মেইন ম্যেনু

এই সেই উঁচু পাহাড় যেখানে আদম (আঃ)কে জান্নাত থেকে দুনিয়াতে পাঠানো হয়েছিল

শ্রীলঙ্কার একটি পাহাড়ের নাম এ্যাডাম পিক বা আদম চূড়া। পাহাড়টি পৃথিবীর সূচনালগ্ন থেকে এখনও রহস্যময়। ধারণা করা হয়, পৃথিবীর প্রথম মানুষ হযরত আদম আ. কে নিষিদ্ধ ফল খাওয়ার কারণে জান্নাত থেকে এখানেই ফেলা হয়েছিল।

শ্রীলঙ্কার এই আদম চূড়া বা এ্যাডাম পিক-এ বিশাল এক পাথরে একটি পদচিহ্ন রয়েছে। যার দৈর্ঘ্য ৫ ফুট ৭ ইঞ্চি এবং প্রস্থ ২ ফুট ৬ ইঞ্চি। অলৌকিক এই পদচিহ্ন ঘিরে রয়েছে নানা রহস্য! পাহাড়ের স্থানটিতে হজরত আদম আ. এর পায়ের চিহ্ন রয়েছে সেই স্থানে জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত সূর্যের আলো এবং মে থেকে নভেম্বর পর্যন্ত বৃষ্টি হয় না!

আদম চূড়াটি শ্রীলঙ্কার দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্তের শ্রীপাড়া নামের প্রদেশে অবস্থিত। মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের কাছে এই চূড়াটি বহু বছর আগে থেকেই সম্মানিত। প্রতিদিন এখানে হাজার হাজার দর্শনার্থী আসেন রহস্যময় আদমের পায়ের চিহ্ন দেখতে।

আদম চূড়াটির চারপাশ ঘিরে আছে সবুজ প্রকৃতি। ঢেউয়ের মতো বয়ে চলা উঁচু-নিচু টিলা। রয়েছে অসংখ্য ছোট ছোট নদী ও পাহাড়ি ঝরনা। সব মিলে এক নজরকাড়া দৃশ্য। যে কারণে পুরো আদম চূড়াটি সব ধরনের মানুষের কাছে আকর্ষণীয় জায়গা হিসেবে স্থান পেয়েছে।

আদম চূড়ার উচ্চতা ৭৩৬২ ফুট বা ২২৪৩ মিটার। খ্রিস্টপূর্ব ৩০০ অব্দে এই পদচিহ্ন আবিষ্কৃত হয়। আবিষ্কৃত হওয়ার পর পরই পদচিহ্নের চারপাশ ঘেরাও করে রাখা হয়। যুগ যুগ ধরে শত শত পর্যটক ভ্রমণ করেছেন চূড়াটিতে। তবে চূড়াটিতে যাওয়া সহজ ব্যাপার নয়। প্রথমে নৌকা তারপর পায়ে হেঁটে উঁচু পাহাড়ে উঠা, সেখান থেকে অনেক কষ্টের পরই চূড়ায় উঠতে হয়। একটু অসাবধান হলেই ঘটতে পারে নানা বিপত্তি। সাপ, বিষাক্ত পোকা-মাকড়ের কামড়ে ঘটতে পারে মৃত্যু।

আশ্চর্য্যের বিষয় হল এই চূড়াটি বছরের পর বছর অবিকল রয়ে গেছে। এর সৌন্দর্য এতটুকু হ্রাস পায়নি।

মুসলমানদের পাশাপাশি এ্যাডাম পিক খ্রিস্টান, বৌদ্ধ ও হিন্দুদের কাছেও এটি পবিত্র। বৌদ্ধ ও হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা মনে করে এটা তাদের দেবতার পদচিহ্ন। বৌদ্ধরা মনে করে চূড়াটি তাদের অস্তিত্বের আদি প্রতীক।