মেইন ম্যেনু

এই সব সিরিয়াল কিলারের কাহিনি জানলে লোম খাড়া হয়ে উঠবে

ভারতে সিরিয়াল কিলারের প্রথম যে কাহিনি পাওয়া যায় শ’দুয়েক বছর আগের। এরপরও, দেশের বিভিন্নস্থানে বহু সিরিয়াল কিলারের নৃশংস হত্যালীলার কথা আমরা জেনেছি। সেরকই কিছু কাহিনি আপনাদের জন্য।

অটো শঙ্কর—

নারকেল তেলের বেআইনি পাচার থেকে নিষিদ্ধ পল্লীর ব্যবসায় নাম করেছিল। কিন্তু, ১৯৮৮ সালে মাত্র ছ’মাসের ব্যবধানে ৯ কিশোরীকে অপহরণ করে খুন করে। ধরা পড়ার পর অটো শঙ্কর দাবি করে, কিছু রাজনৈতিক নেতা এই কিশোরীদের অপহরণ করে ধর্ষণ করেছিল। আর তাঁদের নির্দেশেই সে খুনগুলি করে। ১৯৯৫ সালে সালেম জেলে ফাঁসি হয় অটো শঙ্করের।

সায়নাইড মোহন—
আসল নাম মোহন কুমার। লোভ দেখিয়ে অবিবাহিত মেয়েদের ডেকে তাঁদের সঙ্গে যৌন সঙ্গম করত সাইনাইড মোহন, এরপর, কৌশলে ওই মেয়েদের গর্ভনিরোধক পিল খাওয়াতো সে। কিন্তু মহিলারা জানতেন না ওই গর্ভনিরোধক পিল আসলে সায়নাইডের বিষ। ২০০৫ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত ২০ জন মেয়েকে এভাবে খুন করে সে। প্রাইমারি স্কুলের ‘ফিজিক্যাল এডুকেশন’-এর শিক্ষক ছিল সাইনাইড মোহন। ২০১৩ সালে তার মৃত্যুদণ্ডের সাজা হয়।

দেবেন্দ্র শর্মা—
চিকিৎসক থেকে খুনি বনেছিল দেবেন্দ্র। গাড়ির নেশা ছিল তার। এই নেশায় সে গাড়ি চুরি করতে থাকে। আর গাড়ি চালকদের খুন করে। উত্তর প্রদেশ, রাজস্থান, গুরগাঁও-এর একাধিক গাড়ি চুরি এবং চালক খুনে জড়িয়ে পড়ে দেবেন্দ্র। ধরা পড়ার পর সে জানায়, অন্তত ৩০ থেকে ৪০ জন গাড়ি চালককে সে খুন করেছিল। ২০০৮ সালে তাকে মৃত্যুদণ্ডের সাজা দেয় আদালত।

নিঠারী সিরিয়াল কিলিং—
বছর আটেক আগে নয়ডার নিঠারীর এক ব্যবসায়ীর বাড়ি থেকে অসংখ্য শিশু ও মেয়েদের নরকঙ্কাল উদ্ধারে হইচই পড়ে যায়। তদন্তে বেরিয়ে আসে এক নারকীয় হত্যাকাণ্ড, এবং পাশবিক কাম-মনস্ক দুই ব্যক্তির কথা। এরা হল সুরিন্দর কোলি এবং মনিন্দর সিং পান্ধে। ব্যবসায়ী পান্ধের নির্দেশে পরিচারক এবং বাড়ির কেয়ার টেকার সুরিন্দর এলাকার বস্তি থেকে একের পর এক শিশু এবং মেয়েকে অপহরণ করত। এরপর বাড়ির ভিতরে মনিন্দর ও সুরিন্দর তাদের উপর পাশবিক অত্যাচার চালাতো। কাজ তামাম হলে এদের খুন করত তারা। এমনকী, ওই মৃত শিশু এবং মেয়েদের মাংস কেটে দু’জনে খেত বলেও তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। আদালতে এখনও এই মামলা চলছে।

চার্লস শোভরাজ—
ভারতে এখনও পর্যন্ত যত খুনি এবং অপরাধ মনস্ক লোকের কথার জানা যায় তাদের মধ্যে নাকি এক নম্বরে চার্লস শোভরাজ। একটা সময় শুধু ভারত নয়, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বহু দেশের পুলিশের রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছিল সে। মাদক চোরাচালান থেকে সুন্দরী মহিলাদের খুন— চার্লস শোভরাজের আতঙ্কে ঘুম ছুটে গিয়েছিল সকলের। ১৯৭৫ থেকে ১৯৭৬ -এর মধ্যে মোট ১২ জনকে খুন করে শোভরাজ। তার শিকারদের খুন করে, তাঁদের অর্থ এবং দামি জিনিস লুঠ করত সে। শোভরাজের নিশানায় সবার আগে থাকত পর্যটকরা। বিকিনি পরিহিত দুই মহিলাকে খুন করেছিল শোভরাজ। সেই থেকে তার নাম হয় ‘বিকিনি কিলার’। ১৯৭৬ থেকে ১৯৯৭ পর্যন্ত ভারতে কারাগারে কাটানোর পর ছাড়া পেয়ে প্যারিস চলে যায় সে। ২০০৪ সালে নেপালে গিয়ে সেখানেও গ্রেফতার হয়। আপাতত সেখানে কারাগারে বন্দি শোভরাজ। সম্প্রতি তাকে নিয়ে বলিউডে সিনেমাও হচ্ছে।

সায়নাইড মল্লিকা—
স্বামীর নির্যাতনে নিপিড়ীত এক মহিলা— এই বলে নিজের দুঃখের কাহিনি শোনাত বেঙ্গালুরুর মল্লিকা। এরপর, তার বাড়ি আসা মহিলাদের সায়নাইড বিষ খাইয়ে খুন করে তাদের সর্বস্ব লুঠ করত। ১৯৯৯ থেকে ২০০৭ সালের মধ্যে ৬ মহিলাকে খুন করে সে। ২০১২ সালে সায়নাইড মল্লিকাকে মৃত্যুদণ্ডের সাজা দেওয়া হয়। পরে আবেদনের প্রেক্ষিতে সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন করা হয়।

ঠগ বেহরাম—
১৭৯০ থেকে ১৮৪০ সালের মধ্যে ঠগ বেহরামের খুনের রাজত্ব। ভারতে সিরিয়াল কিলারদের ইতিহাসে ঠগ বেহরাম হচ্ছে নৃশংসতম। ৯৩১ জনকে সে খুন করেছিল। এর মধ্যে ১২৫ জনকে সে হত্যা করেছিল শুধু তারা খুন দেখে ফেলেছিল বলে। ঠগী দস্যুদের নেতা বেহরাম মধ্য ভারত পর্যন্ত দাপিয়ে বেড়াত। ১৮৪০ সালে তাকে ফাঁসিতে ঝোলানো হয়।