মেইন ম্যেনু

উপকূলের ঝাউবাগান কর্তন অব্যাহত, প্রশাসন নির্বিকার

মোঃ আমান উল্লাহ, কক্সবাজার : নির্বিচারে উপকুলীয় বনের গাছ কর্তন হচ্ছে। উপকূলের সবুজ বেষ্টনী খ্যাত ঝাউবাগান এখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌছেছে। প্রাকৃতিক দূর্যোগে জানমাল রক্ষায় সৃজিত ঝাউবাগান উজাড় হয়ে যাওয়ার ফলে অদূর ভবিষ্যতে সৃষ্ট প্রাকৃতিক দূর্যোগে উপকূলীয় জনজীবন বিপন্নের আশংকা করছেন পরিবেশবাদীরা।

সূত্রমতে ১৯৯১ সনের প্রলয়ংকারী ঘূর্ণিঝড় ও জ্বলোচ্ছাসের তান্ডবে কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন উপকূলীয় এলাকায় ব্যাপক জানমালের ক্ষয়ক্ষতির নিরিখে তৎকালীন জেলা প্রশাসন উপকূলীয় এলাকায় ঝাউবাগান সৃজন করার উদ্যোগ নিয়ে তা যথা সময়ে বাস্তবায়ন করেন।

সরেজমিন উখিয়া উপকূলে চোয়াংখালী এলাকা ঘুরে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রতি বর্ষা মৌসুমে জোয়ারের তোড়ে সমুদ্র তীরবর্তী এলাকা সমূহের ঝাউগাছ গুলো পড়ে যায়। স্থানীয় বনকর্মীরা পড়ে যাওয়া কিছু কিছু গাছ উদ্ধার করলেও অধিকাংশ গাছ লোকজন নিয়ে যাচ্ছে। সাবেক ইউপি সদস্য জাহেদুল আলম জানান, প্রতিরাতে ৭/৮টি করে বড় বড় ঝাউগাছ কর্তন করা হলেও বনকর্মীরা সম্পূর্ণ উদাসীন। ইউপি সদস্য মোজাম্মেল হক জানান, ঝাউবাগান দখল করে বসবাসরত অবৈধ রোহিঙ্গা নাগরিক ও স্থানীয় যেসব পরিবার ঝাউবাগানে স্থায়ী ভাবে বসবাস করছে তাদের মাধ্যমে ঝাউগাছ কর্তন ও পাচার করা হচ্ছে।

একাধিক লোকজন জানায়, পানের বরজ, বাড়িঘর নিমার্ণ কাজে এসব ঝাউগাছ ব্যবহার ও বাজারজাত করা হলেও বনকর্মীরা তা দেখেও দেখছে না। যেকারণে চোয়াংখালী থেকে মনখালী পর্যন্ত উপকূল এখন ঝাউগাছ শূণ্য হয়ে পড়েছে।

উখিয়া উপজেলা নদী পরিব্রাজক সংগঠনের উপদেষ্টা কবি আদিল উদ্দিন চৌধুরী জানান, উপকূলের পরিবেশ এখন সম্পূর্ণ অরক্ষিত হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, যারা বন রক্ষায় নিয়োজিত তারাই বন ধ্বংস করছে। সুতরাং ঝাউগাছ নিধন হলে উপকূলের যে অপূরণীয় ক্ষতির আশংকা করা হচ্ছে তার জন্য বনবিভাগকে দায়ীভার বহন করতে হবে।

এব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে ইনানী বন রেঞ্জ কর্মকর্তা ব্রজগোপাল রাজ বংশী জানান, ঝাউগাছ কর্তনের অপরাধে তারা বেশ কয়েকটি মামলা করেছে। তিনি বলেন, রাতের বেলায় ঝাউগাছ কর্তন করার কারণে কাউকে সরাসরি সনাক্ত করার সম্ভব হচ্ছে না বিধায় অপরাধীরা পার পেয়ে যাচ্ছে। ইনানী বনরক্ষা সহায়ক কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী বলেন, উপকূলে পর্যটন পরিবেশ রক্ষার ব্যাপারে মাসিক সভায় বহুমুখী সিদ্ধান্ত গৃহিত হলেও কার্যত তা বাস্তবায়ন হচ্ছে না।

এদিকে টেকনাফ উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, আগামী শুষ্ক মৌসুমে টেকনাফ সাবরাং থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত উপকূলীয় এলাকায় প্রায় ২ হাজার নারীকেল চারা রোপন করা হবে। টেকনাফ উপজেলা কৃষি অফিসার শফিউল ইসলাম জানান, ডোয়াপ জাতের এসব নারিকেল গাছ ৩ বছরে নারিকেল উৎপাদনের পাশাপাশি উপকূলের ভাঙ্গন রক্ষায় একটি টেকসই প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।