মেইন ম্যেনু

ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ী ঢল

উখিয়ায় বেড়িবাঁধ, সড়ক, উপ-সড়ক ভেঙ্গে তছনছ

কক্সবাজারের উখিয়ায় ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ী ঢলের পানি একাকার হয়ে প্রচন্ড স্রোতের তান্ডবে রেজু খালের ভাঙ্গন বৃদ্ধি পেয়ে কোটবাজার, ইনানী সৈকত সড়ক সহ জনবসতি হুমকির মুখে পড়েছে। পালংখালী ৩ কিলোমিটার নাফ নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে ৫০টিও অধিক চিংড়ি ঘের পানির নিচে তলিয়ে গেছে। গ্রামীণ সড়ক, উপ-সড়ক তছনছ হয়ে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা অচল হয়ে পড়েছে। বীজতলা নষ্ট হয়ে যাওয়ার ফলে চলতি মৌসুমে প্রায় ৮ হাজার একর জমিতে আমন উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা প্রকৌশলী অতি বর্ষণে ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা পরিদর্শন করেছে।

সরেজমিন এ উপজেলা পর্যটন এলাকাখ্যাত জালিয়াপালং ইউনিয়নের খরস্রোতা জোয়ার-ভাটা রেজুখালের রুমখা মনির মার্কেট এলাকা ঘুরে স্থানীয় গ্রামবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, রেজু খালের ভাঙ্গন থেকে সৈকত সড়ক ও জনবসতি রক্ষার জন্য রুমখা মনির মার্কেট এলাকায় কোটি টাকা ব্যয়ে একটি গাইডওয়াল নির্মাণ করে ভাঙ্গন প্রতিরোধের চেষ্টা করা হলেও, উক্ত খাল থেকে নির্বিচারে বালি উত্তোলনের ফলে ভাঙ্গন প্রতিরোধ করা কোনভাবে সম্ভব হচ্ছে না। উপরুন্ত সাম্প্রতিক সময়ের ভারী বর্ষণে জনগুরুত্বপূর্ণ ও দৃষ্টিনন্দন সৈকত সড়কটি খালের গর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। রেজু খাল সংলগ্ন গ্রামের বাসিন্দা নবী হোছন, ফেরদৌস আলম সহ একাধিক লোকজন জানান, রেজু খাল থেকে বালি উত্তোলন বন্ধ করা না হলে সৈকত সড়ক সহ রেজু ব্রিজ ধ্বসে পড়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে রপ্তানিযোগ্য চিংড়ি উৎপাদনে খ্যাত এ উপজেলা পালংখালী ইউনিয়নের নাফ নদীর বেড়িবাঁধটি সরকারিভাবে উন্নয়ন না করার কারণে প্রতি বর্ষা মৌসুমে নাফ নদীর জোয়ারের পানি ও পাহাড়ী ঢলে একাকার হয়ে চিংড়ি চাষীরা তাদের বিনিয়োগকৃত অর্থ ও সহায় সম্বল হারিয়ে চিংড়ি চাষে নিরুৎসাহ হয়ে পড়েছে। পালংখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গফুর উদ্দিন চৌধুরী জানান, সাম্প্রতিক সময়ে বন্যায় প্রায় ১০ কোটি টাকার চিংড়ি ও অন্যান্য মাছ সম্পদ সাগরে ভেসে গেছে। তিন কিলোমিটার এ বেড়িবাধটি উন্নয়নের জন্য কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে একাধিকবার আবেদন নিবেদন করেও কোন কাজ না হওয়ার কারণে এখানকার চিংড়ি চাষে মারাত্মকভাবে ধ্বস নেমেছে।

ভারী বর্ষণে রাজাপালং, পালংখালী, রতপালং, হলদিয়াপালং ও জালিয়াপালং ইউনিয়নের প্রায় ৪৮ কিলোমিটার গ্রামীণ সড়ক তছনছ হয়ে গেছে বলে স্ব স্ব ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন। এছাড়া চলতি মৌসুমে প্রায় ৪শ একর আমন বীজতলা পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ার কারণে আমন চাষাবাদ ব্যাহত হওয়ার শংকা দেখা দিয়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শংকর কুমার মজুমদার জানান, ভারী বর্ষণে বীজতলা নষ্ট হলেও আমন উৎপাদন লক্ষমাত্রা অর্জন করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা সহ কৃষকদের সব রকমের সাহায্য সহযোগীতা প্রদানের মাধ্যমে উৎসাহিত করা হচ্ছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিল্লোল বিশ্বাস জানান, ভারী বর্ষণে ক্ষতিগ্রস্থ এলাকার তথ্য সরবরাহের মাধ্যমে দূর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের মাঠ পর্যায়ে ক্ষয়ক্ষতির বিবরণীর তথ্য সংগ্রহের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।