মেইন ম্যেনু

উচ্চতা না বাড়ার কারণ ও প্রতিকার

আদর্শভাবে কোনো জনগোষ্ঠীর কারও দৈহিক উচ্চতা যদি তার বয়সী স্বাভাবিক বৃদ্ধি সম্পন্ন কোনো মানুষের দৈহিক উচ্চতার ৭০ শতাংশের চেয়ে কম হয়, তাহলে উক্ত ব্যক্তির দৈহিক গ্রোথ স্বাভাবিক হয়নি বা বামনত্ব রোগে ভুগছে। বামনত্ব প্রাপ্তদের দৈহিক উচ্চতা সাধারণত দুই ফুট আট ইঞ্চি (৮১ সে.মি.) থেকে চার ফুট আট ইঞ্চি (১৪২ সে.মি.) হয়। এদের দৈহিক অঙ্গ প্রত্যঙ্গগুলোর বৃদ্ধি উচ্চতা অনুসারে সমানুপাতিক হতে পারে; আবার সমানুপাতিক নাও হতে পারে। জাতিগত কারণে দৈহিক উচ্চতার বিভিন্নতা থাকতে পারে। আবার একই জাতির মহিলারা পুরুষদের তুলনায় সাধারণত খাটো হয়। মোটাদাগে বামনত্ব বা দৈহিক বৃদ্ধি অর্জনে ব্যর্থতার কারণগুলোকে পাঁচ ভাগে ভাগ করা যেতে পারে-

(১) শিশুকাল থেকেই দীর্ঘস্থায়ী রোগে ভোগা, যাতে অপুষ্টির সম্ভাবনা প্রবল থাকে,

(২) বংশগত কারণে বামনত্ব,

(৩) ধীরগতিতে দৈহিক বৃদ্ধি,

(৪) হরমোনজনিত কারণে বামনত্ব। সাধারণত হরমোন ঘাটতির জন্য এ রকম হয়। থাইরয়েড হরমোন নিঃসরণ কমে যাওয়া বামনত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। গ্রোথ হরমোন ঘাটতি আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। পিটুইটারি গ্রন্থির পুরো একটি বা একাধিক হরমোন ঘাটতি বামনত্বের কারণ হতে পারে। সে ক্ষেত্রে রেশমার মতো ঘটনা ঘটবে অর্থাৎ একইসঙ্গে রোগী যৌবন প্রাপ্তি অর্জনে ব্যর্থ হবে; অথবা অনেক পরে যৌবন প্রাপ্ত হবে।

(৫) জিন বা ক্রোমজমাল ত্রুটি।

যেসব বামনের দেহের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সমানুপাতিক হারে ছোট তারা সাধারণত জিনগত ত্রুটির কারণে বামনত্ব লাভ করেছে। এদের হাড়ের বৃদ্ধি বয়সানুপাতিক। সারা পৃথিবীর প্রায় ২.৫ শতাংশ মানুষ বামন। বাংলাদেশের প্রায় সাড়ে আট শতাংশ শিশু কাঙ্ক্ষিত দৈহিক বৃদ্ধি অর্জনে ব্যর্থ হয় (বামন)। তবে বাংলাদেশের এ তথ্যটির ব্যাপক গবেষণা প্রয়োজন। একইসঙ্গে আমাদের দেশের শিশু-কিশোরদের দৈহিক বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়ার কারণগুলোও নিখুঁতভাবে নিরূপিত হওয়া উচিত। সন্তানের বামনত্ব বা দৈহিক বৃদ্ধি অর্জনে ব্যর্থতার সমস্যা নিয়ে কোনো অভিভাবক চিকিৎসকের কাছে গেলে তার পুঙ্খানুপুঙ্খ ইতিহাস জানার চেষ্টা করবে। এর মধ্যে রোগীটির জন্মের অব্যবহিত পরের শারীরিক গঠনসংক্রান্ত তথ্যগুলো থাকবে।

তা ছাড়া বাবা-মাসহ পরিবারের অন্য সদস্যদের পরিণত বয়সে দৈহিক উচ্চতা, দৈহিক বৃদ্ধির হার ইত্যাদিও প্রয়োজনীয় তথ্য। এরপর রোগীটির শারীরিক মাপজোখ প্রয়োজন হবে। সবশেষে কারণভিত্তিক রোগ নির্ণয় করার জন্য এঙ্-রে, রক্তসহ আরও কিছু পরীক্ষার প্রয়োজন হতে পারে। কিন্তু সবার আগে হরমোন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।