মেইন ম্যেনু

“উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে সমতা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি”

শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, শুধু বাংলাদেশ-ই নির্ধারিত সময়ের তিন বছর আগে শুধু প্রাথমিক নয়, মাধ্যমিক উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে সমতা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি। আমাদের প্রাথমিকে এখন শতকরা ৫১জন মেয়ে, মাধ্যমিকে ৫৩জন মেয়ে। তাতে দেখা যাচ্ছে মেয়েরা এগিয়ে যাচ্ছে। মেয়ে এবং ছেলেদের যে সমান অধিকার শিক্ষায় সমতা নিয়ে আসার জন্য জাতিসংঘের লক্ষ্য ছিল ২০১৫ সালের মধ্যে। মেয়েরা অনেক ভালো লেখা পড়া করে অনেক শৃংখল। শিক্ষকদের চেষ্টায় মেয়েরা এগিয়ে যাবে।

তিনি শনিবার দুপুরে চাঁদপুরের কচুয়া ড. মনসুরউদ্দীন মহিলা কলেজের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।

এসময় তিনি বলেন, একসময় বলা হয়েছিল শেখ হাসিনাকে নৌকায় ভোট দিলে দেশে কোনো মাদ্রাসা থাকবে না। যারা এ কথা বলে ভোট নিয়েছিল তারা একটা মাদ্রাসা বিল্ডিং করেছে দেখাতে পারবে না। আমি সাত বছর ঘুরে বেড়িয়েছি প্রমাণ পাওয়ার জন্য কিন্তু পাইনি। শেখ হাসিনার সরকার ইতোমধ্যে ১ হাজার ৩শ ৩১টি মাদ্রাসার বিল্ডিং তৈরি করেছে।

মন্ত্রী আরো বলেন, মাদ্রাসা ও স্কুল এবং ডিগ্রি কলেজ মাদ্রাসা শিক্ষকদের বেতন সমান করে দিয়েছি। ৩৫টি মডেল মাদ্রাসা করেছি। আমরা মাদ্রসায় অনার্স কোর্স চালু করে দিয়েছি। যা মাদ্রাসার কোনো আলেম স্বপ্নেও ভাবেন নি। আধুনিক শিক্ষা আমরা চালু করে দিয়েছি। মাদ্রাসা থেকে পড়ে কোরআন হাদিস পড়ে যেমনি আলেম হবে, তেমনি পিজিক্স, ক্যামেস্ট্রে পড়ে আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত হবে। তিনিও একদিন অফিসার হবে।
নাহিদ বলেন, শিক্ষককেও মনে রাখতে হবে তাদের জনগণের শ্রদ্ধা ও আস্থা অর্জন করতে হবে। নতুন প্রজন্মকে গড়ে তুলতে নিবেদিত প্রাণ কাজ করতে হবে। এ শিক্ষার্থীরাই আপনাকে সম্মানিত করবে।

কলেজের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি মো: গোলাম হোসেন বলেন, ‘কলেজটি সম্পূর্ণ শিক্ষানুরাগী ব্যবসায়ী ও দানবীরদের সহযোগিতায় চলে এবং এতে আমরা মেয়েদের আধুনিক শিক্ষা দিতে পারছি, এজন্য সকলকে ধন্যবাদ জানাই। আমরা প্রযুক্তি নির্ভর কলেজ গড়ে তুলছি। আমরা চাই আমাদের মেয়েরা সমাজের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠুক।’

শতভাগ ফলাফলে হ্যাটট্রিক করার প্রসঙ্গে কলেজ অধ্যক্ষ তাপসকুমার দত্ত বলেন, ‘কলেজ প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে কলেজ পরিচালনা পর্ষদ ও অভিভাবকদের সহযোগিতা এবং শিক্ষকদের আপ্রাণ চেষ্টার মাধ্যমে এ অর্জন সম্ভব হচ্ছে, এবং এর ধারাবাহিকতা রক্ষা করা যাচ্ছে। ’

কলেজের প্রতিষ্ঠাতা সাবেক রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান গোলাম হোসেনের সভাপত্বি অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর, পুলিশ সুপার শামছুন্নাহার প্রমুখ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন কলেজ অধ্যক্ষ তাপস কুমার দত্ত।
অনুষ্ঠানে কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সদস্য, চাঁদপুর ও কুমিল্লা জেলা প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাসহ অনেক শিক্ষানুরাগী, জনহিতৈষী ব্যক্তি ও এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।

একনজরে ড. মনসুরউদ্দীন মহিলা কলেজ প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে শিক্ষার আলোকবর্তিকা হয়ে উঠেছে চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার ড. মনসুর উদ্দীন মহিলা কলেজ। সাফল্যের ধারাবাহিকতায় এবারও ঈর্ষণীয় ফল এনে দিয়েছে কলেজটির একঝাঁক মেধাবী শিক্ষার্থী। পরপর চারবছর ধারাবাহিকভাবে পাসের হার প্রায় শতভাগ রেখে জেলারশীর্ষে এ কলেজটি।

 

২০১০ সালে কলেজটি শিক্ষামন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পায়। ২০১০-১১ সাল থেকে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। ২০১২ সালে প্রমবারের মতো শিক্ষার্থীরা উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। ফলাফল শতভাগ পাস। ফলাফলের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০১২ সালে ৬২ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। ছয়জন ‘এ’ প্লাস আর ২৯ জন ‘এ’ গ্রেডসহ সবাই পাস করে। ২০১৩ সালে ৯৯ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। ১০ জন ‘এ’ প্লাস ও ৬০ জন ‘এ’ গ্রেডসহ শতভাগ পাস। ২০১৪ সালের পরীক্ষায় ৭৬ জন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে, ১২ জন ‘এ’ প্লাস এবং ৪৯ জন ‘এ’ গ্রেডসহ সবাই পাস করে। সর্বশেষ ২০১৫ সালে পরীক্ষা দেয় ৮৪ জন। এর মধ্যে একজন পেয়েছে ‘এ’ প্লাস, ৩৩ জন ‘এ’ গ্রেড, ২০ জন ‘এ’ সহ সবাই পাস করেছে।

chandpur m.c-5

বাংলা লোকসাহিত্য সংগ্রাহক ও ‘হারামণি’ গ্রন্থের সংকলক অধ্যাপক মোহাম্মদ ড.মুহম্মদ মনসুর উদ্দীনের নামানুসারে সরকারের সাবেক সচিব ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. গোলাম হোসেনসহ স্থানীয় শিক্ষানুরাগীদের প্রচেষ্টায় ২০০৯ সালে কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হয়। একমাত্র গুনগত শিক্ষাই আলোকিত সমাজ দিতে পারে- এই মূলমন্ত্র নিয়ে নারীদের ক্ষমতায়ন প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়নিয়ে কলেজটি যাত্রা শুরু করে। চাঁদপুর জেলাশহর থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে কচুয়া উপজেলার ১০নং গেট (উ.) ইউনিয়নের প্রত্যন্ত হাসিমপুর গ্রামে (রহিমা নগর মাধাইয়া উপ-আঞ্চলিক সড়কের পাশে) প্রায় তিন একর জায়গার উপর কলেজটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি কলেজের কাজ-কর্ম সার্বিক ভাবে দেখাশুনা করেন। এ কলেজে শিক্ষার্থীদের বই, পোষাক-পরিচ্ছদ বিনামূল্যে দেওয়া হয়। অবৈতনিক এই কলেজে রয়েছে একটি আধুনিক বিজ্ঞানাগার ও দশসহ¯্রাধিক বইনিয়ে গ্রস্থাগার, ২৫টি কম্পিউটার নিয়ে ওয়াইফাইসহ আধুনিক তথ্য প্রযুক্তি ল্যাব, ৬টি কম্পিউটার ও ইন্টারনেট সুবিধানিয়ে সাইবার কর্ণার, ৫টি মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরসহ শ্রেণীকক্ষ রয়েছে। বর্তমানে কলেজ অধ্যক্ষসহ ৩০ জনশিক্ষক এবং ১ম ও ২য় বর্ষে মোট ৪০০ এর অধিক শিক্ষার্থী রয়েছে। কলেজটির তিনটি প্রশাসনিক ভবন রয়েছে। আছে ৬০০ আসন বিশিষ্ট অডিটোরিয়াম। দূরের শিক্ষার্থীদের থাকারজন্য তৈরি করা হয়েছে ১২০ আসন বিশিষ্ট আধুনিক ছাত্রীনিবাস। গরীব ও মেধাবী ছাত্রীদের জন্য রয়েছে ফুডসাবসিডি। কলেজটি একটি প্রত্যন্ত গ্রামে প্রতিষ্ঠিত হলেও সারাদেশের মেয়েরাই এখানে পড়ছে।

 

প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে শতভাগ পাসের পেছনে প্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে পরিচালনা পর্ষদ ও অধ্যক্ষসহ শিক্ষকমন্ডলীর নিয়মতান্ত্রিক মানসম্মত শিক্ষাব্যবস্থা।

কলেজ অধ্যক্ষ তাপসকুমার দত্ত বললেন, প্রথমে ভর্তি ছাত্রীদের ৩০ দিনক্লাস নেওয়ার পর প্রতিবিষয়ে ৫০ নম্বরের একটি বিশেষ পরীক্ষা নিয়ে থাকেন। ওই পরীক্ষার ফলাফল দুইভাগে ভাগ করেন। তার পর মেধাবীদের নিয়ে একটি বিশেষ মনিটরিং ও দ্বিতীয় ধাপের শিক্ষার্থীদের নিয়ে পৃথক মনিটরিং ব্যবস্থা রাখা হয়। এতে বিশেষ ধরনের শিক্ষাকাঠামো তৈরি হয়। প্রতি ১৫ জনে একজন শিক্ষক মনিটরিংয়ের দায়িত্ব পালন করেন। সকল পরীক্ষার উত্তরপত্র অভিভাবকের কাছে প্রেরণকরে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। ১৫ জনশিক্ষার্থীদের নিয়ে নদীর নামে দল গঠন করা হয়। এতে শিক্ষার পাশাপাশি ওই গ্রুপভিত্তিক খেলাধুলা করানো হয়। বছরে অন্তত ছয়টি টিউটোরিয়াল পরীক্ষা ও চারবার অভিভাবক সমাবেশ হয়ে থাকে। শিক্ষাবর্ষে দুইবার প্রোগ্রেসিভ রিপোর্ট পাঠিয়ে অভিভাবকদের সচেতন করানো হয়। তারপর টেস্ট পরীক্ষা, ফেল করলে তাকে আর ফরম পূরণের সুযোগ দেওয়া হয়না।