মেইন ম্যেনু

উন্নয়নে দেশবাসীর সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী

উন্নয়নের ধারা এগিয়ে নিতে দেশবাসীর সর্বাত্মক সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সরকারের দুই বছর পূর্তিতে জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষণে তিনি এই আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ দেশকে স্বাধীনতা দিয়েছে, গণতন্ত্র দিয়েছে। যখনই সরকার গঠন করেছে তখনই উন্নয়ন করেছে। ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ মধ্য আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে হবে বলেও আত্মবিশ্বাসী প্রথানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের এক ঐতিহাসিক দিকসন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। আসুন, দল-মত ও বিভক্তির উর্ধ্বে উঠে এই উন্নয়ন অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখি। দেশকে ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করি’।

ভাষণে প্রধানমন্ত্রী দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বানচালে বিএনপি-জামায়াত জোটের আন্দোলনে নাশকতা, নির্বাচনের এক বছর পূর্তিতে বিএনপি-জামায়াত জোটের আন্দোলন, সরকারের উন্নয়ন প্রকল্প, যুদ্ধাপরাধের বিচার, ভবিষ্যত পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল ২০০৯ সালে। কিন্তু সাত বছরে ব্যাপক উন্নয়নের কারণে এখন বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল বাংলাদেশ।

বিএনপি-জামায়াত জোটের ভোটবিরোধী আন্দোলনকে ১৯৭১ সালে পাকিস্তানী বাহিনী ও তাদের দোসরদের নির্মমতার সঙ্গে তুলনা করেন শেখ হাসিনা। বলেন, আন্দোলনের নামে পেট্রোলবোমায় ২৩১ জন মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। আহত হয় ১ হাজার ১৮০ জন আহত হয়। ২ হাজার ৯০৩ টি গাড়ি, ১৮টি রেল গাড়ি ও ৮টি লঞ্চে আগুন দেয়। ৭০টি সরকারি অফিস ও স্থাপনা ভাঙচুর এবং ৬টি ভূমি অফিস পুড়িয়ে দেওয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে ৬.৫ শতাংশ। এর আগের ৫ বছরে গড় প্রবৃদ্ধি ছিল ৬.২ শতাংশ। বিশ্ব অর্থনীতিতে অধিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের দিক থেকে পঞ্চম স্থানে বাংলাদেশ। এই সময় মাথাপিছু আয় ছিল ৫৪৩ ডলার থেকে বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ৩১৪ ডলারে। ৫ কোটি মানুষ নিম্ন-আয়ের স্তর থেকে মধ্যম আয়ের স্তরে উন্নীত হয়েছে। দারিদ্র্যের হার ৪১.৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২২.৪ শতাংশ হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৬ সালে অতিদারিদ্র্যের হার ছিল ২৪.২ শতাংশ। তা এখন ৭.৯ শতাংশে নেমে এসেছে। এই সময় দেশে সরকারি ও বেসরকারিভাবে দেড় কোটি মানুষের চাকরি হয়েছে। আর বিদেশে কর্মসংস্থান হয়েছে ৩৫ লাখ ৭৫ হাজার ৩৪৮ জন কর্মীর ।

২০২১ সালের মধ্যে ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেয়ার ঘোষণাও দেন প্রধানমন্ত্রী। দেশের উন্নয়নে সারাদেশে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার কথাও জানান তিনি। ঢাকায় হাতিরঝিল প্রকল্পসহ বেশ কিছু উড়াল সেতুর উদ্বোধনের কথা বলে অচিরেই মগবাজার-মালিবাগ উড়ালসেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হবে বলেও জানান তিনি।

পদ্মাসেতু দিয়ে ২০১৮ সালের মধ্যে পদ্মা সেতু দিয়ে যানবাহন চলাচল করবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। বলেন, এই সেতু হলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১টি জেলার মানুষের ভাগ্যের উন্নয়ন হবে, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ শিল্প স্থাপনা বাড়বে। কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। মাওয়া, শিবচর ও জাজিরাকে ঘিরে আধুনিক স্যাটেলাইট শহর গড়ে তোলার ঘোষণাও দেন তিনি।



« (পূর্বের সংবাদ)