মেইন ম্যেনু

এআইআইবির যাত্রা শুরু ১৬ জানুয়ারি

আগামী ১৬ জানুয়ারি যাত্রা শুরু করছে এশিয়া ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (এআইআইবি)। চীনের বেইজিংয়ে ব্যাংকটির দু’দিনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উদ্যোক্তা সদস্য হিসেবে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

এ উপলক্ষে বুধবার সিঙ্গাপুর হয়ে বেইজিংয়ের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করবেন তিনি। বেইজিংয়ে যাওয়ার আগে অর্থমন্ত্রী দুদিন সিঙ্গাপুর অবস্থান করবেন। এসময় তিনি স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাবেন। অর্থমন্ত্রী ১৫ জানুয়ারি সিঙ্গাপুর থেকে বেইজিংয়ের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হবেন। বৈঠক শেষে আগামী ১৮ জানুয়ারি দেশে ফিরবেন।

ব্যাংকের অথরাইজড ক্যাপিটাল হচ্ছে ১০০ বিলিয়ন ডলার। শুরুতে ইনিশিয়াল সাবস্ক্রাইব ক্যাপিটাল হবে ৫০ বিলিয়ন ডলার।

১৬ জানুয়ারি ব্যাংকের বোর্ড অব গভর্নর্সের বৈঠক শেষে একই দিন ব্যাংকের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হবে। ওই দিন সকালে ব্যাংকটির উদ্বোধন করবেন প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। আর প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়াং বিকেলে ব্যাংকটির কাউন্সিলে প্রথম কনফারেন্স শুরু করবেন। পরে ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জিন লিকুনের সভাপতিত্বে বোর্ড অব গভর্নর্সের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

দীর্ঘ জল্পনা-কল্পনা, চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বিকল্প চীনের নেতৃত্বে এশিয়া ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (এআইআইবি) যাত্রা শুরু করছে। ব্যাংকের উদ্যোক্তা দেশ হিসেবে রয়েছে বাংলাদেশ, ব্রুনাই, কম্বোডিয়া, চীন, ভারত, কাজাখস্তান, কুয়েত, লাওস, মালয়েশিয়া, মঙ্গোলিয়া, মিয়ানমার, নেপাল, ওমান, পাকিস্তান, ফিলিপাইন, কাতার, সিঙ্গাপুর, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, উজবেকিস্তান এবং ভিয়েতনাম। তবে প্রতিষ্ঠাকালীন ৫৭টি দেশের সহযোগিতা নিয়ে ব্যাংকটি তার কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে।

স্বাস্থ্য, শিক্ষা, নগর উন্নয়ন, সড়ক পরিবহন, জ্বালানিসহ বিভিন্ন খাতে অর্থ বিনিয়োগ করবে এআইআইবি। ব্যাংকের তত্ত্বাবধানে থাকবে চীন। বাংলাদেশ রয়েছে তালিকার এক নম্বর সদস্য হিসেবে।

গত বছর অক্টোবরে চীনসহ এশিয়ার ২০টি দেশ একটি বহুপক্ষীয় উন্নয়ন ব্যাংক প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করে। এরপর প্রতিষ্ঠা পায় এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (এআইআইবি)। এটি বিশ্বব্যাংক ও এশিয় উন্নয়ন ব্যাংকের প্রতি প্রথম প্রাতিষ্ঠানিক চ্যালেঞ্জ।

আইএমএফে চীনের ভোট প্রদানের ভাগ ৩ দশমিক ৮ শতাংশ, এডিবিতে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রের এ ভাগের পরিমাণ যথাক্রমে ১৬ দশমিক ৮ শতাংশ ও ১২ দশমিক ৮ শতাংশ, আর জাপানের পরিমাণ যথাক্রমে ৬ দশমিক ২ শতাংশ ও ১২ দশমিক ৮ শতাংশ। অর্থাৎ বিশ্ব অর্থনীতিতে চীনের অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও বিশ্ব ব্যাংক ও এডিবিতে তাদের ভূমিকা রাখার সুযোগ কম। আর এ কারণে নিজেদের অবস্থান জানান দিতেই এআইআইবি’র যাত্রা।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তখন থেকেই বিশ্বব্যাংক নিয়ন্ত্রণ করছে যুক্তরাষ্ট্র আর আইএমএফ নিয়ন্ত্রণ করছে ইউরোপ। অন্যদিকে ১৯৬৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকেই এডিবির সভাপতির পদ অলংকৃত করছে জাপানিরা। আর চীনের মতো উদীয়মান শক্তিগুলো এসব প্রতিষ্ঠানে তাদের অবদানের পরিমাণ বাড়াতে গেলেও বাধার সম্মুখীন হয়, ফলে তাদের মর্যাদাও বাড়ছে না। আর সংস্কার নিয়ে বহু কথা হলেও তা বাস্তবায়নে অনেক সময় লেগেছে। যেমন জি-২০ নেতারা ২০১০ সালে আইএমএফ কোটা ও গভর্ন্যান্স রিফর্ম বিষয়ে একমত হলেও তা এখনো বাস্তবায়ন হয়নি।

এ অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে চীন এই এআইআইবি গঠনের উদ্যোগ নেয় এবং এর ৫০ শতাংশ শেয়ার তার হাতেই। ব্যাংকটির প্রথম প্রেসিডেন্ট হবেন একজন চীনা নাগরিক আর এর প্রধান কার্যালয় হবে বেইজিংয়ে।