মেইন ম্যেনু

উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতায় যুক্ত হচ্ছে ব্যবসায়ীরাও

বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল এবং ভুটানকে সঙ্গে নিয়ে একটি বৃহৎ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলতে চাইছে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো। এজন্য সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরাকারি পর্যায়েও উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়ানোর পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশে বেসরকারি খাতকে এ উদ্যোগে জড়িত হতে সহায়তা করার জন্য একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করতে যাচ্ছে সরকার। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে চিঠি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান ।

জানা গেছে, বাণিজ্যছাড়া জ্বালানি বিদ্যুৎ খাতে ভারত-বাংলাদেশ ও ভারত-নেপাল-ভুটানের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সহায়তা রয়েছে। সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি পর্যায়েও সহযোগিতা রয়েছে। এই দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা উপআঞ্চলিক রূপ দিতে দীর্ঘদিন থেকে আলোচনা চলছে।

গত বছর ৭ জুন বাংলাদেশ ভারতের প্রধানমন্ত্রীর যৌথ ইশতেহার, ২০১১ সালের ৬ সেপ্টেম্বরের উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতার কাঠামো স্মারক, ভারতের প্রধানমন্ত্রীর গেল বছর বাংলাদেশ সফরকালে যৌথ বিবৃতি ও তার বক্তৃতা সার্কভুক্ত দেশেগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরো গভীর করেছে। নানা ইস্যুতেই এখন ভারত ও বাংলাদেশের সঙ্গে নেপাল ও ভুটানকে সম্পৃক্ত করা যায়।

মসিউর রহমান গত ২ ফেব্রুয়ারি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত, শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্য মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, সড়ক পরিবহন এবং সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান, পররাষ্ট্র মন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, রেলপথ মন্ত্রী মুজিবুল হক এবং বিদ্যুত জ্বালানি এবং খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর কাছে এই পত্র পাঠান দেন। তিনি কমিটি গঠন বিষয়ে কোনো আপত্তি বা পরামর্শ থাকলে জানানোর অনুরোধ করেছেন।

এদিকে বিশেষ করে ভারতের সঙ্গে বেসরকারি খাতের সহযোগিতা অনেক এগিয়েছে। নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের সময় দেশেটির প্রতিষ্ঠিত আদানি পাওয়ার লিমিটেড এবং রিলায়েন্স গ্রুপ বাংলাদেশ বিদ্যুতখাতে বিনিয়োগের প্রস্তাব নিয়ে আসে। ওই সময় বাংলাদেশ বিদ্যুত উন্নয়ন বোর্ড পিডিবির সঙ্গে সমঝোতা স্মারকও (এমওইউ) স্বাক্ষর করে তারা। ভারতীয় কোম্পানি জিএমআরসহ বিভিন্ন কোম্পানি নেপাল এবং ভুটানে বিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণ করছে৷ ভারতের প্রতিষ্ঠিত শিল্প গ্রুপ টাটা বাংলাদেশে পৃথক একটি শিল্প পার্ক স্থাপনের জন্য সরকারের কাছে জমি বরাদ্দ চাইছে। বাংলাদেশের কোম্পানি সামিট পাওয়ার ভারতে বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছিল। বাংলাদেশের পোশাক শিল্পর জন্য ভারতের গুজরাটে জমি দেয়ার কথা ঘোষনা করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী মোদি। এছাড়াও প্রাণসহ অনেক শিল্পগ্রুপ নিজ উদ্যোগে ভারতে বিনিয়োগ করেছে ৷ সরকারি পর্যায়ে সহায়তা পেলে এ সহযোগিতা অারও সম্প্রসারিত হবে বণেবলছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যের দ্বিপাক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ বর্তমানে ৭০০ কোটি ডলার ৷ ২০১৮ সালে তা এক হাজার কোটি ডলারে উন্নীত হবে। যদিও দ্বিপাক্ষীয় বাণিজ্যর প্রায় সবটাই ভারতের অনুকূলে। যেখানে বিপুল পরিমান ঘাটতিতে রয়েছে বাংলাদেশ। তবে ভারত বাংলাদেশের মধ্যে নতুন নৌরুট চালু হওয়ায় পন্যপরিবহন সহজতর হয়েছে। বর্তমানে ২৫টি পণ্য (তামাক ও মাদকজাতীয় পণ্য) ছাড়া সব পণ্যেই বাংলাদেশকে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার সুবিধা দিয়েছে ভারত ৷ এতে বাণিজ্য সম্প্রসারণের বড় সুযোগ এসেছে ৷ সরকারি সহায়তায় বেসরকারি বণিজ্য বাড়লে আমাদের বিশাল বাণিজ্য ঘাটতি কমে আসবে বলে মনে করা হচ্ছে।

ভারত বাংলাদেশে প্রধানত তুলা, চিনি, খাদ্যশস্য, গাড়ি, কাপড়, মাছ, খনিজ জ্বালানি, লবণ ও সিমেন্ট রপ্তানি করে থাকে। অন্যদিকে বাংলাদেশ থেকে ভারতে প্রধানত কাঁচা পাট ও পাটপণ্য, হিমায়িত খাদ্য, কৃষিপণ্য, রাসায়নিক পণ্য, চামড়া, নিট ও ওভেন পোশাক এবং চা রপ্তানি হয়৷

এর বাইরে নেপাল এবং ভুটানেও বাণিজ্যের সম্প্রসারণ করাও সম্ভব। দেশ দুটিতে বাংলাদেশের ওষুধ, প্রসাধন সামগ্রির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। উদ্যোক্তারা বলছেন, সরাসরি রাষ্ট্রীয় আনুকূল্য এবং সহায়তা পেলে এসব দেশে বাণিজ্য সম্প্রসারণ করা সম্ভব ৷