মেইন ম্যেনু

উড়ন্ত ডাইনোসরের গল্প

ডাইনোসর বলতে আমরা টিকটিকির মতো অতিকায় দানবকে বুঝি। দুই পায়ে ভর দিয়ে চলে। সামনেও দুটো পা আছে। সেই পা পেছনের পায়ের তুলনায় খুব ছোট। তাই ওই পা দুটো ডাইনোসরের কোনো কাজেই লাগত না। কিন্তু একবার কল্পনা করুন তো সামনের পায়ের বদলে ডাইনোসরের দুটো বিশাল ডানা থাকত। সেই ডানায় থাকত পালক। তাহলে কী হতো? ডাইনোসর পাখির মতো উড়ে বেড়াত।

হলিউডের বিখ্যাত ছবি অ্যাভাটরে এমন ধরণের প্রাণি দেখার দেখা মেলে। আদৌ কি এমন পাখি ছিল। বিজ্ঞানীরা বলছেন ছিল। ডাইনোসর যুগের সেই পাখির ছিল ডায়াট্রিমা। চেহারা একেবারে ডাইনোসরের মতো। কিন্তু ডাইনোসেরর গায়ের চামড়ায় লোম ছিল না। অনেকটা গন্ডারের মতো লোমহীন চামড়া। কিন্তু ডায়াট্রিমার শরীরে পালকে ভরা। দুটো বড় বড় ডানা। ডানায় বাহারি রঙের পালকে সাজানো।

মাথাটা অজগর চিকন। চোখের নিচের দিকে নীল রঙের পালক। রাজহাঁসের মতো ঠোঁট। সব মিলিয়ে ভয়াল সুন্দর এক পাখি। আগে বিজ্ঞানীরা মনে করতেন ডায়াট্রিমা মাংসাশী পাখি। আর তাই এদেরকে জুরাসিক যুগের আকাশের মূর্তিমান আতঙ্ক মনে করা হত। কিন্তু এখন হিসাবটা বদলে গেছে। গবেষণা করে বিজ্ঞানীরা বলেছেন, ডায়ট্রিমার মাংসাশী তো নয়ই, উপরোন্তু এরা ছিল শান্ত স্বভাবের পাখি।

মাংসাশী হওয়ার জন্য পাখিদের নখ যতটা ধারালো হতে হয়। কিন্তু ডায়ট্রিমার ধারালো নখের হদিস মেলেনি। ২০০৯ সালে এক ভূমিধ্বসস্থল থেকে ডায়ট্রিমার পায়ের ছাপ সংগ্রহ করেন ওয়াশিংটনের গবেষকরা। তারপর সেই ছাপ নিয়ে গবেষণায় বসেন তাঁরা। সেই গবেষণার ফল বিশ্লেষণ করে গবেষকরা জানিয়েছেন ডায়ট্রিমা নিরামিষী ছিল।

প্যালিওনটোলজি সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, ভুমিধ্বস এলাকা থেকে সংগৃহীত ওই পায়ের ছাপ ৫ কোটি ৫৮ লাখ থেকে ৪ কোটি ৮৬ লাখ বছরের পুরনো। ওয়েস্টার্ন ওয়াশিংটনের উত্তর পশ্চিমাঞ্চালের চুনাকাট শিলাস্তর বিন্যাসে ডায়াট্রিমার একাধিক পায়ের ছাপ রয়েছে।

এর আগে ডায়াট্রিমার কঙ্কাল পাওয়া যায়। কঙ্কাল দেখে এর বিশাল আকৃতি, বড় মাথা, লম্বা দুটি ঠোঁটের কারণে একে মাংসাশী ও হিংস্র পাখি বলে মনে করা হতো। কিন্তু কঙ্কালে এর পায়ের আকার ছোট দেখে অনেক বিজ্ঞানী ধরাণা করেছিলেন এর তৃণভোজী ছিল। কারণ এত ছোট পা নিয়ে শিকারের পেছনে ধাওয়া করা দুরূহ কাজ। তাদের সেই ধারণায় প্রমাণিত হলো পায়ের ছাপ পরীক্ষা করে।