মেইন ম্যেনু

ঈদে শুধু টিভি দেখা নয়! যে ক্ষতি গুলো হতে পারে আপনার

ঈদের ছুটিতে সব টিভি চ্যানেল গুলোতেই সাত দিন ব্যাপী অনুষ্ঠান দেখানো হবে। অনেকেই আছেন যারা শুধু টিভির অনুষ্ঠান দেখেই ঈদ উদযাপন করতে ভালোবাসেন। কিন্তু অতিরিক্ত টিভি দেখার আছে কিছু ক্ষতিকর দিক। যা আপনার স্বাস্থ্যের উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। চলুন তাহলে জেনে নেয়া যাক অতিরিক্ত টিভি দেখার ক্ষতিকর দিকগুলো সম্পর্কে।

১। হৃদরোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি করে

আপনি যদি দিনে ৪ ঘন্টার বেশি টিভি দেখেন তাহলে কার্ডিওভাস্কুলার ডিজিজে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার সম্ভাবনা ৮% বৃদ্ধি পায়।

২। ঘুমের সমস্যা হয়

দীর্ঘসময় যাবত টিভি দেখার ফলে ঘুমের সময়ের পরিবর্তন করতে হয়। এর ফলে ঘুমের সমস্যা সৃষ্টি হয়। তাই যারা দীর্ঘক্ষণ টিভি দেখেন তাদের মধ্যে চূড়ান্ত পর্যায়ের অবসাদ সৃষ্টি হতে দেখা যায়।

৩। ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়

দৈনিক ২ ঘন্টা টিভি দেখলেও ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি ১৪% বৃদ্ধি পায়। জার্নাল অফ ইকোনমিক সাইকোলজির মতে, যারা বেশি টিভি দেখেন তাদের লাইফ সেটিসফেকশন কমতে থাকে, মাত্রাতিরিক্ত আকাঙ্ক্ষা বৃদ্ধি পায় এবং উদ্বিগ্নতাও বৃদ্ধি পায়।

৪। স্থূলতার ঝুঁকি বাড়ে

গবেষণায় জানা যায় যে, দিনে ২ ঘন্টা টিভি দেখলে মেদ বৃদ্ধি পাওয়ার ঝুঁকি ২৩% বৃদ্ধি পায়। হার্ভার্ড টি.এইচ. চ্যান স্কুল অফ পাবলিক হেলথ এর সমাজবিজ্ঞানের অধ্যাপক স্টিভ গরটমেকার বলেন, বেশিরভাগ মানুষই মনে করে, ‘যারা অনেকটা সময় বসে কাটায় তাদেরই ওজন বৃদ্ধি পায়। স্বাস্থ্যের উপর এ ধরণের প্রভাবের অন্যতম কারণ হচ্ছে অস্বাস্থ্যকর খাদ্য উপাদান গ্রহণ করা’।

৫। মনোযোগ কমে যায়

টিভিতে খুব ঘন ঘন শব্দ ও ছবির পরিবর্তন হয়। এই কারণে শিশুরা যদি বেশি টিভি দেখে তাহলে তাদের মনোযোগ কমে যায়।

৬। অ্যাজমা বৃদ্ধি পায়

যে শিশুরা দিনে ২ ঘন্টা টিভি দেখে তাদের অ্যাজমা হওয়ার সম্ভাবনা যে শিশুরা দেখেনা তাদের চেয়ে দ্বিগুণ বৃদ্ধি পায়।

৭। মানসিক বৃদ্ধি বাঁধাগ্রস্থ হয়

যে শিশুরা দীর্ঘসময় যাবত টিভি দেখে তাদের জ্ঞানীয় বৃদ্ধির উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। তারা আত্মকেন্দ্রিক হয়ে পড়ে। তাদের বন্ধুর সংখ্যা কমে যায়।

৮। অনিয়ন্ত্রিত খাওয়া

যারা দীর্ঘসময় যাবত টিভি দেখেন তারা টিভি দেখতে দেখতে খান বলে অনিয়ন্ত্রিত খাওয়ার অভ্যাস তৈরি হয়। সাধারণত টিভি দেখতে দেখতে অস্বাস্থ্যকর খাবার যেমন- জাংকফুড খাওয়া হয়। আর এই অভ্যাসের কারণেই মোটা হওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়।

৯। চোখের উপর চাপ পড়ে

একই জিনিসের দিকে অনবরত চেয়ে থাকার ফলে চোখের উপর প্রচন্ড চাপ ফেলে। এ কারণে চোখের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। দৃষ্টিশক্তির সমস্যা সৃষ্টি হয়।

১০। আচরণে নেতিবাচকতা আসে

যে শিশুরা দীর্ঘসময় টিভি দেখে তাদের মধ্যে উগ্র বা আক্রমণাত্মক আচরণ সৃষ্টি হতে দেখা যায়। অন্যদের সাথে খারাপ আচরণের মাত্রা বৃদ্ধি পায়।

১১। জীবনের পরিধি কমায়

স্বাস্থ্যবান তরুণদের নিয়ে করা এক গবেষণায় জানা যায় যে, অনেক বেশি পরিমাণে টিভি দেখা অকাল মৃত্যুর সাথে সম্পর্কিত। গবেষণা প্রতিবেদনটি গতবছর জার্নাল অফ দ্যা আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনে প্রকাশিত হয়। গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে যারা দৈনিক ৩ ঘন্টা টিভি দেখেন তাদের মৃত্যু ঝুঁকি দ্বিগুণ হয় যারা দিনে ১ ঘন্টা দেখেন তাদের চেয়ে। অংশগ্রহণকারীদের ৮ বছর ফলোআপে রাখা হয়।

তাই শুধু ঈদেই নয় অন্য সময়েও টিভি দেখার সময় কমিয়ে আনুন। আপনার নিজের ও সন্তানের সুস্থতার খাতিরে। উৎসব আনন্দে ঘরে বসে সময় না কাটিয়ে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঘুরতে যান।