মেইন ম্যেনু

উৎপাদন খরচ কমলেও কমছে না বিদ্যুতের দাম

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমানোর ফলে বিদ্যুতের ইউনিটপ্রতি উৎপাদন খরচ ৬৭ পয়সা কমেছে। তবে উৎপাদন খরচ বিক্রয় মূল্যের চেয়ে এখনও বেশি থাকায় এই মুহূর্তে বিদ্যুতের দাম কমছে না।

রোববার জাতীয় সংসদের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুস্তম আলী ফরাজীর প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এসব তথ্য দেন। তিনি জানান, জ্বালানি তেলের দাম কমানোর ফলে বিদ্যুতের ইউনিটপ্রতি উৎপাদন খরচ ৬ টাকা ২৭ পয়সা থেকে কমে ৫ টাকা ৬০ পয়সায় দাঁড়িয়েছে। কিন্তু বিদ্যুতের বিক্রয় মূল্য অপেক্ষা উৎপাদন খরচ এখনও ৭০ পয়সা বেশি। যে কারণে আপাতত বিদ্যুতের দাম কমানোর কোনো পরিকল্পনা নেই।

সামশুল হক চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি থেকে বছরে ১০ লাখ টন কয়লা উৎপাদন হচ্ছে। উৎপাদিত কয়লার ৬০ থেকে ৬৫ শতাংশ বড়পুকুরিয়া ২৫০ মেগাওয়াট তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে সরবরাহ করা হচ্ছে। এই কেন্দ্রে ২৭৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন আরও একটি ইউনিট স্থাপনের কাজ চলমান। এ ছাড়া দিঘীপাড়া কয়লাক্ষেত্র উন্নয়ন ও উৎপাদনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এই খনি থেকে বছরে ৩০ লাখ টন কয়লা উৎপাদন সম্ভব হবে এবং এই কয়লা দিয়ে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে।

এম আবদুল লতিফের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার স্বল্প খরচে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় জ্বালানি তেল সরবরাহের জন্য ২৪০ কিলোমিটার পাইপলাইন তৈরির পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। পাইপলাইন তৈরির সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পর্যায়ে রয়েছে। আগামী তিন বছরের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে বলে আশা করা যায়।

গাজী ম ম আমজাদ হোসেনের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এই পরিকল্পনার আওতায় ২০২১ সালে ২৪ হাজার মেগাওয়াট, ২০৩০ সালে ৪০ হাজার এবং ২০৪১ সালে ৬০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এ ছাড়া ২০২১ সালের মধ্যে বিদ্যুতের সঞ্চালন লাইন ১৯ হাজার সার্কিট কিলোমিটারে উন্নীত করা হবে।