মেইন ম্যেনু

‘উই আর শকড’

প্রাক্তন অ্যাটর্নি জেনারেল ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ অ্যাডভোকেট মাহমুদুল ইসলামের মৃত্যুতে বিচারকরা শোকাহত ও মর্মাহত বলে জানিয়েছেন প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা।

মঙ্গলবার সকালে আপিল বিভাগের মামলা শুনানি শুরু হলে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম আদালতকে জানান, সিনিয়র আইনজীবী মাহমুদুল ইসলাম গত রাতে মারা গেছেন।

এতে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা বলেন, ‘উই আর শকড।’

এদিকে মাহমুদুল ইসলামের মৃত্যুতে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আব্দুল বাসেত মজুমদার গভীর শোক প্রকাশ করে বলেছেন, অসংখ্য আইন বইয়ের রচিয়তা মরহুম মাহমুদুল ইসলাম বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আহ্বানে অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা স্বরণীয় হয়ে থাকবে।

উল্লেখ্য, প্রাক্তন অ্যাটর্নি জেনারেল ও সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাহমুদুল ইসলাম সোমবার রাত ১২টা ৫ মিনিটে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তার বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর। তার মৃত্যুতে বিচারাঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী তাহমিনা ইসলাম এবং দুই ছেলে আরিফ ইসলাম ও আসিফ ইসলামসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন, গুণগ্রহী রেখে গেছেন।

শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন প্রথম আওয়ামী লীগ সরকারের সময় অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মাহমুদুল ইসলাম। দেশের অনেক গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক মামলা পরিচালনা করেন তিনি। অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার বিচারে তিনি অংশ নেন। এ ছাড়া ইমডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিলের পক্ষে তিনি জোরালো ভূমিকা রাখেন।

মাহমুদুল ইসলাম প্রখ্যাত আইনজীবী ব্যারিস্টার ইশতিয়াক আহমেদ ও এসআর পালের জুনিয়র ছিলেন। ১৯৩৬ সালে রংপুরে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। কারমাইকেল কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনে ডিগ্রি অর্জন করেন। রংপুর জেলা বারে আইন পেশা শুরু করার পর তিনি হাইকোর্টে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। ১৯৭২ সালে সহকারী অ্যার্টনি জেনারেল ছিলেন তিনি। মাহমুদুল ইসলামই বাংলাদেশের প্রথম আইনজীবী যিনি সাংবিধানিক গবেষণামূলক বই লেখেন। সংবিধান বিষয়ে তার লেখা বই হচ্ছে ‘কনস্টিটিউশনাল ল অব বাংলাদেশ’। এর বাইরে লিখেছেন ‘ল অব সিভিল প্রসিডিউর’ ও ‘ইন্টারপ্রিটেশন অব স্ট্যাটিউটস অ্যান্ড ডকুমেন্ট’।

মাহমুদুল ইসলামের দুই ছেলে পেশায় প্রকৌশলী। তারা বর্তমানে কানাডায় রয়েছেন। তারা আগামী বৃহস্পতিবার দেশে ফিরবেন বলে জানিয়েছেন তার স্বজনরা। ওই দিন সুপ্রিম কোর্টে মরহুমের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হতে পারে।