মেইন ম্যেনু

উচ্চ মাধ্যমিকে সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে ‘প্রথম’ হওয়া সেই ছাত্রী জেল হাজতে

ভারতের বিহারে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় কলা বিভাগ থেকে সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে ‘প্রথম’ হওয়া রুবি রাইকে গ্রেপ্তার করে জেলে পাঠানো হয়েছে।

পুনপরীক্ষায় ব্যর্থ হলে প্রতারণার অভিযোগে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

বিহারের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার রেজাল্ট বেরনোর পর দেখা যায় বৈশালী এলাকার বিষুণ রায় কলেজের ছাত্রী রুবি প্রথম হয়েছেন।

কিন্তু এক ভিডিও সাক্ষাৎকারে নিজের প্রধান বিষয় পলিটিকাল সায়েন্সকে ‘প্রডিক্যাল সায়েন্স’ এবং এটি রান্না বিষয়ক শিক্ষা দেয় মন্তব্য করে ফেঁসে যান রুবি।

ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে গেলে পুনরায় রুবির পরীক্ষা নেওয়া হয়। পরীক্ষায় ফেল করার পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং কর্তৃপক্ষ তার আগের ফল বাতিল করে।

যারা ‍রুবির পুনপরীক্ষা নিয়েছেন তারা সাংবাদিকদের বলেন, “রুবির পারফমেন্সে তারা হতবাক। যখন তাকে ভারতের জনপ্রিয় কবি তুলসিদাস সম্পর্কে একটি রচনা লিখতে বলা হয়, তখন সে একটি মাত্র বাক্য লিখেছে ‘তুলসি জি প্রণাম’।”

রোববার তাকে আদালতে হাজির করা হয় এবং ম্যাজিস্ট্রেট ৮ জুলাই পর্যন্ত তাকে কারাগারে রাখার নির্দেশ দেন বলে জানিয়েছে বিবিসি।

যদিও আদালতের এ সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা হচ্ছে।

সমালোচকদের যুক্তি, রুবি অপ্রাপ্তবয়স্ক এবং তাকে কিশোর সংশোধনাগারে পাঠানো উচিত ছিল।

সিনিয়র সুপ্রিন্টেডেন্ট অব পুলিশ মানু মহারাজার বরাত দিয়ে স্থানীয় একটি দৈনিকের প্রতিবেদনে বলা হয়, রুবি যে ‘অপ্রাপ্ত বয়স্ক সেটা তাকে প্রমাণ করতে হবে’।

তবে কিভাবে সেটা প্রমাণ হবে সে সম্পর্কে পুলিশের জ্যেষ্ঠ ওই কর্মকর্তা কিছু বলেননি।

অন্যদিকে, বিহারের একজন মন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের শাস্তি না দিয়ে কর্তৃপক্ষের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরো গ্রহণযোগ্য করে তোলা প্রয়োজন।

অন্যান্য বিভাগে প্রথম দিকে থাকা কয়েকজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধেও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে।

যাদের মধ্যে বিজ্ঞানে সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়া সৌরভ শ্রেষ্ঠও রয়েছে। কারণ সে এইচটুও (H2O) পানির সংকেত এটি বলতে পারেনি।

গত বছর বিহারে পরীক্ষা চলকালে অভিভাবকরা স্কুলের সীমানা প্রাচীর বেয়ে উঠে শিক্ষার্থীদের নকল সরবরাহ করছেন এমন একটি ছবি প্রকাশ পায়।

যা বিহার রাজ্য সরকার কে অস্বস্তির মুখে ফেলে দেয়। ফলে এ বছর পরীক্ষায় বেশ কড়াকড়ি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল।

কিন্তু রুবির সাক্ষাৎকারের ভিডিও আসল চিত্র প্রকাশ করে দেয়।