মেইন ম্যেনু

ঋণ পেতে সব জায়গায় ধরণা দিচ্ছে সৌদি আরব

বাজেট ঘাটতির মুখে পড়ে দাতাদের কাছে ঋণ চেয়েছে সৌদি আরব। ঋণের পরিমাণ হবে ৬ থেকে ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ঋণ দিতে আগ্রহী দাতা সংস্থা ও দেশের কাছে সৌদি আরবের অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে প্রস্তাব চাওয়া হয়েছে। এ ঋণের মেয়াদ সর্বোচ্চ ৫ বছর হবে বলেও জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে ঋণের পরিমাণ প্রয়োজনে বাড়ানোর সুযোগ রাখারও উল্লেখ করেছে মন্ত্রণালয়।

আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ঋণ নিয়ে ইতিবাচক ফলাফল আসবে বলে আশা করছে দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয় ও ব্যাংক কর্মকর্তারা। একই সঙ্গে, আন্তর্জাতিক বন্ড ছাড়ার মাধ্যমে আরো অর্থ সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে সৌদি আরবের।

উল্লেখ্য, আর্থিক সংকটে পড়ে সাম্পতিক সময়ে দাতা দেশ ও সংস্থার কাছ থেকে ঋণ নিয়েছে পারস্য উপসাগর অঞ্চলের দুই দেশ ওমান ও কাতার।

দাতাদের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে সৌদি সরকারের পরামর্শক হিসেবে কাজ করছে লন্ডনভিত্তিক পরামর্শক সংস্থা ‘ভেরাস পার্টনারস’। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, সৌদি অর্থ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে কয়েকটি ব্যাংক গ্রুপে ঋণ প্রস্তাব পাঠানোর জন্য অনুরোধ জানিয়েছে সিটি গ্রুপের সাবেক কর্মকর্তা মার্ক অ্যাপলিন ও অ্যান্ড্রু এলিয়ট প্রতিষ্ঠিত এই ফার্ম। তবে এ বিষয়ে ‘ভেরাস পার্টনারস’র এর কোনো মুখপাত্রের মন্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

বিদায়ী বছরের দ্বিতীয়ার্ধে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) সতর্ক করেছিল, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ক্রমাগত কমতে থাকায় মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে শক্তিশালী অর্থনীতির দেশ সৌদি আরব পাঁচ বছরের মধ্যে দেউলিয়া হয়ে যেতে পারে।

আইএমএফের ‘মিডল ইস্ট ইকোনমিক আউটলুক’ প্রতিবেদনে বলে, ওই বছরে সৌদি আরবের বাজেট ঘাটতি ছিল ২১ দশমিক ৬ শতাংশ। চলতি অর্থ বছর বাজেট ঘাটতি হতে পারে ১৯ দশমিক ৪ শতাংশ।

এতে স্পষ্ট যে, ব্যয় নির্বাহের জন্য আরও বেশি অর্থের প্রয়োজন হবে সৌদি আরবের। বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ কমতে কমতে ৬৫৪ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারে ঠেকেছে।

সংকট উত্তোরণে ইতোমধ্যে কৃচ্ছতা কর্মসূচি ঘোষণা করেছে সৌদি সরকার। বিভিন্ন খাতে ব্যয় সংকোচনের পাশাপাশি ভতুর্কি প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে। এছাড়া রাষ্ট্রায়ত্ব সম্পদ বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেয়ারও ঘোষণা দিয়েছে দেশটির সরকার।

গেল শতাব্দির নব্বইয়ের দশক থেকে ইরাক যুদ্ধ, ইরানের সঙ্গে বৈরিতা, প্রতিবেশী ইয়েমেনে গোষ্ঠীগত সংঘাতে ক্ষমতাসীনদের প্রত্যক্ষ সমর্থন, রাজকীয় শাসন ব্যবস্থা অটুট রাখতে নাগরিক সুবিধা বাড়ানোর ফলে বাজেট ব্যয় বাড়ছিল দ্রুত। ঠিক বিপরীত চিত্র আয়ে। গত কয়েক বছর ধরে বিশ্ব বাজরে জ্বালানি তেলের দাম পড়তে থাকায় সংকুচিত হতে থাকে আয়ের উৎস।

বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম কমে দাঁড়ায় ৩০ মার্কিন ডলারে। এতে আর্থিক সংকটে পড়ে তেল সমৃদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের এ দেশটি। সৌদি আরবের আয়ের ৯০ শতাংশই আসে তেল রপ্তানি থেকে। ফলে মন্দার বাজারে অভ্যন্তরীণ ব্যয় মেটাতে গিয়ে দেশটির রিজার্ভ দ্রুত উবে যাচ্ছে।

দরপতনেও জ্বালানি তেলের উৎপাদন না কমানোয় মনে করা হচ্ছে যে, দাতাদের কাছ থেকে ঋণের টাকায় বাজেট ঘাটতি মেটানোর উদ্যোগ নিচ্ছে সৌদি সরকার। জ্বালানি তেলের দাম কমতে থাকায় তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর সংগঠন ওপেক সদস্যরা বারংবার চাপ দিলেও সৌদি আরব রাজি হয়নি। সদস্যদের যুক্তি হচ্ছে, উৎপাদনের পরিমাণ কমালে বাজারে জ্বালানি তেলের দাম উঠতে শুরু করবে।

এ্যানার্জি পলিসি রিচার্স ফাইন্ডেশনের পরিচালক ল্যারি গোল্ডস্টেইন বলেছেন, শুধুমাত্র ব্যয় নির্বাহের জন্য সৌদি সরকার দাতাদের কাছে ঋণ চাইছে না। কঠিন ও অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে অর্থনীতিকে গতিশীল রাখার কৌশলের অংশ হিসেবে সৌদি আরব এ ঋণ নিচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন গোল্ডস্টেইন।