মেইন ম্যেনু

উত্তেজনা নিরসনে ভারত-পাকিস্তান ফোনালাপ

চলমান উত্তেজনা নিরসনে ভারত ও পাকিস্তানের নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের মধ্যে ফোনালাপ হয়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা সারতাজ আজিজ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরের উরিতে সেনাঘাঁটিতে হামলা এবং পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরে ভারতের ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’-এর পর দুই দেশের নিয়ন্ত্রণ রেখায় চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষিতে উভয় দেশের নিরাপত্তা উপদেষ্টারা পরস্পরের সঙ্গে কথা বললেন।

ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোবাল ও পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা নাজির জানুয়া নিয়ন্ত্রণ রেখায় চলমান উত্তেজনা নিরসনে একমত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন সারতাজ আজিজ। তিনি বলেন, ‘নিয়ন্ত্রণ রেখায় উত্তেজনা নিরসন করে কাশ্মিরে মনোযোগ দিতে চায় পাকিস্তান।’

এদিকে, রবিবার রাতে স্থানীয় স্টেডিয়াম কলোনিতে ৪৬ রাষ্ট্রীয় রাইফেলস-এর ব্যাটালিয়ন হেড কোয়ার্টারে হামলার পর ভারতজুড়ে সার্চ অপারেশন শুরু হয়। হামলায় এক বিএসএফ সদস্য নিহত ও অপর একজন আহত হয়েছেন। আহত জওয়ান রাষ্ট্রীয় রাইফেলস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তার অবস্থা আশঙ্কামুক্ত।

কর্মকর্তা জানান, জঙ্গিরা শেষ রাতের দিকে হামলা চালায়। তিন ঘণ্টা ধরে গোলাগুলি চলে। তবে রাত ১টার পর আর কোনও গুলির ঘটনা ঘটেনি।

এদিকে, সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে কোনও হামলাকারী নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করা হয়নি। একজন জ্যেষ্ঠ সেনা কর্মকর্তা দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে জানিয়েছেন, হামলাকারীরা রাতের অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে হয়তো পালিয়ে থাকতে পারে। তবে এর আগে দ্য হিন্দু জানিয়েছিল, গোলাগুলির সময় দুই হামলাকারী নিহত হয়েছে। সোমবার সকালে হামলাকারীদের গ্রেফতারে সার্চ অপারেশন শুরু হয়েছে।

এছাড়া, সোমবার সকালেও নিয়ন্ত্রণ রেখায় ভারত-পাকিস্তানের গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটেছে।

ভারত-পাকিস্তানের চলমান উত্তেজনা নিরসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও আহ্বান জানিয়ে আসছে। রবিবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জানিয়েছেন, ভারত কখনও কোনও দেশ আক্রমণ করেনি।

বারামুল্লাহ জেলারই উরি সেনাছাউনিতে গত ১৮ সেপ্টেম্বর সন্ত্রাসী হামলায় ১৯ ভারতীয় সেনা নিহত হয়। দুই সপ্তাহের মধ্যে ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরে আবারও এমন ঘটলো। এই হামলাটি এমন সময় হলো, যখন ভারতীয় সেনাবাহিনীর দাবি অনুযায়ী, বুধবার রাতে নিয়ন্ত্রণ রেখা পেরিয়ে ভারতের সেনারা সন্ত্রাসী ঘাঁটিগুলোতে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক চালিয়েছে। ওই অভিযানে ৯ পাকিস্তানি সেনা ও ৩৫ থেকে ৪০ জঙ্গি নিহত হয়েছে বলে ভারতের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। পাকিস্তান দাবি করে আসছে, এটি সার্জিক্যাল স্ট্রাইক ছিল না, সীমান্ত সংঘর্ষ বা আন্তঃসীমান্ত গোলাগুলির ঘটনা ছিল। এতে তাদের দুই সেনা নিহত হয়েছে। দাবির সপক্ষে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোতে প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়েছে। তবে পাকিস্তান ভারতের এই দাবিকে মিথ্যে দম্ভ হিসেবে উল্লেখ করেছে। তারাও গণমাধ্যমকে ব্যবহার করতে চাইছে অভিযানকে মিথ্যে প্রমাণের জন্য।

এর আগে শনিবার (০১ অক্টোবর) জম্মু-কাশ্মির সীমান্তের নিয়ন্ত্রণরেখা এবং এর আশপাশ ঘিরে চলমান উত্তেজনায় ভারত ও পাকিস্তান, দুই দেশের সেনাপ্রধানের সুরেই যুদ্ধের আভাস পাওয়া গেছে। পাকিস্তানি সেনাপ্রধানের পক্ষ থেকে ভারতের সম্ভাব্য সব রকমের আঘাতের সমুচিত জবাব দেওয়ার হুমকির পর পাকিস্তানের সীমান্তে যুদ্ধপ্রস্তুতির আলামত, এবং এ নিয়ে সেনাপ্রধানের সন্তুষ্টির খবর পাওয়া গেছে। ওদিকে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, সেনাবাহিনীর উত্তরাঞ্চলের কমান্ড (নর্দার্ন কমান্ড) পরিদর্শন করতে গিয়ে ভারতীয় সেনাপ্রধান যেসব পদক্ষেপ নিয়েছেন, সেগুলোও যুদ্ধের প্রস্তুতিকেই ইঙ্গিত করে। দুই দেশের সীমান্তে সেই যুদ্ধের আলামতও পাওয়া গেছে। সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, দ্য হিন্দু, এনডিটিভি, জিও টিভি।