মেইন ম্যেনু

একটি ই-মেইল ও ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১৬৮ পরিবারে বিদ্যুৎ

গ্রামটিতে বিদ্যুতের খুঁটি ফেলা হয়েছিল প্রায় এক বছর আগে। প্রায় চার মাস আগে খুঁটিগুলো পুঁতে তারও টানানো হয়। কিন্তু ওই পর্যন্তই। বৈদ্যুতিক সংযোগের জন্য বারবার চেষ্টা করেও কোনো ফল আসেনি। তবে গত বুধবার হঠাৎ পাল্টে যায় দৃশ্যপট। তৎপর হয়ে ওঠেন পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। বিকেলের মধ্যেই বৈদ্যুতিক সংযোগ পায় ১৬৮টি পরিবার।

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এই হঠাৎ তৎপরতার মূলে রয়েছে একটি ই-মেইল। ওই ই-মেইলের সূত্র ধরে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশে মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বৈদ্যুতিক সংযোগ এল যশোরের চৌগাছা উপজেলার ফুলসারা ইউনিয়নের ছোট্ট গ্রাম চান্দায়।

গ্রামের কয়েকজন জানান, প্রায় এক বছর আগে গ্রামটিতে বৈদ্যুতিক সংযোগের জন্য খুঁটি আনা হয়। প্রায় চার মাস আগে খুঁটি পুঁতে তাতে তার টানানো হয়। এরপর থেমে যায় বৈদ্যুতিক সংযোগের কাজ। অবশেষে গ্রামের এক ব্যক্তির জামাই প্রসেনজিৎ রায় বিষয়টি জানিয়ে গত সোমবার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদকে একটি ই-মেইল বার্তা পাঠান। ই-মেইলটি পড়ে প্রতিমন্ত্রী ওই দিন তাঁকে পাল্টা ই-মেইল করেন। এতে প্রতিমন্ত্রী অচিরেই ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।

প্রসেনজিৎ রায়ের বাড়ি যশোরের অভয়নগর উপজেলার রাজাপুর গ্রামে। তিনি বলেন, ‘কয়েক দিন আগে শ্বশুরবাড়ি বেড়াতে গেলে গ্রামের লোকজন আমাকে বিষয়টি জানান। আমি বাড়ি ফিরে এসে বিষয়টি লিখে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রীকে ই-মেইল করি। তিনি তাতে সাড়া দিয়ে গ্রামের ১৬৮টি পরিবারে বৈদ্যুতিক সংযোগের ব্যবস্থা করে দেওয়ায় আমি কৃতজ্ঞ।’

গত বুধবার সকালেই চান্দা গ্রামে বিদ্যুৎ বিভাগের ৩০-৩৫ জনের তোড়জোড় শুরু হয়ে যায়। তাঁরা বিকেল পাঁচটার মধ্যেই গ্রামের ১৬৮টি পরিবারে বৈদ্যুতিক সংযোগ দেন। মিটারের জন্য জামানতের টাকা এ সময় গ্রাহকদের কাছ থেকে সরাসরি নেওয়া হয়।

গ্রামের বাসিন্দা জগদীশ বিশ্বাস বলেন, ‘বিদ্যুৎ এই আসে এই আসে করে এক বছর চলে গেছে। হঠাৎ বুধবার বিদ্যুৎ এসেছে। কীভাবে কী হলো কিছুই বুঝলাম না।’

যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ চৌগাছা আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমরা গ্রামটিতে বৈদ্যুতিক সংযোগের জন্য কাজ শুরু করেছিলাম। এর মধ্যে গ্রামের লোকজন প্রতিমন্ত্রী মহোদয়ের কাছে মিথ্যা অভিযোগ করেছেন। তাঁরা মিটার নেওয়ার জন্য কোনো আবেদনও করেননি।’ তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিমন্ত্রী মহোদয় পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) চেয়ারম্যানকে গ্রামটিতে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বৈদ্যুতিক সংযোগ দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেন। চেয়ারম্যান মহোদয়ের নির্দেশ পেয়ে আমরা মিটারের জামানতের টাকা তাৎক্ষণিক জমা নিয়ে ওই সময়ের মধ্যে গ্রামের ১৬৮টি পরিবারে বৈদ্যুতিক সংযোগ দিয়েছি।’






মন্তব্য চালু নেই