শব্দে দুটি মোটরসাইকেল আমার দুইপাশ দিয়ে অতিক্রম করে গেল। আমি তো ভয়ই পেয়েছিলাম। পরে শুনলাম ধনীর দুলালরা মাঝে মধ্যে ইচ্ছাকৃতভাবেই মানুষকে ভয় দেখানোর জন্য এমন রিস্কে ওভারটেক করে থাকে।’