মেইন ম্যেনু

একটি স্কুল একজন শিক্ষক

চুয়াডাঙ্গা জেলার সদর উপজেলার সড়াবাড়িয়া গ্রামে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি পরিচালনা করেন মাত্র একজন শিক্ষক। প্রয়োজনীয় শিক্ষক না থাকায় শিক্ষার্থীরা স্কুল ত্যাগ করে চলে যাচ্ছে বেসরকারি কিন্ডার গার্টেন স্কুলে। চলতি বছর ভর্তি হয়নি কোনো নতুন শিক্ষার্থী।

শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের গাফিলতি ও উদাসীনতার কারণে বিদ্যালয়ের এই অবস্থা। তবে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বলেন, ‘আমাদের কোনো গাফিলতি নেই। শিক্ষক সংকট রয়েছে। বিষয়টি দ্রুত সমাধান করা হবে।’

সরেজমিনে সড়াবাড়িয়া গ্রামে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা মিললো সহকারী শিক্ষক মিজানুর রহমানের। একাই হেড মাস্টার, সহকারী শিক্ষক এবং অফিস পিয়নও। সকালে এসে স্কুলের তালা খোলা এবং স্কুল ছুটির পর বন্ধের কাজটিও তাকে করতে হয়। এলাকার কোমলমতি শিশুদের শিক্ষা থেকে বঞ্চিত না করার জন্য নিজের শত কষ্ট হলেও পর্যায়ক্রমে ৬ জন শিক্ষকের কাজ একাই করছেন তিনি। তবে তা মান সম্পন্ন হচ্ছে না বলে স্বীকার করলেন।

তিনি জানালেন, সড়াবাড়িয়া গ্রামের শিক্ষানুরাগী ও সমাজ সেবক আনছার আলী মল্লিকের দান সম্পত্তি’র উপরে ১৯২৬ সালে গড়ে ওঠে প্রাথমিক বিদ্যালয়টি। প্রতিষ্ঠার ৪০ বছর পর বিদ্যালয়টি সরকারি করা হয়।

সহকারী শিক্ষক মিজানুর রহমান আরো জানালেন, বিদ্যালয়ে শিক্ষক না থাকায় ৩১৬ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে বর্তমানে ২০৬ জন রয়েছে। বাকিরা চলে গেছে বেসরকারি কিন্ডার গার্টেন স্কুলে। এছাড়া চলতি শিক্ষাবর্ষের শুরুতে প্রাক প্রাথমিক বিভাগে ৩০ জন শিক্ষার্থী ভর্তির হওয়ার কথা থাকলেও এলাকার অভিভাবকরা বিদ্যালয়ে শিক্ষক না থাকায় তাদের সন্তানদেরকে কিন্ডার গার্টেন স্কুলে ভর্তি করেছেন।

এলাকার একাধিক অবিভাবক অভিযোগ করেন, শিক্ষক সংকট থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট বিভাগ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ মোট ৬ জন শিক্ষকের মধ্যে গত বছর ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৫ মার্চের মধ্যে ৩ জন শিক্ষককে বদলি করে। এরপর গত ২৮ নভেম্বর বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পদটি শুন্য হয়। থাকেন দুইজন শিক্ষক। এরপরও গত ১ জানুয়ারি প্রাক প্রাথমিক বিভাগের শিক্ষক আতিকুরকে শিক্ষক ট্রেনিংয়ে পাঠানো হয়। এর ফলে বিদ্যালয়ে শিক্ষক বলতে রয়ে যান কেবল সহকারী শিক্ষক মিজানুর রহমান।

এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার রমেন্দ্র নাথ পোদ্দার জানালেন, একজন শিক্ষক একটি স্কুল চালাচ্ছেন এটা তার জানা নেই। তিনি সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসারের সঙ্গে কথা বলে জানান, এমন ঘটনায় শিক্ষক সংকট মোকাবেলায় চুক্তিভিত্তিক (পুলশিক্ষক) নিয়োগ দেওয়া হয়। কিন্তু একজন শিক্ষক স্কুল পরিচালনা করবেন তা ঠিক না। তিনি আরো জানান, জেলায় নতুন ৮৪ জন শিক্ষক নিয়োগ হয়েছে, আরো চাহিদা আছে। যদি উল্লেখিত বিদ্যালয়ে উল্লেখিত সমস্যা হয় তাহলে শিগগিরই শিক্ষক সমস্যা সমাধান করা হবে।

এদিকে সড়াবাড়িয়া বিদ্যালয়ের শিক্ষক মিজানুর রহমানের কাছে মোবাইল ফোনে খোঁজ নিলে তিনি জানান, ১৩ জানুয়ারি কোনো শিক্ষক এই বিদ্যালয়ে যোগদান করেন নি।

সড়াবাড়িয়া গ্রামের সচেতন মহলের ভাষ্য, সরকারের শতভাগ প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে উন্নত স্তরে নেওয়ার প্রয়াসকে পিছিয়ে দিচ্ছেন চুয়াডাঙ্গা জেলার শিক্ষা অফিসাররা। এলাকাবাসী বিদ্যালয়টির শিক্ষক সংকট দূর করার দাবি জানিয়েছেন।