মেইন ম্যেনু

একটা রাত, তিনটে মেয়ে এবং অমিতাভ বচ্চন

মধ্যবিত্ত পরিবারের তিন চাকুরিরতা মহিলা- মিনাল, ফালাক আর আন্দ্রিয়া। অফিস থেকে বাড়ি ফিরে তিন বন্ধুদের মধ্যে চলে হাসি-ঠাট্টা-গসিপ। একটি রক কনসার্টের পর সূরজকুন্ডের রিসর্টে প্রভাবশালী, হ্যান্ডসাম রাজীব ও তাঁর আরও দুই বন্ধুদের সঙ্গে ডিনারে যান তিন বান্ধবী।

এখানেই গল্পের মোড় ঘুরে যায়। দু-চুমুক ড্রিঙ্কের পরই হাতছাড়া হয়ে যায় পরিস্থিতি। বেশকিছুক্ষণ কেটে যাওয়ার পর, আন্দ্রিয়া বুঝতে পারেন, ডাম্পি (রাসূল ট্যান্ডন) আর রাজীব মিনালকে সন্মান নষ্ট করার চেষ্টা করছে। আন্দিয়া ঘোরের মধ্যেই মিনালের আর্তচিত্‍কা শুনতে পাচ্ছেন। কিন্তু উঠে তাকে যে সাহায্য করার ক্ষমতা নেই।

আত্মসম্মান আর আব্রু রক্ষার তাগিদে আক্রমণকারীদের বোতল ছুড়ে মারেন মিনাল। চোখে আঙুল দিয়ে আঘাত করে সেই রিসর্ট ছেড়ে পালিয়ে বাঁচেন ওরা। রাতের ভয়ানক ঘটনাকে সঙ্গী করে বাড়ি ফেরেন তারা।

গল্পের শুরুটা হয় এইভাবেই। কাহিনির জল গড়ায় বাস্তব আর সামাজিক পরিস্থিতিকে সঙ্গী করেই। খবরের কাগজ খুললেই যে যে ঘটনা আমাদের চোখে পড়ে, তার বাস্তিবক রূপ দিয়েছেন পরিচালক অনিরুদ্ধ রায় চৌধুরী। অসাধারণ থ্রিলার ছবির মূল গল্পটা না বললেও অনেকেই আন্দাজ করে ফেলেছেন হয়তো। গল্পের সবচেয়ে শক্তিশালী চরিত্র হল দীপক শেহগাল।

একজন দক্ষ আইনজীবীর চরিত্রকে বিশেষ পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছেন অমিতাভ বচ্চন। তাকে নিয়ে বিশেষ কিছু না বলাই ভালো। কারম, তিনি যে এই চরিত্রের জন্য পারফেক্ট, তা সুজিত শিরকার অনেক আগেই বুঝে গিয়েছিলেন। তবে এই সিনেমার মূল ঘটনা দেশের সামাজিক অবস্থাকে একেবারে চোখে আঙুল তুলে দেখিয়ে দেওয়া হয়েছে, মহিলাদের অবস্থা এখনও কোন পর্যায়ে রয়েছে। নিজের জীবন বাঁচাতে গিয়ে সমাজের কাছে কী কী জবাবদিতে হয় প্রত্যেক মহিলাকে, তা আদালত কক্ষে গমগম করেছে। -ইন্ডিয়াটাইমস