মেইন ম্যেনু

এই সেই বই, যাতে ঘুমিয়ে রয়েছে ৭২টি চরম ক্ষমতাধর আত্মা?

১৮ শতকের ইউরোপে প্রায় প্রকাশ্যেই মাথা চাড়া দেয় গুপ্তবিদ্যার চর্চা। এই সময়েই অকাল্ট চর্চাকারীদের হাতে হাতে ঘুরতে শুরু করে এমন একটি বই, যার কোনও নামই নেই।

ইউরোপে ১৮ শতক ছিল কালোজাদুর পুনরুত্থানের কাল। মধ্যযুগ ধরে ক্যাথলিক চার্চের দাপটে শয়তান উপাসকদের বহু রকম অন্তরাল খুঁজতে হয়েছেল। ক্রমাগত ‘উইচ হান্টিং’ এবং ডাইনি সন্দেহে একের পরে এক গণহত্যা তাঁদের এই অন্তরালবাসকে অনিবার্য করে তোলে। কিন্তু, ১৮ শতকের ইউরোপে প্রায় প্রকাশ্যেই মাথা চাড়া দেয় গুপ্তবিদ্যার চর্চা। এই সময়ে বেশ কিছু প্রাচীন গ্রন্থ পুনরুদ্ধৃত হয়, নতুন করে সংকলিত ও সম্পাদিত হয়। এই সময়েই অকাল্ট চর্চাকারীদের হাতে হাতে ঘুরতে শুরু করে এমন একটি বই, যার কোনও নামই নেই।
অজ্ঞাতনামা এই বইকে অবশ্য অকাল্টবাদীরা একটা নাম দেন— ‘ক্ল্যাভিক্যুলা সলোমনিস রেজিস’।

এই খটোমটো নামকে স্থগিত রেখে দুটো ডাকনামও চালু হয়— ‘লেমেগেটন’ বা ‘লেসার কি অফ সলোমন’। দাবি করা হতে থাকে, এই গ্রন্থ আসলে বাইবেল-বর্ণিত কিংগ সলোমনের দ্বারা সংকলিত। বইটি ৫টি পর্বে বিভক্ত— ‘আরস গোয়েতিয়া’, ‘আরস থেরুজিয়া-গোয়েতিয়া’, ‘আরস পলিনা’, ‘আরস আলমেডাল’ এবং ‘আরস নটোরিয়া’।

কথিত আছে, রাজা সলোমন আমাদের দেশের কিংবদন্তির রাজা বিক্রমাদিত্যের মতোই পিশাচসিদ্ধি লাভ করেছিলেন। তফাত এখানেই, বিক্রমাদিত্য নিয়ন্ত্রণ করেতন দু’টি পিশাচকে আর সলোমনের তাঁবেতে ছিল ৭২টি পৈশাচিক শক্তি। ‘লেমেগেটন’-এর প্রথম পর্ব ‘আরস গোয়েতিয়া’-য় এই ৭২টি ডার্ক অস্তিত্বের একটি তালিকা রয়েছে এবং সেই সঙ্গে রয়েছে তাদের জাগানোর পদ্ধতি ও নিয়ন্ত্রণ করার প্রক্রিয়া। এই তালিকা থেকে জানা যায়,

পৈশাচিক জগতও এক স্তরবিভক্ত সমাজ। সেখানে ক্ষমতার তারতম্য রয়েছে, আধিপত্য ও অধিনস্ততা রয়েছে। এই ৭২ পিশাচের মধ্যে অনেকেই আবার স্বর্গ থেকে বিতাড়িত দেবদূত। মনে রাখতে হবে, স্বয়ং শয়তানও একজন স্বর্গচ্যুত এঞ্জেল। তাঁর শাগরেদ হিসেবে এই ‘ফলেন এঞ্জেল’-রা সক্রিয় থাকে। এদের উপরে প্রভাব বিস্তার করতে পারলে অসংখ্য পার্থিব সুখের দরজা খুলে যায়।

অষ্টাদশ শতক থেকে ব্ল্যাক ম্যাজিশিয়ান এবং ডেমোনোলজিস্টদের হাতে হাতে ঘুরতে থাকে এই বই। ক্যাথলিক চার্চ বিশেষ কিছু করতে পারেনি ‘লেমেগেটন’-এর প্রসার-প্রতিপত্তির ব্যাপারে। মহা উৎসাহে ৭২ পিশাচের চর্চা চলতে থাকে। এমনকী, ১৯ ও ২০ শতকেও অকাল্টবাদীরা এই গ্রন্থকে ব্যাপক গুরুত্ব দেন।