মেইন ম্যেনু

ঈশ্বরে অন্ধ বিশ্বাস মানসিক ভারসাম্যহীনতা!

ইশ্বর বা অতিপ্রাকৃত কোনো শক্তিতে চূড়ান্ত বিশ্বাসকে মানসিক রোগ হিসেবে রায় দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সাইকোলজিকাল এসোসিয়েশন। তাদের মতে এমন বিশ্বাস মানুষকে বিজ্ঞানসম্মত সিদ্ধান্ত নিতে বাধা প্রদান করে।

পাঁচ বছর গবেষণার পর গবেষকরা জানান ধর্মীয় বিশ্বাসে বিশ্বাসী মানুষরা প্রায়ই হতাশাগ্রস্থ থাকে এবং আবেগী হয়ে থাকে। তাদের মাঝে হ্যালুসিনেশন এবং মস্তিষ্কবিকৃতিও দেখা যায়।

গবেষণায় বলা হয়, যারা ইশ্বরকে ভয় পায় তারা শারীরিকভাবে কিছুটা অসুস্থ থাকে। আরা যারা ইশ্বরকে উদার মনে করে তারা কিছুটা কম মানসিক সমস্যায় ভোগেন। কিন্তু ধর্মীয় এ বিশ্বাস অনেক সময়ই তাদেরকে বাস্তবতা থেকে দূরে রাখে।

মনোবিজ্ঞানের অধ্যাপক ড. লিলিয়ান এন্ড্রু জানান, প্রতিবছর পৃথিবীতে অনেক মানুষ ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে অনেক চিকিৎসা নেয় না এবং মারা যায়। তাদেরকে এমনও বলা হয়ে থাকে যে এই চিকিৎসা না নিলে তিনি মারাও যেতে পারেন। ‘তবুও তারা চিকিৎসা নেন না এবং ইশ্বরের উপর ভরসা রাখেন যে তারা হয়তো তাকে বাঁচাবেন। কিন্তু এই ভ্রান্ত ধারণাই তাদের মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়।’ জানান তিনি।

তিনি আরো বলেন, জেনোভাহ উইটনেসে বিশ্বাসীরা কোনোভাবেই কারো রক্ত নিতে চান না। প্রয়োজনে তারা মৃত্যুবরণ করবেন কিন্তু রক্তগ্রহণ করবেন না। অনেকে বিশ্বাস করেন তাদের রোগ প্রতিরোধ এতো ভালো তাদের কোনো চিকিৎসার প্রয়োজন নেই। কেউ ইশ্বরের সঙ্গে কথা বলেন বলে দাবি করে, কেউবা আবার ঐশ্বরিক অনেক কিছুই দেখতে পান।

এগুলো সবকিছুই মানসিক ভারসাম্যহীনতার লক্ষণ বলে উল্লেখ করেন লিলিয়ান এবং এই ধর্মকে ঘিরেই যুগে যুগে ঘটেছে অনেক ধ্বংসযজ্ঞ এবং হত্যাযজ্ঞ।

এপিএ এমন একটি আইন প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে যার দ্বারা মানুষের জীবন বাঁচাতে চিকিৎসা নিতে বাধ্য করা হবে। এবং যারা ধর্মীয় অজুহাত দেখিয়ে চিকিৎসা নিতে চাইবে না তাদেরকে মানসিক ভারসাম্যহীন বলে ঘোষণা করা হবে।

চলতি বছরের আগস্টে এই গবেষণার বিস্তারিত জার্নালে প্রকাশিত হবে বলে জানায় আমেরিকান সাইকোলোজিকাল এসোসিয়েশন।