মেইন ম্যেনু

ঈদে যাঁর জন্য আয়োজন, সেই মুস্তাফিজই নেই বাড়িতে

ভারত সিরিজের পর বাড়িতে আসতে পারেননি। কদিনের বিরতিতেই ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজ। তবে পরিকল্পনা ছিল ১৭ জুলাই দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ শেষেই বাড়িতে আসবেন।

বিমানের টিকিটও কাটা হয়েছিল। পরিবারের সদস্যরা তো বটেই গ্রামের বন্ধুরাও নিয়েছিলেন যাবতীয় প্রস্তুতি। তাঁর সঙ্গে ঈদ করতে ঢাকা থেকে ছোট বোন সালেহা, খুলনা থেকে বড় বোন সাবেরা ও বড় ভাই মাহফুজার রহমানসহ অন্যান্য আত্মীয়-স্বজন চলে এসেছিলেন বাড়িতে। তবে যাঁর জন্য এত আয়োজন, সেই মুস্তাফিজুর রহমানই আসতে পারেননি বাড়িতে। ঈদ আনন্দে কিছুটা ভাটা পড়লেও মুস্তাফিজের টেস্ট অভিষেক হতে পারে—এ প্রত্যাশায় রোমাঞ্চিত তাঁর পরিবার ও সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার তেঁতুলিয়া গ্রাম।

মুস্তাফিজের বাবা আবুল কাশেম গাজী বললেন, ‘১৭ জুলাই বাড়ি আসার কথা ছিল ওর। আসার খবরে গোটা এলাকায় অন্যরকম আনন্দ কাজ করছিল। তবে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডের পর তার টেস্ট স্কোয়াডে সুযোগ পাওয়ার খবর আসে। এরপরই বাড়িতে আসাটা অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। পরে আর আসতেও পারেনি। কী আর করা! মুস্তাফিজ এখন তো আমাদের একার সন্তান নয়। ১৬ কোটি মানুষের। তাই মেনে নিতে হবে সবকিছু।’

মুস্তাফিজের ক্রিকেটার হওয়ার নেপথ্যে বড় ভূমিকা রাখা সেজ ভাই মোখলেছুর রহমান জানালেন, ‘ও মুঠোফোনে জানিয়েছিল, দুই দিনের ছুটি হয়েছে। তবে বাড়িতে যাওয়া হচ্ছে না। বেশ মন খারাপ হয়েছিল তার। বুঝিয়ে বলেছি, ব্যাপার না, টেস্টে ডাক পেয়েছিস। ওটাই এখন গুরুত্বপূর্ণ।’ মুস্তাফিজের বড় ভাই মাহফুজার রহমান ও ছোট বোন সালেহা খাতুন জানালেন, মুস্তাফিজকে ছাড়া এভাবে কখনো ঈদ উদ্‌যাপন করা হয়নি।

মুস্তাফিজ আসবে না শুনে ঈদ আনন্দে ভাটা পড়েছে তেঁতুলিয়া গ্রামেও। মোস্তাফিজের বন্ধু মেহেদি হাসান ও মিজানুর রহমান জানালেন, ‘আমরা ওকে নিয়ে অনেক পরিকল্পনা করছিলাম। যার জন্য এত আয়োজন, সে না আসায় পরিকল্পনা সবই আপাতত বন্ধ। ত‌বে টেস্ট সিরিজের পর যখন সে আসবে, অনেক আনন্দ হবে, ব্যাপক অনুষ্ঠানের আয়োজন হবে।’

তেঁতুলিয়া গ্রামের বাড়িতে বসে ফোনে কথা হলো মুস্তাফিজের সঙ্গে। চট্টগ্রাম থেকে বললেন, ‘মা-বাবার সঙ্গে ঈদ করতে পারছি না বলে খারাপ তো লাগছেই। দেশের জন্য এতটুকু ত্যাগ তো বেশি কিছু নয়। টেস্টে ভালো করতে পারলে ও দল জিতলে সব খারাপ লাগা ভালো হয়ে যাবে।’

তা-ই হোক। টেস্টেও মুস্তাফিজের মুখে ফুটুক চওড়া হাসি। দল গড়ুক নতুন ইতিহাস।