মেইন ম্যেনু

উজিরপুরে ঘুমন্ত শিশু হত্যা

বরিশালের উজিরপুর উপজেলার হস্তিশুন্ড গ্রামের ঘুমন্ত আট মাসের শিশু কন্যা মরিয়ম হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার ৪০ দিন পেরিয়ে গেলেও পুলিশ এখনও কোন আসামীকে গ্রেফতার করতে পারেনি। উল্টো মামলার আপোষ করার জন্য পুলিশ ও আসামীরা একত্রে বাদীকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ এলাকায় নানা অপবাদ রটিয়ে বেড়াচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

নিহত শিশুর পিতা ইমরান হোসেন অভিযোগ করেন, একই বাড়ির প্রভাবশালী জামায়াত নেতা আবু বক্কর সেলিম মিয়া ও তার সহযোগীরা পূর্ব বিরোধের জেরধরে গত ১৮ আগস্ট রাতে তার আট মাসের ঘুমন্ত শিশু কন্যা মরিয়মকে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করে। এ ঘটনায় ইমরান বাদী হয়ে ৫ জনকে আসামি করে উজিরপুর থানায় মামলা দায়ের করেন এবং আসামীদের গ্রেফতারসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে এলাকাবাসিরা একাধিক বার মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচী পালন করেছেন।

মরিয়ম হত্যা মামলার প্রধান আসামী ও জামায়াতের প্রভাবশালী নেতা আবু বক্কর সেলিম হস্তিশুন্ড এলাকায় প্রকাশ্যেই একাধিক বার দম্ভোক্তি প্রকাশ করে বলেছেন থানাপুলিশকে ২ লাখ টাকা দেবো এবং পুলিশের মাধ্যমেই কৌশলে এ হত্যা মামলা বাদী ইমরানকে দিয়ে প্রত্যাহার করিয়ে নেব।

প্রধান আসামীর এ দম্ভোক্তির কারনেই মামলা দায়েরের পর থেকে থানা পুলিশ মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে আসামীদের পক্ষাবলম্বন করে নিহত শিশুর পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদের নামে বিভিন্ন ধরনের হয়রানী করে আসছেন।

এছাড়াও আসামীদের সাথে মামলাটি আপোষ করার জন্য থানা পুলিশের পক্ষ থেকে তাকে বিভিন্ন ধরনের চাঁপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার পর থেকে আত্মগোপনে থাকা আসামীরা ঈদেরদিন (শুক্রবার) বাড়িতে ফিরে মামলা উত্তোলনের জন্য তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন ধরনের হুমকী প্রদর্শন অব্যাহত রেখেছে।

এছাড়াও চাঞ্চল্যকর এ মামলাটি ভিন্নখাতে প্রভাবিত করার জন্য আসামীরা ইমরানের স্ত্রী ফাতেমা বেগমের (২২) বিরুদ্ধে মিথ্যে পরকীয়ার অভিযোগ তুলে এলাকায় অপপ্রচার রটিয়ে দিয়ে তাকেও আত্মহত্যায় প্ররোচিত করতে থাকে, এ ঘটনার ধারাবাহিকতায় মিথ্যে অপবাদ সইতে না পেরে ইতোমধ্যে বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্ঠা করে নিহত শিশুর মা ফাতেমা।

একমাত্র শিশু সন্তানকে হত্যাকারী সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে অসহায় ইমরান বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ও মামলাটি ডিবি পুলিশের কাছে হস্তান্তরের জন্য প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ বিষয়ে উজিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) মোঃ ফারুক খান জানিয়েছেন এখানে টাকা পয়সা লেনদেনের কোন বিষয় নেই তবে শিশু মরিয়ম হত্যাকান্ড নিয়ে পুলিশের কাছে একটু সন্দেহ থাকায় নিহতের পরিবারের সদস্যদের ২ দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে মাত্র ।