মেইন ম্যেনু

একাদশে ভর্তিতে চার মেধা তালিকা

এবারই প্রথমবারের মতো একাদশে অনলাইনে ভর্তি পদ্ধতি চালু করেছে সরকার। আর নতুন এ পদ্ধতির মাধ্যমে সারা দেশের লাখ লাখ শিক্ষার্থী একাদশে ভর্তি হতে গিয়ে আবেদন থেকে শুরু করে ফলাফল ও ভর্তি নিয়ে পড়েছে চরম জটিলতা ও ভোগান্তির মধ্যে।

শিক্ষার্থীদের এ ভোগান্তির কারণে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের শুরু হয় নতুন মাথা ব্যথা। জটিলতা দূর করতে নতুন পদ্ধতি অবলম্বন করে তারা।

শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ নিজেই রোববার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে একাদশে দুটি মেধা তালিকার বদলে মোট চারটি মেধা তালিকা প্রকাশ করা হবে জানান।

এ চার ধাপে ভর্তির ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘ভর্তির জন্য সময় আমরা তিন সপ্তাহ বাড়িয়ে দিচ্ছি। এ জন্য কোনো বিলম্ব ফি দিতে হবে না। সবাই প্রথম ধাপে এসে বুঝতে পারবে না, পারলেও সে হয়তো টিকবে না, টিকলেও হয়তো তার পছন্দ মতো হবে না। তাই শিক্ষার্থীরা যাতে সময় নিয়ে বিবেচনা করে পরবর্তী সুযোগগুলো নিতে পারে, এ জন্য চার ধাপে মেধা তালিকা প্রকাশ ও ভর্তি করা হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘যেসব শিক্ষার্থী প্রথম ও দ্বিতীয় মেধা তালিকায় নির্বাচিত হয়েও কোনো প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়নি বা নির্বাচিতই হয়নি, তারা তৃতীয় ধাপে কোনো ফি ছাড়া পাঁচটি প্রতিষ্ঠানে শূন্য আসনের বিপরীতে আবেদন করতে পারবে। ৯ ও ১০ জুলাই তারা আবেদন করতে পারবে। তালিকা প্রকাশ করা হবে ১১ জুলাই। এ শিক্ষার্থীরা ১২ জুলাই ভর্তি হবে। এ ছাড়া যারা ভর্তির জন্য আবেদন করেনি কিংবা সুযোগ পেয়ে ভর্তি হয়নি, কোনো ফি ছাড়া তারা ১৩ থেকে ২১ জুলাইয়ের মধ্যে আবেদন করতে পারবে। আবেদনগুলো বিবেচনা করে ২৩ জুলাই তালিকা প্রকাশ করা হবে। নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা ২৫ ও ২৬ জুলাই ভর্তি হতে পারবে।’

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমরা নিশ্চিত এবারের মতো সমস্যা ভবিষ্যতে হবে না। উন্নত মান অর্জনের ক্ষেত্রে শুরুর সমস্যা হলো এটা। বড় কোনো কাজ উন্নত পর্যায়ে নিতে গেলে ছোটখাটো সমস্যা হয়। তবে চূড়ান্ত বিচারে বড় অর্জন সম্ভব হয়। আমি নিশ্চয়তা দিয়ে বলতে চাই, ভর্তি জটিলতার জন্য কোনো শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হবে না, হয়ত একটু বিলম্ব হচ্ছে।’

শিক্ষামন্ত্রীর নতুন এ ঘোষণার ফলে একাদশে ভর্তি-ইচ্ছুক ও প্রথম মেধা তালিকায় চান্স না পাওয়া প্রায় ২ লাখ শিক্ষার্থীর ভর্তির জন্য তৈরি হলো নতুন সুযোগ।

এ বিষয়ে রাজধানীর কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঘুরে একাদশে ভর্তি-ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের কাছে জানতে চাইলে তারা বলেন, ‘একাদশে ভর্তির জন্য সরকার যে নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, তা অবশ্যই একটি ভাল উদ্যোগ বলে আমরা মনে করছি। কিন্তু এটি তাদের প্রথমেই করা উচিৎ ছিল। অনেক শিক্ষার্থী তাদের পছন্দের কলেজে চান্স না পেয়ে বাধ্য হয়ে অন্য একটিতে ভর্তি হয়েছে। তারা তো আর দ্বিতীয়বার পছন্দ মতো অন্য কলেজে ভর্তি হতে পারবে না।’

তারা আরো বলেন, ‘আর যে সকল ছেলেদের মেয়েদের কলেজে নাম এসেছে বা মেয়েদের ছেলেদের কলেজে এসেছে, যারা এখনো মেধা তালিকায় আসেনি বা এখন পর্যন্ত নানা ভর্তি জটিলতার ভর্তি হতে পারেনি, তারা কী করবে। তাদের ভুলগুলো সংশোধন করে মেধা তালিকায় আসতে আসতে বা ভর্তি হতে গিয়ে দেখা যাবে, তাদের পছন্দ মতো কোনো কলেজে সিট খালি নাই। তাহলে তারা কোথায় যাবে? এ ব্যাপারে কি ভেবেছে সরকার? শিক্ষামন্ত্রী তো শুধু বললেন, সিট খালি থাকলে পছন্দ মতো কলেজে ভর্তি হতে পারবে!’

অনলাইনে মেধা তালিকার জটিলতার কারণে ভবিষ্যতে শিক্ষা ব্যবস্থায় অনেক বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কাও করছেন অভিভাবকরা।

এ প্রসঙ্গে আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের এক সূত্র বলেন, ‘প্রথম ধাপে তালিকার বেশির ভাগ শিক্ষার্থী ভর্তি হয়ে গেলে দ্বিতীয় মেধা তালিকা প্রকাশ করা সহজ হতো। তাই সৃষ্ট এ জটিলতার কারণে এখন তৃতীয় ও চতুর্থ মেধা তালিকা প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রণালয়। আর আমরা আশা করছি, এর ফলে তৈরি জটিলতা শেষ হয়ে যাবে।’

প্রসঙ্গত, গত ২৫ জুন রাতে www.xiclassadmission.gov.bd ওয়েবসাইটে একাদশে ভর্তির প্রথম তালিকা প্রকাশের কথা ছিল। ২৭ জুন থেকে শিক্ষার্থীদের ভর্তি কার্যক্রম শুরুর কথা। কিন্তু কারিগরি জটিলতার কারণে তিন দফা পেছানোর পর ২৮ জুন গভীর রাতে ভর্তির তালিকা প্রকাশ করা হয়। কিন্তু তার পরও ছিল জটিলতা। দেখা গেছে, অনেক কলেজ শিক্ষার্থীদের পছন্দের ক্রমে নিজেদের এক নম্বরে দিয়ে আবেদন করেছে, শিক্ষার্থী এটা জানেই না। আবার ছেলেদের কলেজে মেয়েদের, মেয়েদের কলেজে ছেলেদের ফেলা হয়েছে।

এ ছাড়া প্রকাশিত তালিকার ভিত্তিতে ২৭ থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত শিক্ষার্থীকে নির্ধারিত কলেজে ভর্তি হতে হবে। যারা এই সময়ের মধ্যে ভর্তি হতে পারবে না, তারা বিলম্ব ফি দিয়ে ২৬ জুলাই পর্যন্ত ভর্তি হতে পারবে। সারা দেশে একযোগে ১ জুলাই থেকে একাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরু হওয়ার কথা ছিল।

এবার নতুন পদ্ধতিতে ১১ লাখ ৫৬ হাজার ২২৪ জন শিক্ষার্থী একাদশে ভর্তিতে আবেদন করেছে। রোববার পর্যন্ত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ৯ লাখ ২৩ হাজার ১০৫ জনের ভর্তি সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা গেছে।



« (পূর্বের সংবাদ)
(পরের সংবাদ) »