মেইন ম্যেনু

একটা কিছু করতে চায় প্রীতিলতা, দরকার একটা হুইলচেয়ার

বৃদ্ধ নানা শান্তিসরণ সুস্থ থাকলে স্কুলে যাওয়া হয় প্রীতিলতার; তা না হলে স্কুলে যেতে পারে না। কারণ, প্রীতিলতা শারীরিক প্রতিবন্ধী। আর হুইলচেয়ার কেনার সামর্থ্যও নেই তার পরিবারের।

প্রীতিলতা সাহা (১১) যশোর সদর উপজেলার বারীনগর গ্রামের মৃত প্রশান্ত সাহার মেয়ে। বর্তমানে থাকে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার মস্তবাপুর গ্রামে, নানাবাড়িতে। জন্ম থেকেই প্রীতিলতার দুটি পা বাঁকানো। পায়ে ভর করে চলতে পারে না সে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, নানাবাড়ি থেকে এক কিলোমিটার দূরে মস্তবাপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ছে প্রীতিলতা। নানা শান্তিসরণ তাঁর সাইকেলে করে প্রীতিলতাকে বিদ্যালয়ে আনা-নেওয়া করেন। শান্তিসরণের বয়স ৭২ বছর। এই বয়সে মাঝেমধ্যেই অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। তখন আর বিদ্যালয়ে যাওয়া হয় না প্রীতিলতার। এভাবেই চলছে তার পড়ালেখা।

শান্তিসরণ বলেন, ১৯৯৫ সালে মেয়ে সুজাতাকে বিয়ে দেন। সুজাতা-প্রশান্ত দম্পতির দুটি মেয়েসন্তানের জন্ম হয়। প্রশান্ত তিন বছর আগে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। এরপর সুজাতা দুই মেয়ে প্রিয়াঙ্কা সাহা ও প্রীতিলতাকে নিয়ে তাঁর (শান্তিসরণ) বাড়িতে ওঠেন। উচ্চমাধ্যমিক পাসের পর এখান থেকেই বড় মেয়ে প্রিয়াঙ্কার বিয়ে হয়েছে। ছোট মেয়ে প্রীতিলতা জন্ম থেকেই প্রতিবন্ধী।

শান্তিসরণ বলেন, চার শতক জমির ওপর বাড়ি তাঁর। চাষাবাদের কোনো জমি নেই। পরিবারের অভাব-অনটন দেখে সুজাতা পোশাক কারখানায় কাজ করতে ঢাকায় চলে যান। প্রীতিলতাকে রেখে যান তাঁর বাড়িতে।

মামা মনোজ সাহা বলেন, প্রীতির বাঁকানো পা সোজা করতে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে দুবার অস্ত্রোপচার করানো হয়েছে। কিন্তু কোনো ফল হয়নি।

প্রতিবন্ধী হলেও পড়ালেখার প্রতি খুব আগ্রহ প্রীতিলতার। তাই অন্যের সহযোগিতা নিয়ে স্কুলে যাওয়া শুরু করে সে। পঞ্চম শ্রেণিতে জিপিএ-৪ দশমিক ৪৬ পেয়েছে প্রীতিলতা। তার খুব ইচ্ছা, একটি হুইলচেয়ার হলে নিজেই তা চালিয়ে স্কুলে যেতে পারত। নানাকে কয়েক দফা বলেছেও। কিন্তু দরিদ্র শান্তিসরণের পক্ষে তা কিনে দেওয়া সম্ভব হয়নি। তাই কষ্ট হলেও তিনি সাইকেলে করে প্রীতিলতাকে স্কুলে পৌঁছে দেন।

প্রীতিলতা বলে, যেকোনো কিছুর বিনিময়ে পড়ালেখা তাকে শিখতেই হবে। পড়ালেখা করেই তাকে একটা কিছু করতে হবে। কারণ, সারা জীবন সে অন্যের বোঝা হয়ে থাকতে চায় না। -প্রথম আলো