মেইন ম্যেনু

উপস্থিত বুদ্ধি খাটিয়ে, কাগজ-কলম দিয়ে রুগিকে বাঁচালেন দুই ডাক্তার!

সেনাবাহিনীতে যেমন অফ ডিউটি বলে কিছু হয় না, একই কথা যেন খাটে ডাক্তারদের ক্ষেত্রও৷ যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলা করতেই তারা যেন তৈরি৷ কেননা মানুষের শরীর আল্লাপ্রদত্ত, কিছু অসুস্থকে সুস্থ করে তোলার গুরুদায়িত্ব তাদের কাঁধেই৷ আর সে কাজে যে কোনো বিরতি বা অবসর হয় না, সে কাজও যে করতে হয় যুদ্ধকালীন তৎপরতায়, সম্প্রতি তার নমুনা দেখালেন দুই তরুণী চিকিৎসক৷

ডাঃ সাবিত্রী দেবী ও ডাঃ ফৈজা আঞ্জুম তাদের অন্যান্য বন্ধুদের সঙ্গে ট্রেক করে ফিরছিলেন ভারতের অনন্তগিরি থেকে৷ একটা রেস্তোরাঁর সামনে এসে সকলে নেমেছিলেন বিশ্রাম নিতে৷ অন্যান্য ডাক্তাররা যখন রেস্তোরাঁর ভিতরে, তখন সাবিত্রী, ফৈজা তাদের ড্রাইভারের মুখে শুনতে পান, কাছেই একটি দুর্ঘটনা ঘটেছে৷ তক্ষুণি সেখানে ছুটে যান তারা৷ দেখতে পান মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন এক যাত্রী৷ কিন্তু হাসপাতাল পর্যন্ত নিয়ে যেতে গেলে অনেক দেরি হয়ে যাবে৷ প্রাণ বাঁচানো যাবে কি না তা নিয়ে সংশয়৷ অ্যাম্বুল্যান্স আসতেও খানিকটা সময় লাগবে৷

আর এ অবস্থায় নিজেদের সিদ্ধান্ত নিতে একটুও সময় নিলেন না দুই তরুণী ডাক্তার৷ হাতের কাছে ছিল বলতে স্রেফ খবরের কাগজ আর কলম৷ কিন্তু তাতে দমে তো যাননি, বরং দারুণ উপস্থিত বুদ্ধির পরিচয় রেখেছেন তারা৷ পেন ও কাগজ দিয়েই প্রায় ২৫ মিনিট ধরে সিপিআর বা কার্ডিওপালমোনারি রিসাসিটেশনের ব্যবস্থা করেন তারা৷ মরণাপন্ন রোগীর ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি অবলম্বন করেই প্রাণ বাঁচানো হয়৷ ততক্ষণে চলে এসেছে অ্যাম্বুল্যান্স৷ হাসপাতালে পাঠানো হয় ওই ব্যক্তিকে৷ অবশেষে প্রাণ ফিরে পান তিনি৷

কিন্তু সেই মুহূর্তে দুই তরুণী ডাক্তার এগিয়ে না হলে হয়তো কোনোকিছুই সম্ভব হত না৷ চিকিৎসকদের দায়িত্ব যে কতখানি তা যেন দেখিয়ে দিলেন এই তরুণী দু’জন ডাক্তার৷