মেইন ম্যেনু

‘এই মৃত্যু মেনে নেয়ার নয়’

শাহাদত হোসাইন স্বাধীন : ২৮ জুলাই বৃহস্পতিবার ছিল আরাফাত মিশুর জন্মদিন। ফেসবুকের টাইমলাইনে জন্মদিনের ভালবাসায় সিক্ত মিশু। বর্ষবরন সন্ধ্যায় বন্ধুরা কেক কেটে মুখে কেক মেখে যখন মিশুর জন্মদিন পালন করছিলো তখন কে বা জানত এটাই মিশুর শেষ জন্মদিন উদযাপন। কেউ ভাবতেই পারে নি জন্মদিনের পরদিন ই মিশু সবাইকে শোক সাগরে ভাসিয়ে আকাশের তারা হয়ে যাবে।

জন্মদিনের পর দিন ই শুক্রবার (২৯ জুলাই) ১১:৩০ টায় সিরাজগঞ্জে এক মর্মান্তিক সড়ক দূর্ঘটনায় প্রাণ হারান জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় নৃবিজ্ঞান বিভাগের ৪৪ তম ব্যাচের ছাত্র আরফাত রহমান মিশু। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ রফিক-জববার হলের আবাসিক ছাত্র ছিলেন।

আজ মিশুর বিভাগ নৃবিজ্ঞান বিভাগের দেখা যায় সুনসান নিরবতা। সবখানে শোকের ছায়া। শিক্ষক,বন্ধু, সিনিয়র-জুনিয়র,কর্মকর্তা -কর্মচারী সবাই চোখে মুখে বিষাদের ছায়া। গতপরশু যারা মিশুর জন্মদিনে মেতেছিলো তারা আজ বাকরুদ্ধ। কিছুতেই বন্ধুর এভাবে চলে যাওয়া মেনে নিতে পারছেন না। সহপাঠীকে কবরে রেখে তারা কীভাবে ক্লাশে ফিরে যাবে! শিক্ষকদের কোন সান্তনা বাক্যই তাদের স্বাভাবিক করতে পারছে না।তাদের সবার প্রিয় ভদ্র-নম্র মৃদুভাষী বন্ধুটি আর ক্লাশে আসবে না:ভাবতেই হাউমাউ করে কেদেঁ উঠছে বন্ধুরা । চোখে জল,বুকে কালো ব্যাজ বাকরুদ্ধ সবাই, কারো পা চলছে না। পাথরের মত নিথর হয়ে আছে সবাই। এটাই বোধহয় অল্প শোকে কাতর অধিক শোকে পাথর।

ডিপার্টমেন্টের সামনে ঝুলছে মিশুর স্মরণে শোকগাথাঁর ব্যানার। সবাই ব্যানার সামনে থমকে দাড়াঁচ্ছে। না এই ছেলে এভাবে চলে যেতে পারে না। এই আমাদের মিশু, ভালবাসার মিশু, আমাদের ছেড়ে চলে যেতে পারে না। মুহুমুহু কান্নায় ভেঙ্গে পড়ছে বন্ধুরা। মিশুর আবাসিক হল শহীদ রফিক জব্বার হলেও শোকের মাতম। যার সাথে ঐ তো কাল বৃষ্টিতে ভিজলাম তার এভাবে চলে যাওয়া মেনে নিতে পারছি না -বলছিলেন তার বন্ধু রিয়াজুল। হলের বন্ধুরাই তো কাল কেক কেটে জন্মদিন পালন করল আজ মিশু নেই তা কিছুতেই মানতে পারছে না তারা। সর্বদা কোলাহলপূর্ণ শহীদ রফিক জব্বার হল আজ শোক পরীতে পরিণত হয়েছে । সব আছে তবু যেন কেউ নেই। মিশুর অনুপস্হিতি সব অস্তিত্বকে অস্বীকার করছে। মিশু ও তার বন্ধু সাক্ষাত, শাওন, শিহাব, সাব্বির ৫ জন এক ভ্যানে করে হল থেকে ডিপার্টমেন্টে যেত। আজ থেকে কি ভ্যানের একটা সীট খালি থাকবে মিশুর জন্য। হলে সবার প্রিয় মুখ ছিলো মিশু। তার ভদ্রতার কারণেই সবার কাছের ছিলো । তার হাসিমাখা মুখখানা যেন এখনো সবার কাছে প্রাণবন্ত।

কুমিল্লার হোমনা উপজেলায় আরফাত রহমান মিশুর গ্রামের বাড়ি। গত রমজানে কুমিল্লাস্হ জাহাঙ্গীরনগরে ছাত্ররা ইফতার পার্টি করেছিলো। সেই ইফতার পার্টির ছবি আজ শুধুই স্মৃতি তার কুমিল্লার বন্ধুদের।

যার ফেসবুকের টাইমলাইনে গতকাল ছিলো জন্মদিনের শুভেচ্ছা তার টাইমলাইন জুড়ে আজ লিখা নো মোর মিশু। মৃত্যু এমনি বাস্তবতা, নিয়তি। কিন্তুু এমন অনাকাঙ্খিত মৃত্যু মেনে নেয়ার নয়। মেনে নিতে কষ্ট হয়। তাই মোটর সাইকেল চালনায় আরও অধিক সতর্কতার দাবী সচেতন মহলের। সাথে সাথে মহাসড়কের ঝুকিপূর্ণ বাকঁগুলো সংস্কার দাবী করছেন সবাই।