মেইন ম্যেনু

টার্গেট কোরবানীর বাজার

উখিয়ায় বেশি লাভের আশায় গরু মোটাতাজাকরণে ব্যস্ত অসাধু ব্যবসায়ীরা

বিগত বছরের মতো আসছে ঈদুল আযহার কোরবানীর বাজারকে টার্গেট করে গরু বেশি দামে বিক্রির আশায় কিছু অসাধু ব্যবসায়ীরা বিকল্প উপায়ে গরু মোটাতাজাকরণ বাণিজ্যে ব্যস্ত রয়েছে বলে জানা গেছে। স্থানীয় প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তর বা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঠিক নজরদারি না থাকার কারণে এসব অসাধু ব্যবসায়ীরা অনায়াসে পার পেয়ে যাওয়ার কারণে গরু মোটাতাজা করে ব্যবসা আশংকাজনকভাবে বাড়ছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

সাম্প্রতিক সময়ের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত সরকার এদেশে গরু রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছে। পাশাপাশি মিয়ানমার থেকে সীমান্ত বাণিজ্যের আওতায় চাহিদামতো গরু না আসার কারণে স্থানীয়ভাবে গরু সংকট মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। যার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে স্থানীয় হাট বাজারগুলোতে। গরু সংকটের কারণে এখানে প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি করছে ৪শত টাকা দরে। মাংস বিক্রেতাদের অভিমত কোরবানির বাজারে এবার গরু সংকট দেখা দিতে পারে।

গরু সংকটের এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে গরু মোটাতাজাকরণের সাথে জড়িত বেশ কিছু অসাধু ব্যবসায়ী গৃহপালিত জীর্ণ শীর্ণ গরু কম দামে ক্রয় করে বিভিন্ন প্রাণঘাতী ঔষুধ প্রয়োগের মাধ্যমে গরু মোটাতাজাকরণ করছে। বিশেষ করে গ্রামগঞ্জে এ ব্যবসা জমজমাট আকার ধারণ করলেও দেখার কেউ নেই। উপরুন্ত উখিয়া প্রাণী সম্পদ অফিসের কিছু অসাধু কর্মচারী নিজেরাই টাকার বিনিময়ে গরু মোটাতাজাকরণে সহায়তা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

গরু মোটাতাজাকরণের ব্যাপারে প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরের করণীয় সম্পর্কে জানার জন্য উখিয়া প্রাণী সম্পদ অফিসে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। তবে ওই অফিসের একজন কমাপাউন্ডার ফয়েজ উল্লাহ জানান, এ অফিসে দীর্ঘ দিন যাবত প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা নাই। গরু মোটাতাজাকরণের ব্যাপারে সে জানান, কোরবানীর বাজারে বিক্রি করে বেশি টাকা মুনাফা লাভের জন্য এখানকার কিছু ব্যক্তি গরু মোটাতাজাকরণ করে থাকে।

তবে বিষয়টি তাদের কাছে গোপন রাখা হয় বলে ব্যক্ত করলেও একাধিক লোকজন জানান, গরু মোটাতাজাকরণের ব্যাপারে ফয়েজ উল্লাহ সরাসরি জড়িত। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মোঃ ফিরুজ খান জানান, গরুকে নিয়ম মাফিক খাদ্য দিয়ে মোটাতাজা করলে তার মাংস ক্ষতিকর হয়না। কিন্তু ষ্টরয়েড জাতীয় ঔষুধ দিয়ে মোটা করা গরুর মাংস ক্ষতিকর। এটি মূলত হাঁপানি রোগের জন্য ঔষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

তিনি বলেন এ জাতীয় ঔষুধ যেমন ডেক্সামেথাসন, বেটামেথাসন বা ডেকাসন, প্যারিঅ্যাকটিন অতিরিক্ত মাত্রায় গরুকে সেবন করলে গরুর কিডনি ও যকৃতের কার্যকারিতা নষ্ট হয়। যে কারণে শোষিত হয়ে পানি সরাসরি মাংসে চলে যায়। ফলে গরু মোটা দেখায়। যা মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিল্লোল বিশ্বাস বলেন, এবার পশুর হাট মনিটরিং করা হবে। কেমিক্যাল খাইয়ে গরু মোটাতাজাকরণ কারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, প্রয়োজনে ভ্রাম্যমান আদালত গঠন করা যেতে পারে।