মেইন ম্যেনু

এই গরমে ব্যায়াম? জেনে নিন অত্যন্ত জরুরি এই বিষয়গুলো

এই গরমে যখন সাধারণ দৈনন্দিন কাজ করতেই অসহ্য লাগে তখন আবার ব্যায়াম, দৌঁড়ানো, জগিং? যেন নিজের উপর কোনো নির্যাতন! কিন্তু এক্সারসাইজ যখন আপনার অভ্যাস তখন সেটি ছেড়ে দেওয়া বা অনিয়মিত করা স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর তো বটেই, তার সাথে এতদিনে গড়ে তোলা ভালো অভ্যাসটিও আর থাকবে না। তাই এক্সারসাইজ তো চালিয়ে যেতেই হবে। কিন্তু গরম তো কমছে না। জেনে নিন এ সময় ব্যায়ামে কী কী শারীরিক অসুবিধা হতে পারে, কেন হয় সেসব আর আমাদের করণীয় কী।

গরম কিভাবে আমাদের শরীরের উপর প্রভাব ফেলে

এই আবহাওয়ায় প্রকৃতিতে উচ্চ তাপমাত্রা তো বিরাজ করছেই, তার সাথে আমরা যখন আবার বাড়তি কাজ করি মানে, দৌঁড়ানো, খেলাধূলা, জোরে হাঁটাহাঁটি, ব্যায়াম তা আমাদের শরীরেও প্রচুর তাপ তৈরি করে। অসুস্থ হয়ে যাওয়ার সিরিয়াস ঝুঁকি আছে তাই। কারণ, নিজেকে ঠান্ডা রাখতে শরীর ত্বকের দিকে রক্ত প্রবাহ বাড়িয়ে দেয়। এতে পেশীতে রক্ত প্রবাহ কমে যায়, হৃদযন্ত্রের স্পন্দন বেড়ে যায়। আর যদি আর্দ্রতাও বেশি থাকে তাহলে আপনার শরীর আরও বেশি চাপ অনুভব করে, কারণ আপনার ত্বক থেকে ঘাম তাড়াতাড়ি শুকিয়ে যায় না। এতে শরীরের তাপমাত্রা আরও বেড়ে যায়।

কী কী সমস্যা হতে পারে

সাধারণ আবহাওয়ায় আপনার ত্বক, রক্ত কণিকা এবং ঘামের লেভেল তাপের সাথে সামঞ্জস্যতা তৈরি করে। কিন্তু এই প্রাকৃতিক তাপমাত্রা বজায় রাখার পদ্ধতি অকার্যকর হয়ে পড়তে পারে যখন বাইরেও উচ্চ তাপমাত্রা এবং আর্দ্রতা বিরাজ করে এবং আপনিও অতিরিক্ত কাজের মাধ্যমে শরীরে চাপ তৈরি করেন। এর ফলে হতে পারে তাপমাত্রাজনিত নানান স্বাস্থ্য সমস্যা। যেমন-

হিট ক্রাম্পস- পেশীর গঠনে তীব্র ব্যাথা হল হিট ক্রাম্পস। পেশীতে স্পর্শ করলে ব্যাথা লাগে। শরীরের তাপ স্বাভাবিক থাকে।

হিট সিনকোপ এবং এক্সারসাইজ জণিত কলাপ্স- মাথা হালকা লাগতে থাকে। অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পর বা বসা থেকে হঠাত উঠে দাঁড়ানোর সময় এমন লাগতে পারে। এমনকি আপনি অজ্ঞানও হয়ে যেতে পারেন। ব্যায়ামের পর পর বা কিছু সময় বাদে এই লক্ষণ দেখা দিতে পারে।

তাপমাত্রাজণিত অবসাদ- শরীরের তাপমাত্রা ১০৪ ফারেনহাইট বা ৪০ ডিগ্রী সেলসিয়াস পর্যন্ত বেড়ে যায়। বমি, মাথা ব্যাথা, দূর্বলতা, ঠান্ডা লাগা ইত্যাদি সমস্যা হতে থাকে। চিকিৎসা না নিলে বা এভাবে চলতে থাকলে হিট স্ট্রোক হতে পারে।

হিট স্ট্রোক- হিট স্ট্রোকে জীবনের ঝুঁকি দেখা দিতে পারে। এই স্ট্রোক হয় যখন শরীরের তাপমাত্রা ১০৪ ডিগ্রী ফারেনহাইট বা ৪০ ডিগ্রী সেলসিয়াস থেকে বেড়ে যায়। আপনার ত্বক হয়ত গরম কিন্তু শরীর ঘাম ছাড়া বন্ধ করে দেয় নিজেকে ঠান্ডা রাখতে। ব্যায়াম করার সময়ই আপনার স্ট্রোক হতে পারে। আবার কিছুক্ষণ পর হয়ত ঘামতে শুরু করবেন আপনি।

এসব যে কোনো লক্ষণ দেখতে পেলে দ্বিধা না করে ডাক্তারের স্মরণাপন্ন হওয়া উচিত। অবহেলায় ব্রেইন ডেমেজ, অর্গান ফেইলিওর এমনকি মৃত্যু হতে পারে।

সাবধানতা বজায় রাখুন-
গরম আবহাওয়ায় যখন ব্যায়াম করছেন, অবশ্যই খেয়াল রাখুন নিচের বিষয়গুলো।

১। তাপমাত্রা কত- আবহাওয়ার খোঁজ রাখুন। আপনার পরিকল্পনার সাথে বাইরের তাপমাত্রা সামঞ্জস্যপূর্ণ কিনা সেটা খেয়াল রাখুন।

২। নতুন আবহাওয়ায় মানিয়ে নেওয়া- আপনি যদি ঘরে ঠান্ডা পরিবেশে কুলার চালিয়ে ব্যায়াম করতে অভ্যস্থ হন, তাহলে বাইরে ব্যায়াম করতে গেলে নিজেকে একটু সময় দিন তাপমাত্রার সাথে মানিয়ে নিতে। ধীরে ধীরে শুরু করুন এবং প্রতিদিন একটু একটু করে সময় বাড়ান।

৩। পোশাকের দিকে খেয়াল রাখুন- আপনি যদি ব্যায়ামের ক্ষেত্রে নতুন হন, তাহলে একটি বাড়তি সাবধানতা বজায় রাখুন পোশাকের ক্ষেত্রে। আপনার শরীর অতিরিক্ত তাপ নিতে অভ্যস্ত নাও হতে পারে। বার বার বিরতি দিন, অতিরিক্ত ভারী ব্যায়াম থেকে বিরত থাকুন।

৪। পর্যাপ্ত পানি এবং তরল পান করুন- পানি বা তরল কম গ্রহণে ডিহাইড্রেশন হতে পারে। ঠিক মত ঘাম হওয়া এবং শরীর ঠান্ডা রাখতে পানি খুবই জরুরি। পানির বদলে স্পোর্ট ড্রিঙ্ক ও পান করতে পারেন। এতে শরীরে সোডিয়াম, ক্লোরাইড এবং পটাশিয়াম ফিরে আসবে যা ঘামের সাথে আপনার শরীর থেকে বেড়িয়ে গেছে। কখন পিপাসা পাবে সে পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন না, বার বার পান করুন।

৫। দুপুরের রোদ এড়িয়ে চলুন- ব্যায়াম করার জন্য সকাল অথবা সন্ধ্যা বেছে নিন। দুপুরের সময়টা যথাসম্ভব এড়িয়ে চলুন।

৬। সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন- সূর্যের তাপে পুড়ে যাওয়া শরীরের ঠান্ডা হওয়ার ক্ষমতা হ্রাস করে এবং ত্বকের ক্যান্সারের সম্ভাবনা বাড়ায়। তাই ভালো মানের সানস্ক্রিন ব্যাবহার করুন।

৭। একটা ব্যাক আপ প্লান রাখুন- তাপ বা আর্দ্রতায় সমস্যার ক্ষেত্রে সবচেয়ে ভালো হয় ঘরে ব্যায়াম করলে। বাইরে যদি করতেই হয় কাছাকাছি কোনো শপিং মলএ এসির বাতাস খেয়ে আসতে পারেন ব্যায়ামের পর।

৮। স্বাস্থ্যঝুঁকিগুলো বুঝুন- শরীরের অবস্থার দিকে খেয়াল করুন। কোনো অসুস্থতার লক্ষণ আছে কিনা বোঝার চেষ্টা করুন। সন্দেহ হওয়া মাত্র ব্যায়াম করা থামিয়ে দিন, আপনার ডাক্তারের সাথে কথা বলুন।

তাপমাত্রাজনিত শারীরিক সমস্যাগুলো প্রতিরোধ করা সম্ভব। শুধু সাবধানতাগুলো বজায় রাখুন, সচেতন হোন আর অনেক অনেক পানি বা তরল পান করুন।