মেইন ম্যেনু

একই ঘটনা, সুখী-অসুখী দম্পতিদের পার্থক্য শুধু প্রতিক্রিয়ায়

দাম্পত্য জীবনে সুখ ও অশান্তির আনাগোনা থাকবেই। তবে আপাতদৃষ্টিতে যারা সুখী দম্পতি, একই ঘটনা বা বিষয়কে তারা একটু ভিন্নভাবে মানিয়ে চলেন। বিশেষজ্ঞের মতে, এতে শান্তি নষ্ট করে যে বিষয়গুলো, তাদের সহজেই এড়িয়ে চলা যায়। তাই দুজনের আন্তরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমেই যেকোনো নেতিবাচক পরিস্থিতিকেও সহজে মানিয়ে নেওয়া যায়। এখানে দেখুন, একই বিষয়ে সুখী এবং অসুখী দম্পতিরা কিভাবে প্রতিক্রিয়া করেন।

১. যেকোনো একজন চাকরি হারিয়েছেন :
অসুখী দম্পতি : এ ক্ষেত্রে অপরজন রাগ বা কটু মন্তব্য দিয়ে তার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। পুরো দোষটাই চাপিয়ে দেন চাকরিচ্যুতের ঘাড়ে।

সুখী দম্পতি : তাদের প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া হয়ে ওঠে সমবেদনা জ্ঞাপন। যিনি চাকরি হারিয়েছেন, তার মনের অবস্থা মোটেও ভালো নেই। এ সময় মানসিকভাবে তার পাশে দাঁড়ানো উচিত। তারপর কিভাবে এমন হলো জাতীয় প্রশ্ন করে বিস্তারিত আলোচনা করেন তারা।

২. একজন অপরের ওপর চড়াও হলে :
অসুখী দম্পতি : এদের জন্যে ঘটনাটি এক বিপজ্জনক অবস্থার সৃষ্টি করে। দৈহিক বা মানসিকভাবে অপরের ওপর চড়াও হওয়ার ঘটনা ঘটে থাকে। এমনটা ঘটে একে অপরের ও পর বিশ্বাস হারালে। কাজেই বিশ্বাস রাখাটাই জরুরি বিষয়। বিশ্বাস না করতে পারলে সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে সরাসরি জিজ্ঞাসা করা যায়। কিন্তু আগেই চড়াও হওয়া উচিত নয়।

সুখী দম্পতি : কেউ অন্যের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে বলে মনে হলেও নিজেদের মধ্যে আলোচনায় তা মিটিয়ে নেওয়া সম্ভব। সন্দেহের ওপর আস্থা রেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া বোকামি। তাই সুখী দম্পতিরা এমন পরিস্থিতিতে আলোচনা করেন।

৩. বাবা-মা এ সম্পর্কে মেনে নেননি :
অসুখী দম্পতি : এ দুঃখে নিজেদের সম্পর্ককে অবহেলা করতে শুরু করেন অসুখী দম্পতিরা। ধরুন, শাশুড়ি তার ছেলের বউকে দেখতে পারছেন না। এ ক্ষেত্রে স্বামী তার মায়ের সমর্থন নিয়ে বউকে অবহেলা করতে শুরু করেন বিনা কারণে। কিন্তু বিবেকবান ও সাধারণ জ্ঞানবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ তা করতে পারনে না।

সুখী দম্পতি : কিন্তু যারা নিজেদের মধ্যকার সুখ ধরে রাখতে চান, তারা বাবা-মায়ের অভিযোগ নিয়ে কথা বলেন। তাদের কোনো ভুল থাকলে তা ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করেন। নিজেদের ভুলগুলো সংশোধন করাতেও তাদের আন্তরিক ইচ্ছা থাকে।

৪. সবচেয়ে কাছের বন্ধুর বিষয়ে…..:
অসুখী দম্পতি : সবারই কাছের বন্ধু থাকে। কিন্তু বিয়ের পর অনেকেই সঙ্গী বা সঙ্গিনীর কাছের বন্ধুদের মেনে নিতে চান না। এতে অশান্তির সৃষ্টি হয়।

সুখী দম্পতি : যদি সঙ্গী বা সঙ্গিনী একে অপরের কাছের বন্ধুকে মেনে নিতে না পারেন, তবে সুখী দম্পতিরা বিষয়টি উপলব্ধি করার চেষ্টা করেন। আবার অনেকে এক একেবারে স্বাভাবিক বিষয় বলে মেনে নেন। এ ক্ষেত্রে বিশ্বস্ততা বড় ধরনের ভূমিকা রাখে।

৫. প্রেমের সময় নেই :
অসুখী দম্পতি : কেউ দাম্পত্য জীবনে যৌনতা নিয়ে সুখী না হলে অপরকে দোষারোপ করেন। এতে অপরজন হিনমন্যতায় ভোগেন।

সুখী দম্পতি : এরা তার মানসিক অশান্তি নিয়ে অপরের সঙ্গে আলোচনা করেন। একে অপরের সঙ্গে এ নিয় কথাও বলেন।

৬. একজন কাজপাগল মানুষ :
অসুখী দম্পতি : একজন কাজপাগল হলে অপরজন বেশ চাপ প্রয়োগ করেন। দ্রুত বাড়িতে আসার চাপ, এখানে ওখানে যাওয়ার চাপ নিয়মিত থাকে। যেহেতু তিনি কাজপাগল মানুষ, কাজেই তাকে কাজ থেকে দূরে সরিয়ে রাখাই একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে থাকে।

সুখী দম্পতি : এরা বোদ্ধা হওয়ার চেষ্টা করেন। হয়তো কেউ ওপর উঠতেই প্রচুর পরিশ্রম করছেন। এ ক্ষেত্রে তারা সহযোগী হওয়ার চেষ্টা করেন।

৭. একজন অসুস্থ :
অসুখী দম্পতি : একজন অসুস্থ হতেই পারেন। বেশ কিছু দিন অসুস্থ থাকাটও বিচিত্র কিছু নয়। কিন্তু এতে অপরের বিরক্তি প্রকাশ মোটেও কাম্য নয়। এটা অসুস্থ সঙ্গী-সঙ্গিনীর অশান্তির কারণ হয়ে ওঠে।

সুখী দম্পতি : এ ক্ষেত্রে যারা সুখ ধরে রাখতে চান তারা অপরের শুশ্রূসায় মনোনেবিশ করেন। এটা দুষ্কর মনে হলেও তা বিরক্তির উদ্রেক ঘটায় না। সুস্থজন অসুস্থতাকে সহজেই মেন নেন।

সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া