মেইন ম্যেনু

এই মদ যদি না শেষ হয়!

কলকাতার রাস্তায় প্রকাশ্যে মদ পান করে মাতলামী করার অভিযোগ মাঝেমধ্যে পাওয়া গেলেও এবার উড়ালসড়কের উপর মদ পান করার মত ঘটনা ঘটেছে। তেমনি ২৮ অক্টোবর পরমা উড়ালসড়কের একধারে মোটরবাইক দাঁড় করিয়ে মদ্যপান দেখা যায় চার যুবককে। তখন পাশ দিয়ে হুহু করে ছুটে চলেছে গাড়িঘোড়া। কিন্তু যুবকেরা নির্বকার। তারা ব্যস্ত মদ পানে।

আনন্দবাজারের এক খবরে বলা হয়, পরমা উড়ালপুলের মোটরবাইক দাঁড় করিয়ে মদ্যপান করছেন চার যুবক। পাশ দিয়ে হুহু করে ছুটে চলেছে গাড়িঘোড়া। পৌনে এক ঘণ্টা পার করে উল্টোডাঙার দিকে রওনা দিলেন ওই যুবকেরা।

ঘটনা-১: তখন ঘড়িতে সময় রাত ৯টা (২১ অক্টোবর)। চিত্তরঞ্জন অ্যাভিনিউয়ের একটি বিলিতি মদের দোকানের অদূরে প্লাস্টিকের বোতলে নরম পানীয়ে মদ মিশিয়ে গলায় ঢালছেন কয়েক জন যুবক। পুলিশের টহলদার গাড়ি সামনে দিয়েই চলে গেল। আরও ঘণ্টাখানেক ধরে মদের বোতলের পুরোটা শেষ করে মোটরবাইকে চেপেই শ্যামবাজারের দিকে চলে গেলেন ওই যুবকেরা।

ঘটনা-২: রাত সাড়ে ৮টা (২৫ অক্টোবর)। ইডেন গার্ডেনের পাশ দিয়ে বোতল ভরা ঠান্ডা বিয়ার গলায় ঢালতে ঢালতে দিব্যি হেঁটে চলে গেলেন বছর কুড়ির দুই যুবক।

ঘটনা-৩: রাত ১০টা (২৩ অক্টোবর)। হাওড়ার শহরের একটি ক্লাবের সামনে উনুনে মাংস রান্না হচ্ছে। সামনে তারস্বরে মাইক বাজছে। ক্লাবের ভিতর জনা তিরিশেক যুবক প্লাস্টিকের গ্লাসে দেশি ও বিলিতি মদ ঢেলে পান করছেন।

এ বছর পুজোর সময়েও ভিআইপি রোড বা বিমানবন্দর সংলগ্ন যশোহর রোডে মত্ত মোটরবাইক-আরোহীদের কটূক্তির সামনে পড়েছেন বহু তরুণী।

পুলিশের একাংশের মতে, নতুন আবগারি নীতির ফলে রাজ্যজুড়ে দেশি ও বিলিতি মদের দোকান বৃদ্ধি পেয়েছে। চোলাইয়ের রমরমা ঠেকাতে দেশি মদের প্লাস্টিক বোতল এবং সস্তার বিলিতি মদের প্যাকেট (টেট্রাপ্যাক) চালু করা হয়েছে। ফলে মদ যেমন সহজলভ্য হয়েছে, তেমনই প্লাস্টিকের বোতল ও টেট্রাপ্যাকের জন্য পথেঘাটে মদ খাওয়াও সহজ হয়েছে।

পুলিশ ও আবগারি কর্তাদের অনেকেই এ ব্যাপারে একমত যে, রাস্তায় নরম পানীয়ের বোতলে মিশিয়ে মদ্যপান কিংবা চলন্ত বাইক বা গাড়িতে বসে বিয়ার খাওয়ার চল নবীন প্রজন্মের মধ্যে বাড়ছে।

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজতত্ত্বের শিক্ষিকা ডালিয়া চক্রবর্তীর মতে, ‘‘এক দিকে সামাজিক অনুশাসনগুলি আলগা হওয়া, অন্য দিকে কমবয়সীদের মধ্যে নিজেকে ‘স্মার্ট’ দেখানোর প্রবণতা— প্রকাশ্যে মদ্যপানের এই বাড়বাড়ন্তের মূল কারণ সেটাই। পথেঘাটে মদ খাওয়াকে স্মার্টনেস হিসেবেই দেখে নতুন প্রজন্ম।’’

লালবাজারের খবর, পুজোর ক’দিন মদ্যপান করে বেপরোয়া মোটরবাইক চালানোর অভিযোগে প্রায় চার হাজারের বেশি আরোহীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে কয়েকশো মোটরবাইক।

লালবাজার সূত্রের খবর, শুক্রবার ক্রাইম বৈঠকেও মোটরবাইকের এই দৌরাত্ম্য কমানোর নির্দেশ দিয়েছেন পুলিশ কমিশনার সুরজিৎ করপুরকায়স্থ।

পুলিশের একাংশ বলছেন, কলকাতা পুলিশের আইনের ৬৮ নম্বর ধারা ও কলকাতা সাবার্বান পুলিশ আইনের ৪১ নম্বর ধারায় বলা রয়েছে, প্রকাশ্যে মাতলামি করে অন্য নাগরিকদের মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ণ করলে বা অন্যের অসুবিধা সৃষ্টি করলে কাউকে গ্রেফতার করা যাবে। জরিমানা ৫০ টাকা। জরিমানা দিলে থানা ব্যক্তিগত জামিনে ছেড়ে দেবে।

তবে অনেকে এ-ও বলছেন, ইওরোপ, আমেরিকা এমনকী, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন শহরেও প্রকাশ্যে মদ্যপানের রেওয়াজ রয়েছে। সে ক্ষেত্রে কলকাতায় কেন তা হবে না, সে প্রশ্ন তুলেছেন তারা।