মেইন ম্যেনু

৩ ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত

ঋষিপল্লীতে ছাত্রলীগ নেতার হামলা অগ্নিসংযোগ, আহত ১৫

এসএসসি পরীক্ষার্থী তিন ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করার পর এবার ছাত্রলীগ নেতার নেতৃত্বে যশোরের মনিরামপুরে ঋষিপল্লীতে হামলা হয়েছে। এসময় হামলাকারীরা ঋষিপল্লীতে অগ্নিসংযোগ করেছে। এ সময় ১৫ জনকে মারপিট করে হামলাকারীরা। এরমধ্যে ছয়জন হাসপাতাল থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

শনিবার দুপুরের দিকে উপজেলার দুর্বাডাঙ্গা ইউনিয়নের পাড়ালা ঋষিপল্লীতে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে।

এঘটনায় ঋষিপল্লীর ভুক্তভোগী অজিত দাস মনিরামপুর থানায় ১৫ জনের নামে অভিযোগ দিয়েছেন। তবে রাত সাড়ে ৯টা অবধি মামলাটি রেকর্ড হয়নি।

ঋষিপল্লীর বাসিন্দারা জানান, পাড়ালা ঋষিপল্লীর অজিত দাসের মেয়ে জয়ন্তী দাস, নিতাই দাসের মেয়ে শিল্পী দাস এবং পাড়ালা গ্রামের ইউনুচ আলীর মেয়ে রাজিয়া খাতুন সাতগাতী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী। বিভিন্ন সময় তাদেরকে উত্ত্যক্ত করতো বাহিরঘরিয়া গ্রামের ইব্রাহিম হোসেন, পাড়ালা গ্রামের মামুন ও রিমন। ওই ছাত্রীরা বিষয়টি স্কুলের প্রধান শিক্ষককে জানান। গত ২৭ জানুয়ারি স্কুল ম্যানেজিং কমিটি বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে।

কিন্তু অভিযোগের বিষয়টি জানাজানি হলে শনিবার দুপুরের দিকে দূর্বাডাঙ্গা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের আহ্বায়ক আবু সাঈদ ও স্থানীয় নেতা ইব্রাহিমের নেতৃত্বে ৩০/৩৫ জন লাঠিসোটা, লোহার রড ও বিভিন্ন ধারালো অস্ত্র নিয়ে ঋষিপল্লীতে হামলা চালায়। এক পর্যায়ে তারা ঋষিপল্লীর গোবিন্দ, মুকুন্দ ও নীল পদ দাসের ঘরে ভাংচুর করে অগ্নিসংযোগ করে। পরে স্থানীয় লোকজন আগুন নিভিয়ে ফেলে।

হামলায় আহত হন, ঋষিপল্লীর গোবিন্দ দাস, মুকুন্দ দাস, জিতেন্দ্র দাস, পূর্নিমা দাস, জয়দেব দাস, সকালী রানী দাস, অধির দাস, নীল কুমার দাসসহ অন্তত ১৫ জন। আহতরা মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

অভিযোগ প্রসঙ্গে দূর্বাডাঙ্গা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের আহ্বায়ক আবু সাঈদ বলেন, হামলার সাথে তিনি যুক্ত নন। তিনি হামলাকারীদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেছেন। তবে ওই পল্লীর গোবিন্দ দাস বলেন, আবু সাঈদের নেতৃত্বই হামলা হয়েছে।

মনিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাহেরুল ইসলাম জানান, হামলার ঘটনায় দূর্বাডাঙ্গা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের আহ্বায়ক আবু সাঈদ, ছাত্রলীগ নেতা ইব্রাহিমসহ ১৫ জনের নামে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী অজিত দাস। তবে পুলিশ এ ঘটনায় কাউকে আটক করতে পারেনি।