মেইন ম্যেনু

একটা ভাটফুলের গল্প

নাম হৃদয়। বাবা নেই। মরে গেছে। মরে গেছে বলাটা ভুল হবে না। বেঁচে আছে কিন্তু, হৃদয় ও তার মায়ের কাছে সে আজ বেঁচে না থাকার মতোই। এ পরিচ্ছন্ন শহরের কোন পরিচ্ছন্ন মানুষের সাময়িক সুখের নোংরা স্মৃতির ফসল হৃদয়। থাক সে গল্প। এমন গল্প তো বরাবরই ঘটে। সময়ের সাথে সাথে ব্যাপারটা সহজ হয়ে গেছে। হ্যাঁ, হদয়ের কথা বলতে ছিলাম।

হৃদয়ের বয়স আট পেরিয়েছে। মাস দুই পর নয় হবে। স্কুলে পড়ে সে। শহরতলীর কোন এক বস্তিতে মাথা গুজবার জন্য আছে ছোট্ট একটা তালপাতার ছাউনি। ঝড়ে ভেঙ্গে যায়। আবার বাঁচাবার আশাকে পুঁজি করে নতুন ছাউনি তোলে হৃদয় ও তার মা। মা অন্যের বাড়িতে কাজ করে। হৃদয় কেন জানি তা সহ্য করতে পারে না। হয়তো জন্মের কাহিনী অবচেতন মনে আন্দাজ করতে পারে। তাই হয়তো ভয় পায় সে। তবুও মা কাজ করে। সবাই যখন খেলায় ব্যস্ত তখন হৃদয় কাঁধে একটা ব্যাগ ঝুলিয়ে হেটে চলে শহরের গলিতে গলিতে। এ বাড়ি থেকে ও বাড়ি। আর কান্তের ছাপ পরা মুখেটায় একটা মাত্র কথা “জুতা,ব্যাগ সেলাই করাবেন? জুতা, ব্যাগ সেলাই”। কচি মুখের দিকে তাকিয়ে কেউ কেউ একটু মায়া করে। কেউ মাথায় হাত বুলিয়ে দেয়। ভালই লাগে হৃদয়ের।

ছোট্ট মানুষের এই রোজগারে চলে তিন জনের পরিবার। ও, আর একজনের কথা তো বলা হয় নি। যে কিনা তাদের অল্প সুখের পরিবারে সাময়িকভাবে দুঃখের কারণ। খালি বসে বসে খায়। আর ঝগড়া বেঁধে বেড়ায়। সে হৃদয়ের নানি। বুঝ বয়স থেকেই তাকে তাদের সাথে থাকতে দেখে হৃদয়। এটা হৃদয়দের রোজকার জীবনচিত্র।

এমনিভাবেই কাটে হাজারো হৃদয়ের জীবন। যাদের জন্মদাতার পরিচয় থাকে না। পরিচয়ের নিষ্ঠুরতার ভিড়ে তারা পরিচয়হীন পথশিশু। হৃদয়েরাও স্বপ্ন দেখে বিশ্বজয়ের। স্বপ্ন দেখে পরিচয় নিয়ে বাঁচবার। তাদের স্বপ্নগুলো পুরণ হউক। হৃদয়েরা বাঁচুক ভাল ভাবে। জাগ্রত হউক ধনবান মানুষগুলির বিবেক। আর কোন হৃদয় যেনো এমনি নাম পরিচয় বিহীন না হয়।

লেখক:

আল-আমীন আপেল
শিক্ষার্থী, (একাউন্টিং এন্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগ)
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর।