মেইন ম্যেনু

এই পথচলা সুখকর হোক

মাত্র কয়েকদিনের ট্রেনিংয়ের পরই দেশের জার্সি ওঠে আলম খানদের শরীরে। প্রতিবন্ধী হলেও দেশের জার্সির গুরুত্ব বোঝার ক্ষমতা তাদের ছিল। দৃঢ় মনোবলের কারণে শেষ পর্যন্ত লড়াই করতে সক্ষম হয়েছেন তারা।

প্রথমবারের মতো প্রতিবন্ধী ক্রিকেটারদের নিয়ে আয়োজন করা আইসিআরসি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে অংশ নেয় বাংলাদেশ। দেশকে প্রতিনিধিত্ব করেন এক ঝাঁক তরুণ প্রতিবন্ধী। আর ১০টা মানুষের মতো স্বাভাবিক জীবন-যাপন করতে ব্যর্থ তারা। কিন্তু কয়েকদিনের ট্রেনিংয়ে আপন বৃত্তে তারাই সেরা।

টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে শুরু। সাধারণ ক্রিকেটের মতো প্রতিবন্ধী ক্রিকেটেরও জনক ইংল্যান্ড। সেই দলকে টু্র্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে হারিয়ে দেয় বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে লড়াই করে। কিন্তু বেরসিক বৃষ্টিতে কপাল পোড়ে লাল-সবুজ জার্সিধারীদের। তৃতীয় ম্যাচে আফগানিস্তানের কাছে হেরে যায় তারা। কিন্তু মন জয় করে নেয় লড়াকু ক্রিকেটাররা।

মঙ্গলবার নিজেদের শেষ ম্যাচে প্রতিবেশী দেশ ভারতকে ৭ উইকেটে হারায় বাংলাদেশ। ভারতকে হারিয়েও ফাইনালে নাম লেখাতে ব্যর্থ হয়েছে। চার ম্যাচে দুই জয় নিয়েও ফাইনালে উঠতে না পারায় আক্ষেপ থাকার কথা। পাঁচ জাতির টুর্নামেন্টে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে বাংলাদেশ। চার পয়েন্ট নিজেদের নামের পাশে যোগ করেছেন তারা। ফাইনাল খেলবে দুই ফেভারিট পাকিস্তান ও ইংল্যান্ড।

মাত্র কয়েকদিনের নিরলস পরিশ্রমে বাংলাদেশের দলটি যে সাফল্য দেখিয়েছি, তা সত্যিই গর্ব করার মতো। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড প্রধানও প্রতিবন্ধী দলকে আলাদা বিভাগ করে ট্রেনিং করানোর পরিকল্পনা করেছেন। এই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের পথ চলা শুরু। সামনের পথচলা আরও সুখকর হোক- সেই প্রত্যাশায় অগুনতি ক্রিকেটপ্রেমীর।