মেইন ম্যেনু

এই হিমালয়ের কোলে লুকিয়ে আছে নানা রহস্য

যাদের কাছে ঘুরতে যাওয়া মানে রোমাঞ্চ আর পরতে পরতে লুকিয়ে থাকা রহস্য, তাদের জন্য আদর্শ গন্তব্য হতে পারে ভারতের উত্তরাখণ্ডের মুনশিয়ারি৷ বরফের চাদরে ঢাকা এই পাহাড়ি উপত্যকার প্রতিটি মোড়ে আপনার জন্য অপেক্ষা করে রয়েছে নতুন কোনও সারপ্রাইজ৷ মার্চ-এপ্রিলে পর্যটকদের প্রিয় জায়গাগুলির মধ্যে একটি হয়ে ওঠে মুনশিয়ারি৷

কথিত আছে, মহাভারতের যুগে পাণ্ডবরা এই মুনশিয়ারি থেকে স্বর্গের পথ ধরেছিলেন৷ তিব্বতের প্রাচীন সল্ট রুটটিও এই শহর ছুঁয়েই গিয়েছে৷ বেশিরভাগ পর্যটকরা ট্রেকিংয়ের টানে চলে আসেন৷ মিলান, রালাম, নামিক হিমবাহে ট্রেকিংয়ের অভিজ্ঞতাই অন্যরকম৷ আর যারা ট্রেকিংয়ে অভ্যস্ত নন, তারা এখানে আসেন হিমালয়কে ভালবেসে৷ বরফে ঢাকা নন্দদেবী, নন্দকোট, রাজারম্ভার মতো হিমালয়ের বেশ কয়েকটি চূড়া দেখা যায় এখান থেকে৷ প্রকৃতির অপরূপ এই সৌন্দর্য ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন৷ পাহাড়ের কোলে নন্দ দেবীর মন্দিরে অবশ্যই যাবেন৷

এর আরও একটি আকর্ষণ হল বিরথি জলপ্রপাত৷ মুনশিয়ারি থেকে ৩৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত জলপ্রপাতের জল ১২৬ মিটার গভীর খাদে পড়ে৷ এবার দেখে নিন ঐতিহ্যবাহী মেহসার কুণ্ড৷ এই কুণ্ডকে ঘিরে রয়েছে একটি প্রেমকাহিনী৷ গ্রামের একটি মেয়েকে ভালবাসতেন যক্ষ৷ কিন্তু গ্রাম যক্ষের ভালবাসার অসম্মান করায় তিনি প্রতিশোধ নিয়েছিলেন৷ এই কুণ্ড তারই সাক্ষ্য বহন করে৷ এরপর পাঞ্চৌলি থেকে হিমালয়ের শোভা দেখে নিন৷ সূর্যাস্তের সময় সোনালি তুষারাবৃত পাহাড় দেখার সৌভাগ্য তো আর রোজ রোজ হয় না৷

কীভাবে যাবেন : কলকাতা থেকে ট্রেনে কাঠগোদাম৷ সেখান থেকে বাসে বা গাড়িতে মুনশিয়ারি যাওয়া যায়৷ এতবে ঢাকা থেকে কোন সরাসরি বিমান নেই। যেতে হলে আগে হয় কলকাতায় নয়ত দিল্লীতে। দিল্লী ও কলকাতা থেকে সরাসরি মুনশিয়ারি যাওয়ার বিমানও রয়েছে৷

কোথায় থাকবেন : পিথোরাগড় জেলায় মুনশিয়ারিতে থাকার জন্য ছোট বড় সবধরনের হোটেলই পেয়ে যাবেন৷ তবে মার্চ-এপ্রিলে গেলে আগে থেকে হোটেল বুক করে রাখা ভাল৷