মেইন ম্যেনু

ঈদ নেই, রাজনের বাড়িতে : ছেলেকে হারিয়ে মা যেন বাকরুদ্ধ, বাবা অসুস্থ

ঈদ মানেই খুশি। ঈদ মানে আনন্দ। কিন্তু নির্মমভাবে খুন হওয়া সিলেটের শিশু সামিউল আলম রাজনের বাড়িতে নেই ঈদ, নেই আনন্দ। আছে শুধু বেদনা। ছেলেকে হারিয়ে মা হয়েছেন বাকরুদ্ধ, বাবা অসুস্থ।

ঈদের দিন শনিবার বেলা ১টায় নিহত রাজনের গ্রামের বাড়িতে গিয়ে এমন দৃশ্যই দেখা গেছে। রাজনের বাড়ি সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের বাদেআলী গ্রামে।

সরেজমিনে রাজনের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, ফ্যাল ফ্যাল করে এদিক-ওদিক তাকাচ্ছেন রাজনের মা লুবনা আক্তার। যেন খুঁজে ফিরছেন হারানো মানিক রাজনকে। তার পাশে রয়েছেন আরো কজন নারী। তারা রাজনের মাকে সান্ত্বনা দিচ্ছেন। কিন্তু কিছুতেই কি শান্তি ফেরে তার মনে? ছেলে হারিয়ে বেঁচে তো আছেন এই মা, কিন্তু তার দেহে প্রাণ যেন নেই।

রাজনের নাম শুনলেই কেঁদে উঠছেন তিনি। ঈদের দিন রাজন কীভাবে চলাফেরা করতো, কী খাবার পছন্দ করতো জানতে চাইলে ছেলে সম্পর্কে কিছু বলতে চাননি লুবনা। হাউমাউ করে কেঁদে উঠে তিনি বলেন, ‘আমার বুকের ধন রাজনকে যারা মেরেছে তাদের বিচাই চাই, বিচার চাই। আমি তাদের ফাঁসি চাই, আমার ছেলেকে যেভাবে মেরেছে ঠিক সেইভাবে তাদের মৃত্যু দেখতে চাই।’

এ সময় রাজনের ছোট ভাই সাজন মায়ের পাশে চুপচাপ দাঁড়িয়ে ছিল। ভাইকে হারিয়ে ঈদের আনন্দ ভুলে গেছে ছোট্ট এই ছেলেটিও।

রাজনদের বাসায় তার মা ও ভাইকে পাওয়া গেলেও বাবাকে সেখানে পাওয়া যায়নি। খোঁজ নিয়ে জানা গেল ছেলে হারানো বাবা আজিজুর রহমান অসুস্থ। তাই তাকে নিজের ঘর থেকে অনত্র সরিয়ে নেয়া হয়েছে। রাজনের চাচার বাসায় তিনি ছিলেন। রাজনের নাম শুনলেও তিনি কেঁদে উঠছেন।

রাজনের মেজ চাচা শহিদুর রহমান বলেন, ‘রাজন হত্যার পর থেকেই তার ভাই আজিজ ভেঙে পড়েছেন। গত ১৪ জুলাই তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি করাও হয়েছিল। তখন ডাক্তার বলেছে- তার (রাজনের বাবা) পাশে কেউ রাজন সম্পর্কে কিছু না বলার জন্য।’

পরে অবশ্য তিনি এই প্রতিবেদকে রাজনের বাবার কাছে নিয়ে যান। সদ্য ছেলে হারানো এই বাবা যেন কাঁদতে কাঁদতে তার চোখের সমস্ত জল শুকিয়ে ফেলেছেন। নিদ্রাহীনতা আর কান্নায় রক্তবর্ণ ধারণ করেছে তার চোখ।

উল্লেখ্য, গত ৮ জুলাই সিলেট নগরীর কুমারগাঁওয়ে শিশু রাজনকে চুরির মিথ্যা অপবাদে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে পৈশাচিক নির্যাতন চালানো হয়। একপর্যায়ে সে মারা গেলে তার লাশ গুম করার চেষ্টাকালে পুলিশের হাতে আটক হন মুহিদ আলম।

রাজন হত্যাকাণ্ডের প্রধান হোতা কামরুল ইসলামকেও জেদ্দায় প্রবাসী বাঙালিরা পুলিশে ধরিয়ে দিয়েছেন। তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে। কামরুল-মুহিদ ছাড়াও তাদের ভাই আলীসহ মোট ৯ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তার করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে জালালাবাদ থানার ওসি আখতার হোসন।