মেইন ম্যেনু

বেরোবিতে নিখোঁজ ৪ শিক্ষার্থী

একজন প্রশাসনকে অবগত করেছে, অন্যরা দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ পরিবারও জানে না

এইচ.এম নুর আলম, বেরোবি প্রতিনিধি: রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের(বেরোবি) নিখোঁজ শিক্ষার্থীদের তথ্য বিবরণী পাঠিয়েছে স্ব স্ব বিভাগ। এদেও মধ্যে ৪ জনের দীর্ঘদিন ধওে অনুপস্থিতির বিষয়টি জানা গেছে। অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে নিখোঁজদের দুই শিক্ষার্থীর একজন আহসান উল্লাহ আনছারী নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জেএমবির সুসাইড স্কোয়াডের সদস্য। সে রংপুরে জাপানি নাগরিক হোসি কোনিও, কাউনিয়ায় মাজারের খাদেম ও আওয়ামী লীগ নেতা রহমত আলী হত্যা মামলায় চার্জশিটভুক্ত আসামি। সে ২০১৫ সালের ১৬ অক্টোবর থেকে নিখোঁজ রয়েছে। অন্য যে শিক্ষার্থী নিখোঁজ রয়েছে তার নাম আবদুল্লাহ আল মামুন। সে চলতি বছরের ১০ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর দফতর দুই শিক্ষার্থীর নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

এছাড়াও উইমেন এন্ড জেন্ডার স্টাডিজ(ডব্লিউজিএস) বিভাগের মতিয়ার রহমান নামে এক শিক্ষাথীরও খোঁজ মিলছে না। প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী সে রংপুর জেলে রয়েছে বলে জানা গেছে। ইংরেজি বিভাগের সাদারুল ইসলাম নামের এক শিক্ষার্থীর সন্ধান না পাওয়ায় রেজিস্ট্রার দপ্তরে তথ্য পাঠানো হয়েছে। তবে ঐ শিক্ষার্থী দুই দিন পরে এসে দীর্ঘদিন তার অনুপস্থিতির কারণ জানিয়েছে। বিভাগটির নাইম নামের আরেক শিক্ষার্থীরও খোঁজ মিলছে না বলে জানিয়েছে পুলিশ। সে ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী কি না সেটার বিষয়ে সন্দেহ রয়েছে পুলিশের। সংশ্লিষ্ট বিভাগে তার কোনো নাম পাওয়া যায় নি।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, নিখোঁজ আহসান উল্লাহ আনছারী ওরফে বিপ্লব বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষে পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী হিসেবে ভর্তি হয়। সে কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট উপজেলার ফোরকারহাট গ্রামের আবদুল হাসিব আনছারীর ছেলে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর কিছুদিন ক্লাস করার পর সে দীর্ঘদিন অনুপস্থিত ছিল। এক বছর পর ২০১৩-১৪ শিক্ষা বর্ষে সে আবারও বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে পুনরায় ভর্তি হয় এবং প্রথম সেমিস্টার পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পরীক্ষা দেয়। সর্বশেষ সে গত বছর ২০১৫ সালের ১৬ অক্টোবর পরিসংখ্যান বিভাগের ভাইবা বোর্ডে উপস্থিত হয়েছিল। এরপর থেকে তার আর কোন খবর পাওয়া যায়নি। এমনকি চলতি বছর ১৪ জানুয়ারি পরবর্তী সেমিস্টারে ভর্তির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হলেও সে আর আসেনি। মূলত গত বছরের ১৬ অক্টোবর থেকে সে নিখোঁজ রয়েছে বলে প্রক্টর অফিসের সেকশন অফিসার শহীদ আল আমিন জানিয়েছেন। এ ব্যাপারে একজন কর্মকর্তা জানান, শিক্ষার্থী আহসান উল্লাহ নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি তার বড় ভাই হাবিবুল্লা আনছারীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনিও তার ভাই নিখোঁজ রয়েছে বলে জানিয়েছেন।

এদিকে গত বছর ২০১৫ সালের অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে রংপুরে এক জাপানি নাগরিক ও মাজারের খাদেম হত্যা ও বাহাই সম্প্রদায়ের নেতা রুহুল আমিনকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে ৩ অক্টোবর রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার সারাই ইউনিয়নের আলুটারী গ্রামে নিজের ঘাসের খামার দেখতে গেলে জাপানি নাগরিক হোচি কোনিওকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এর এক মাস ৫ দিন পর গত বছরের ৮ নভেম্বর প্রকাশ্য দিবালোকে রংপুর নগরীর আর কে রোড এলাকায় বাসা থেকে কর্মস্থল রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসার জন্য বাসা থেকে বের হওয়া মাত্রই খ্রিস্টানদের বাহাই সম্প্রদায়ের নেতা রুহুল আমিনকে গুলি করে দুর্বৃত্তরা। এর মাত্র ২ দিনের মাথায় গত বছরের ১০ নভেম্বর রাত ১০টার দিকে রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার টেপামধুপুর গ্রামে বাজার থেকে বাসায় ফেরার পথে স্থানীয় পীরের মাজারের খাদেম ও আওয়ামী লীগ নেতা রহমত আলীকে জবাই করে নৃশংসভাবে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।

দীর্ঘ তদন্ত শেষে চলতি জুলাই মাসেই পুলিশ জাপানি নাগরিক হোচি কোনিও হত্যাসহ ৩ ঘটনায় জেএমবিকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে।

এর মধ্যে জাপানি নাগরিক ও মাজারের খাদেম হত্যার ঘটনায় বেরোবির শিক্ষার্থী আহসান উল্লাহ আনছারীর নামে চার্জশিজ প্রদান করে পুলিশ। রংপুরের সরকারি আইন কর্মকর্তা আবদুল মালেক অ্যাডভোকেট জানান, ওই দুটি মামলায় আনছারী সরাসরি কিলিং মিশনে অংশ নিয়েছে বলে চার্জশিটে উল্লেখ রয়েছে। তবে সে রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী কিনা তা তিনি জানেন না বলে জানান।

ইংরেজি বিভাগ ও প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, সাদারুল ইসলাম ইংরেজি বিভাগের ২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র। সে ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষে রিঅ্যাড(পুন:ভর্তি) নেয় এবং পরের বছর একটি সেমিস্টার পরীক্ষা দিয়ে অকৃতকার্য হয়। ফলে তাঁর ভর্তি বাতিল হয়ে যায়। এ সত্তেও বিভাগ তার অনুপস্থিতি সম্পর্কে তথ্য দিলে সাদারুল ইসলাম নিজে এসে তাঁর অকৃতকার্যতা এবং তাঁর অবস্থান সম্পর্কে বিভাগ ও প্রশাসনকে অবগত করে। সে সাক্ষাতে ও মোবাইলে জানায়, সে ২য় বার রিঅ্যাড নিয়ে ভর্তি হয়ে সেমিস্টার ফাইনালে অকৃতকার্য হয় এবং তাঁর ভর্তি বাতিল হয়। বর্তমানে সে বাড়িতে কৃষিকাজে রয়েছে।

ডব্লিউজিএস বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ ব্যাচের শিক্ষার্থী মতিয়ার রহমান চলতি বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত নিখোঁজ রয়েছে। সে ২০১৪ সালের ৩১ মার্চ ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হয়। মতিয়ার নীলফামারী জেলার কিসামত দক্ষিণ গোড় গ্রামের আজিজুল ইসলামের ছেলে। ভর্তির সময় প্রদানকৃত তাঁর পিতা-মাতার দুটো মোবাইল নম্বরে কল করেও কারো সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তাঁর বন্ধুরা জানায়, প্রায় ৭ মাস আগে এক দুপুরে রংপুর পার্কের মোড় থেকে একটি সাদা গাড়ি তাঁকে তুলে নিয়ে যায়। এর আগে তাঁর অবস্থান নিশ্চিত করতে তাঁর মোবাইলে এক অপরিচিত নম্বর থেকে কল করা হয়। দীর্ঘদিন আগে তাঁর কয়েকজন বন্ধু রংপুর কারাগারে তাঁকে দেখে আসেন বলে জানা যায়। তবে কী কারণে সে কারাগারে রয়েছে তা জানা যায় নি।

এদিকে ইংরেজি বিভাগে অধ্যয়নরত নাইম নামের এক শিক্ষার্থীকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে পুলিশ। কিছুদিন আগে তাঁর পরিবার তাদের নিকটাত্মীয় দ্বারা তাঁকে বেরোবিতে খুঁজতে এসে পুলিশকে এ তথ্য জানায়। তবে খোঁজ নিয়ে জানা যায় এই নামে ৮ম ব্যাচে অধ্যয়নরত কোনো শিক্ষার্থী নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের পুলিশ ফাঁড়ির এক সদস্যকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে বলেন, মতিয়ার ও নাইম এর ব্যাপারে আমাদের কাছে কোনো চিঠি আসেনি।

বিশ্ববিদ্যালয় ও রংপুর পুলিশ প্রশাসন এদের ব্যাপারে অনুসন্ধান চালাচ্ছে বলে জানা গেছে।